গোমাংস বিতর্কের পর পেরিয়েছে প্রায় ৫ মাস। বেশ কিছুদিন সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে থাকলেও আবার নতুন করে কাজে ফিরেছেন অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। সম্প্রতি মা ও দাদার সঙ্গে মালয়েশিয়া সফরেও গিয়েছিলেন তিনি। এসবের মাঝেই শনিবার সোশাল মিডিয়ায় নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন সায়ক। লিখলেন, ‘কতবার ভেবেছি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা। এখনও লোকে বলে বন্ধুর ঘর ভেঙেছি, গরু খেকো, হিজড়ে, আমার নাকি ছেঁড়া…।’ তবে অন্ধকার এলেও তা পেরিয়ে যে আলোর দেখা মিলবে সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বর্তমান সময়ে সোশাল মিডিয়া উপার্জনের একটা বড় মাধ্যম। তাই বহু অভিনেতাই এখন ভ্লগিং করেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সায়ক চক্রবর্তীও। দিনের বিশেষ মুহূর্ত, পরিবারের সঙ্গে খুনসুটি-ভিডিও আকারে তুলে ধরেন সোশাল মিডিয়ায়। যা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ফলোয়ার্সরা। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। আসলে বন্ধুদের নিয়ে ‘অলি পাব’-এ খেতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে মটন স্টেকের বদলে বিফ দেওয়া হয়। বিষয়টা জানতে পেরেই ক্ষেপে যান সায়ক। বেয়ারার ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেন। সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বেয়ারা গ্রেপ্তারও হন। তাতেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে। কার্যত গোটা কলকাতা সায়কের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক নাট্যব্যক্তিত্ব তথা পরিচালক। পরবর্তীতে বেয়ারার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেন সায়ক। জামিনে মুক্ত হন ওই বেয়ারা।

কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। এসবের মাঝেই সায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তাঁর প্রাক্তন বউদি সুস্মিতা। লাইভে অত্যন্ত ব্যক্তিগত কিছু তথ্য ফাঁস করেন তিনি। এরপর ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা সায়কের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। বলেন, “নিজের পুরুষত্বের প্রমাণ দিতে ৪০ মিনিট ধরে পাশবিক অত্যাচার চালায় ও আমার উপর, সেই সময়ই ছিঁড়ে যায় গোপনাঙ্গ। হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল।” এরপর থেকে বারবার নানারকম আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে সায়ককে। গায়িকা দেবলীনা নন্দীর দাম্পত্য কলহের জন্যও তাঁকেই দায়ী করেছে আমজনতা।
শনিবার এসব নিয়েই ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেন সায়ক। লেখেন, ‘অনেকবার নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা ভেবেছি। আগে নিজের কথা ভাবতাম না, বন্ধুর বিপদে ঠিক পাশে থাকতাম,কাছের বন্ধুর সব সমস্যায় পাশে থেকেছি। আমি যেই সমস্যায় পড়লাম সবাই লাথি মারতে থাকল। এখনও খারাপ মোমেন্ট আসে, লোক বলে বন্ধুর ঘর ভেঙেছি, আবার এও বলে আমি গে! গরু খেকো,বলে ছেঁড়া নাকি আমার, হিজড়ে, ছক্কা আরও কত কী। এখনো বেঁচে আছি, এরপর আর কিচ্ছু যায় আসে না, তাই খারাপ কমেন্ট করলেই কাঁচা খিস্তি দেব।’ সেই পোস্টেই সায়ক লিখেছেন, ‘মোরাল অফ দা স্টোরি ইজ…অন্ধকার আসবে কিন্তু হেরে না গিয়ে পার হলেই দেখবে আবার আলো।’ তবে শেয়ার করা ছবিতেই স্পষ্ট, এখন পরিবারের সঙ্গে ভালো আছেন সায়ক।
সর্বশেষ খবর
-
জমি ‘দখল’ তৃণমূল নেতার, ১২ বছরেও সুবিচার না পেয়ে মন্ত্রী শংকর ঘোষের দ্বারস্থ জওয়ান
-
‘ভোজিনহার হাতেই মেসিদের ইতি’, নকআউট নিয়ে বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী ঘানার সেই ওঝার
-
‘বগা বাইরে মার, পেনাল্টিতে আমরা গোল দিই না’, বাঙালির ফুটবল-আবেগ
-
সম্পর্ক থেকে বেরতেই লাগাতার হুমকি! নাবালিকা মৃত্যুতে গ্রেপ্তার প্রেমিক, লাভ জিহাদের আশঙ্কা বিধায়কের
-
সেনার হাতে ফলল সোনা! ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক এল রোয়িং বিশ্বকাপে