কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

পরিচালক যখন ডাক্তার! কঠিন সময়ে সুন্দরবনে রোগী দেখছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ডাক্তার হিসেবে ফিরলেন পরিচালক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২০, ১৮:১৬

options
link
পরিচালক যখন ডাক্তার! কঠিন সময়ে সুন্দরবনে রোগী দেখছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

সন্দীপ্তা ভঞ্জ: “সেবাই পরম ধর্ম”- এই কথাটি বোধহয় বাংলা সিনেদুনিয়ার খ্যাতনামা পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের জন্য একেবারে অক্ষরে অক্ষরে প্রযোজ্য। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন যখন আমফান-অতিমারীতে ওষ্ঠাগত, তখন এহেন পরিস্থিতিতে ‘ক্ল্যাপস্টিক-কলম’ ছেড়ে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বন্ধুত্ব করেছেন তাঁর পুরনো পেশার সঙ্গে। হাতে তুলে নিয়েছেন স্টেথোস্কোপ। আমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবন অঞ্চলে গিয়ে ক্যাম্প করে রোগী দেখছেন। পৌঁছে গিয়েছেন প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে।

Advertisement

এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে চলছে জনজীবন। বিশ্বজুড়ে একেই করোনা আবহ। উপরন্তু সেই ত্রাসের মাঝেই গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বাংলার একাংশ প্রায় তছনছ করে দিয়ে চলে গিয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফান। সেই তাণ্ডবের প্রভাবে কিন্তু এখনও ভুগছে বাংলার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষেরা। সেই মানুষগুলির কথা ভেবেই পুরনো পেশায় ফিরে আসা কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের। আসলে দীর্ঘকাল প্র্যাকটিসে না থাকলেও একজন ডাক্তারের কর্তব্যবোধ তো আর হারিয়ে যেতে পারে না! ঠিক যেমনটা শিল্পী কখনও তুলির আঁচড় ভোলেন না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘অ্যামাজন অভিযান’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবি যিনি দর্শককে উপহার দিয়েছেন, সেই পরিচালকই কিনা বাংলার মানুষের টানে, দশের স্বার্থে ডাক্তারের পেশায় ফিরেছেন। গলায় স্টেথো নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার শুরু করেছেন রোগী দেখা। খসখস করে একের পর এক প্রেসক্রিপশন লিখছেন। ইন্ডাস্ট্রির তারকাসুলভ জীবন ছেড়ে বিপদের মুহূর্তে যেভাবে মানুষের সেবা করে চলেছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, তা আবার প্রমাণ করে দিল যে সমাজে কিছু মানুষের মধ্যে এখনও বেঁচে রয়েছে মনুষ্যত্ব।

মেটেখালি বাজার, সন্দেশখালি, রায়দীঘি এবং সুন্দরবনের বেশকিছু অঞ্চলে আয়োজিত ক্যাম্পে রোগী দেখছেন পরিচালক। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। এরপর নিয়মমতো প্র্যাকটিসও করেছেন। সালটা ২০০৬, সেই তখন ফিল্মি দুনিয়ায় প্রবেশ করে ডাক্তারি পেশা থেকে সরে এসেছিলেন। আগামী রবিবার আবারও যাবেন হাসনাবাদে রোগী দেখতে।

তা দীর্ঘ এতদিন প্র্যাকটিসে না থেকে রোগী দেখতে অসুবিধে হয়নি? প্রশ্নের উত্তরে সহাস্য মুখে কমলেশ্বর জানালেন, “গত ১৪ বছরে নিয়ম করে রোগী না দেখলেও প্রেসক্রিপশন লিখে যেতে হয়েছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য। এমনকী শুটিং ইউনিট, নাটকের দল কারও কোনও অসুবিধে হলেও আমার কাছে আসতেন তাঁরা। এমনকী এখনও সেটা করতে হয়।”

[আরও পড়ুন: আমফান গেলেও দুঃসময় কাটেনি, নিঃশব্দেই বন্ধুদের নিয়ে বাসন্তীতে ত্রাণ বিলি অভিনেতা অনির্বাণের]

প্রসঙ্গত, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের অর্জুন দাশগুপ্ত, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের ড. পূর্নব্রত গুন এবং কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের নাটকের দল ‘শৈলশী’র যৌথ উদ্যোগেই প্রান্তিক মানুষগুলোর স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে পরিচালক বললেন, “ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮টির মতো ক্যাম্প হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন চিকিৎসকরা গিয়েছেন। আমি এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটায় যোগ দিয়েছিলাম। আমফান হওয়ার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই এই কাজ শুরু হয়েছে। একে করোনা, উপরন্তু সাইক্লোনের পর অনেকেরই শারীরিক অসুবিধে হচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলে, সেই ভাবনা থেকেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম এবং শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের তরফে ওষুধপত্র জোগাড় করে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। আমিও ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলাম যে, এই কঠিন সময় যেন মানুষের সেবা করতে পারি। অতঃপর যোগ দিলাম।”

একসময়ে এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ছিলেন। এরপর বহু সরকারি এবং বেসরকারি হাসাপাতালে, যেমন- উডল্যান্ডস, অরবিন্দ সেবা কেন্দ্রের মতো একাধিক জায়গায় প্র্যাকটিস চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সিনেমা এবং থিয়েটারের প্রেমের টানই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে বাধ্য করে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের যখন সেবার দরকার, আবার তিনি ফিরে এলেন পুরনো পেশার কাছে।

[আরও পড়ুন: আমফান গেলেও দুঃসময় কাটেনি, নিঃশব্দেই বন্ধুদের নিয়ে বাসন্তীতে ত্রাণ বিলি অভিনেতা অনির্বাণের]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন