Sayak Chakraborty

‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগাতে চাই না, আমি বিজেপির দালালও নই!’ গোমাংস কাণ্ডে গর্জে উঠলেন সায়ক

'সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর কোনও অভিপ্রায় আমার নেই...', গোমাংস কাণ্ডে রাজনৈতিক রং লাগানোয় FIR দায়ের করে ফের মুখ খুললেন টলিপাড়ার সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১৪:৫৬

options
link
‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগাতে চাই না, আমি বিজেপির দালালও নই!’ গোমাংস কাণ্ডে গর্জে উঠলেন সায়ক
সায়ক চক্রবর্তী, ছবি- ফেসবুক

পার্ক স্ট্রিট্রের রেস্তরাঁয় বন্ধুদের নিয়ে নৈশভোজ সারতে গিয়ে অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। অভিযোগ, পাঁঠার মাংস অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও গরুর মাংসের স্টেক পরিবেশন করা হয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই পার্কস্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন টলিপাড়ার সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার। কিন্তু ফেসবুক লাইভে এহেন ঘটনা তুলে ধরার পর থেকেই পালটা কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে সায়ককে। প্রকাশ্যে কেন বেয়াড়ার ধর্ম-পরিচয় নিয়ে কাটাছেঁড়া করলেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী? প্রশ্ন তুলেছেন নেটভুবনের একাংশ। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার সাতসকালে নতুন ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা।

Advertisement

ঘটনার পর অনেকেরই কৌতূহল, কেন পুরো প্লেটের খাবার শেষ করার পর তাঁদের হুঁশ ফিরল? কেউ বা প্রশ্ন তুলেছেন, সায়ক কি হিন্দু-মুসলিম করে সাম্প্রদায়িক বিভেদের উসকানি দিচ্ছেন? একাংশ আবার অভিনেতাকে ‘বিজেপির দালাল’ বলেও দাগিয়ে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় ফের মুখ খুলতে বাধ্য হন অভিনেতা তথা সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার। সায়কের মন্তব্য, “দাঙ্গা লাগানোর কোনও অভিপ্রায় আমার নেই। আমার মুসলিম বন্ধুও রয়েছে। রিয়াজের বাড়িতে আমি ইদে খেতেও গিয়েছি। আমার কন্টেন্টেও সবসময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়। আমি বরাবর বিশ্বাস করি, বন্ধুত্বের পথে ধর্ম অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আপনারা যাঁরা আমাকে কটাক্ষ করছেন, তাঁরা আমার সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখতে পারেন। সেখানে হঠাৎ করে আমাকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে! এর আগেও আমি মুখ্যমন্ত্রীর অনেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি বলে আমাকে ‘চটিচাটা’ বলা হয়েছে। কিন্তু আমি কখনও প্রতিবাদ করিনি। রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু যেটা আমি খাই না, সেটা যখন আমার অজান্তে আমাকে পরিবেশন করা হল, তার প্রতিবাদ যদি আজ না করি, তাহলে আরও অনেক মানুষের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটবে।” এখানেই শেষ নয়! শুক্রবারের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? নিন্দুকদের জন্য আরেকপ্রস্থ ভালো করে আওড়ে দিলেন অভিনেতা।

Advertisement

সায়কের কথায়, “উনি আরেকটা মাটন স্টেক এনে আমাদের টেবিলে রাখাতে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি। অনেকেই বলছেন পুরো প্লেট শেষ করে আমরা প্রতিবাদ করেছি, ব্যাপারটা সেটা নয়। আমি এবং অনন্যা শুধু চেখে দেখছিলাম। এর মাঝেই উনি আমাদের টেবিলে মাটনের পদ রেখে যান। অথচ আমরা একটাই স্টেক অর্ডার করেছিলাম। তখনই ওই বেয়াড়াকে জিজ্ঞেস করাতে উনি বলেন, আমরা নাকি ২টো স্টেকের পদ অর্ডার করেছি। একটা মাটন আরেকটা বিফ! সেসময়ে আমি প্রতিবাদ করি। অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।” পাশাপাশি ওই বেয়াড়ার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সায়ক বলেন, “উনি যদি নিজেকে হিন্দু বলে দাবি করতেন, তাহলেও আমি ওই একই প্রশ্ন করতাম যে, আপনাকে গরুর মাংস খাওয়ালে আপনি খাবেন? রেস্তরাঁর ব্যস্ত সময়ে হয়তো অনেক কাজের প্রেশার থাকে। কিন্তু প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে কেউ এমন বিপাকে পড়তে পারেন।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.