Asrani Satish Shah's demise

অভিশপ্ত অক্টোবর! একসপ্তাহে বলিউডের দুই ‘কমেডি কিং’ সতীশ-আসরানিকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন নেটভুবন

'স্বর্গলোকের কৌতুক জলসায় সতীশ-আসরানিরা', চোখে জল অনুরাগীদের!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ১৮:০৯

options
link
অভিশপ্ত অক্টোবর! একসপ্তাহে বলিউডের দুই ‘কমেডি কিং’ সতীশ-আসরানিকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন নেটভুবন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন অভিশপ্ত অক্টোবর! বলিউডের আকাশে কালমেঘ যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। ২০ অক্টোবর, সোমবার কালীপুজোর রাতে গোবর্ধন আসরানির মৃত্যুর খবর নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। ঘণ্টাখানেক আগে যে মানুষটি ‘হ্যাপি দিওয়ালি’র শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর খবর কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনি বিটাউন। তার ঠিক দিন পাঁচেকের ব্যবধানে ২৫ অক্টোবর, শনিবার ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পরলোকের উদ্দেশে রওনা হলেন সতীশ শাহ। একসপ্তাহের মধ্যে হিন্দি সিনেদুনিয়ার দুই ‘কমেডি কিং’ সতীশ-আসরানিকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন অনুরাগীকুল। ‘সারাভাই’য়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই দুই কৌতুক অভিনেতার স্মৃতিচারণায় ডুব দিয়েছে নেটভুবন।

Advertisement

সতীশ-আসরানির কৌতুক চরিত্রের স্মৃতি রোমন্থন করে শোকপ্রকাশের ভিড় নেটদুনিয়ায়। এযাবৎকাল পর্দায় যাঁদের উপস্থিতি দর্শকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, সেই অভিনেতাদের প্রয়াণে চোখের জল বাঁধ মানছে না অনুরাগীদের। কারও আক্ষেপ, ‘বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা আসরানি-সতীশদের মতো ‘কমিক টাইমিং’য়ে দক্ষ নন!’ কেউ বা প্রয়াত দুই তারকাকে মিলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘হয়তো স্বর্গলোকে কৌতুক জলসা মাতাচ্ছেন সতীশ-আসরানিরা।’ কারও বা মন্তব্য, ‘বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ।’ কেউ বা সতীশ-আসরানির প্রয়াণে পঁচিশে সালের অক্টোবর মাসকে ‘অভিশপ্ত’ বলে দুঃখপ্রকাশ করলেন। এহেন নানা কমেন্টে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন।

Advertisement

Advertisement

আসরানি এবং সতীশ শাহের বয়সের ফারাক দশ বছর হলেও অভিনয়গুনে খুব স্বল্পসময়েই দর্শকমহলের প্রিয় উঠেছিলেন এই দুই অভিনেতা। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সিনেদুনিয়ায় রাজত্ব করা গোবর্ধন আসরানি তাঁর কেরিয়ারে সাড়ে তিনশোটিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘মেরে আপনে’, ‘কোশিস’, ‘বাওয়ারচি’, ‘পরিচয়’, ‘অভিমান’, ‘চুপকে চুপকে’ ‘ছোটি সি বাত’, ‘রাফু চক্কর’-এর মতো আইকনিক সিনেমায় দর্শকের মন জয় করেছিলেন আসরানি। মূল চরিত্রে অভিনয়ে প্রশংসা কুড়নোর পাশাপাশি পার্শ্বচরিত্রেও বাজিমাত করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর ‘কমিক টাইমিং’ অভিনয় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যকরণ-সম। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে আসরানি যে একাধিক ‘সিনেমার মেরুদণ্ড’ হয়ে উঠেছিলেন, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না!

অন্যদিকে বিগত চার দশকের অভিনয় কেরিয়ারে সতীশ শাহ যেমন টেলিদর্শকমহলে ‘কাছের মানুষ’ হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনই বিভিন্ন সময়ে সিনেপর্দায় শাহরুখ-সলমনের মতো তাবড় তারকাদের মাঝেও নিজস্ব অভিনয়গুনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৮৩ সালে কুন্দন শাহের স্যাটায়ার জঁরের ছবি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ সিনেমায় অভিনয় করে সাড়া ফেলেন। পরবর্তীতে ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কাল হো না হো’, ‘কভি হাঁ কভি না’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘ওম শান্তি ওম’-এর মতো একাধিক সুপারহিট সিনেমায় নজর কেড়েছেন। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত ইন্দ্রবদন সারাভাইয়ের চরিত্রটি ভারতীয় টেলিদুনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক কমিক চরিত্র হিসেবেই রয়ে যাবে। শনিবার বিকেলে অভিনেতার প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া বলিউডে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.