Alpha Review

যে চুল বাঁধে, সে অ্যাকশনের মারপ্যাঁচও জানে, ববি-অনিলের সঙ্গে যোগ্যসঙ্গত ‘আলফা’ আলিয়ার

বলিউড হোক কিংবা দক্ষিণী সিনেদুনিয়া অ্যাকশন সিনেমায় 'হিরোগিরি'র দায়িত্ব শুধু অভিনেতাদের উপরই সঁপে দেওয়া হয়। ভারতীয় দর্শকমহলও সেই ধারায় অভ্যস্ত। তবে বলিউডের পর্দায় এই প্রথমবার নারীদের হাতে সাবমেশিন গান, গ্রেনেড দেখে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিজ্ঞাপনী স্লোগান ধার করে বলতে হয় 'Why should boys have all the fun?'

Advertisement
সন্দীপ্তা ভঞ্জ
সন্দীপ্তা ভঞ্জ

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১৮:১৭

options
link
যে চুল বাঁধে, সে অ্যাকশনের মারপ্যাঁচও জানে, ববি-অনিলের সঙ্গে যোগ্যসঙ্গত ‘আলফা’ আলিয়ার
কেমন হল আলিয়া ভাট, ববি দেওলের 'আলফা'? পড়ুন রিভিউ

‘রাজি’, ‘নাম শাবানা’, ‘খুফিয়া’র মতো নারীকেন্দ্রিক স্পাই থ্রিলার ভারতীয় সিনেদুনিয়ায় আগেও হয়েছে। তবে যশরাজ ফিল্মস-এর ‘আলফা’ যেন সেই ব্রহ্মাণ্ডে এক উজ্জ্বল তারকার মতো সংযোজিত হল। কারণ এদেশে এহেন অ্যাকশন প্যাকড নারীকেন্দ্রিক ছবির উদাহরণ প্রায় নেই বললেই চলে। বলিউড হোক কিংবা দক্ষিণী সিনেদুনিয়া অ্যাকশন সিনেমায় ‘হিরোগিরি’র দায়িত্ব শুধু অভিনেতাদের উপরই সঁপে দেওয়া হয়। ভারতীয় দর্শকমহলও সেই ধারায় অভ্যস্ত। তবে বলিউডের পর্দায় এই প্রথমবার নারীদের হাতে সাবমেশিন গান, গ্রেনেড দেখে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিজ্ঞাপনী স্লোগান ধার করে বলতে হয় ‘Why should boys have all the fun?’  নরম হাতে অস্ত্র দেখতে অনাভ্যস্তরা অবশ্য ভ্রু কোঁচকাতে পারেন! 

Advertisement

দুই মুখ্য চরিত্রের নাম ‘সীতা’, ‘দূর্গা’ রেখে অসুরনিধনের এক অন্য গল্প বুনেছেন নির্মাতারা। ‘সারথি’ হিসেবে পুরুষ চরিত্রগুলির ব্যবহার প্রশংসনীয়।

সিনেমার বিষয়বস্তুর সঙ্গে নয়ের দশকের ফরাসি ছবি ‘লা ফেম নিকিতা’র সাদৃশ্য থাকলেও এই গল্প কিন্তু অনেকটাই আলাদা। লুক বেসনের ছবিতে নিকিতা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সিক্রেট এজেন্ট হয়েছিল। কিন্তু এই সিনেমার ‘সীতা’ ওরফে আলিয়ার জন্মই হয় ‘আলফা’ মিশনের জন্য। সেই গল্প অবশ্য এই পরিসরে না ভাঙাই ভালো। তবে অ্যাকশন সিনেদুনিয়ার একচেটিয়া পুরুষতান্ত্রিক দাপটকে রীতিমতো ভেঙে চুরমার দিল যশরাজের ‘আলফা ওম্যান’! দুই মুখ্য চরিত্রের নাম ‘সীতা’, ‘দূর্গা’ রেখে অসুরনিধনের এক অন্য গল্প বুনেছেন নির্মাতারা। ‘সারথি’ হিসেবে পুরুষ চরিত্রগুলির ব্যবহার প্রশংসনীয়। সেসব চমক না হয় বড়পর্দাতেই দেখুন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
‘আলফা’য় আলিয়া ভাট, শর্বরী ওয়াঘ।

স্টোরি টেলিংয়ে পোক্ত ‘আলফা’। যার নেপথ্যের কারিগর অবশ্যই পরিচালক শিব রাওয়ালি, চিত্রনাট্যকার সৌমিল শুক্লা এবং শ্রীধর রাঘবন। যাদের যোগ্যসঙ্গতে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ‘আলফা’ মেদবর্জিত।

ছবির এক দৃশ্যে বন্দুকধারী আলিয়াকে বলতে শোনা যায়, “সীতা আজ একাই লঙ্কা দহন করতে এসেছে।” আরেক দৃশ্যে সিক্রেট এজেন্টের ‘মিশন’ শুরুর আগে অভিনেত্রীর মুখে ‘অগ্নিপরীক্ষা’র কথা শোনা যায়। আর এহেন হাইভোল্টেজ সংলাপের সঙ্গে মারকাটারি অ্যাকশনেই নারীদের জয়গান গেয়েছে ‘আলফা’। যশরাজের ‘পুরুষতান্ত্রিক’ স্পাই ইউনিভার্সের সঙ্গে তুলনা টেনে ফিল্মি ভাষায় বলা যেতে পারে- ‘হামারি ছোড়িয়া ছোড়ো সে কম হ্যায় কে?’ স্টোরি টেলিংয়ের প্রেক্ষিতে যশরাজের বাকি গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘পাঠান’, ‘ওয়ার’ কিংবা ‘টাইগার’-এর তুলনায় পোক্ত ‘আলফা’। যার নেপথ্যের কারিগর অবশ্যই পরিচালক শিব রাওয়ালি, চিত্রনাট্যকার সৌমিল শুক্লা এবং শ্রীধর রাঘবন। যাদের যোগ্যসঙ্গতে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ‘আলফা’ মেদবর্জিত। দেখতে বসে কোথাও একঘেয়ে মনে হয় না। গল্পে পারিবারিক আবেগের ছোঁয়া থাকলেও সেটা স্টোরি লাইনকে ছাপিয়ে যায়নি। আর এটাই ‘আলফা’র ইউএসপি। বেশ কিছু রগরগে সংলাপের জন্য লেখক ঈশিতা মৈত্রর হাততালি প্রাপ্য। আবেগ, অ্যাকশন, মুচমুচে সংলাপ, পোক্ত স্টোরি টেলিংয়ে ‘আলফা’ পয়সা উসুল-ই বটে!

Advertisement

ববি দেওল, অনিল কাপুরের মতো ‘সিনিয়র’ অভিনেতারা বহু আগেই নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাই ‘আলফা’ পরিসরে তাঁদের পারফরম্যান্স নিয়ে আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না। দুই চরিত্রই ছবির সারপ্রাইজ এলিমেন্ট। বলিউডে স্বল্প দৈর্ঘ্যের কেরিয়ারের নীরিখে শর্বরী ওয়াঘ একদম যথাযথ। ‘আলফা’র মহাচমক ‘কবীর’ হৃত্বিক রোশন। ক্যামিও চরিত্রে প্রায় ঈশ্বরের দূতের মতোই অবতরণ তাঁর।

এক ‘আলফা’ মিশনকে কেন্দ্র করে জন্ম হয় সীতার। কর্ণেল ‘ফতেহ’র ছলচাতুড়িতে যে মিশনের গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই নয়! কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সীতা নিজেই একদিন নিজের ভাগ্যনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গল্পটা কীরকম? এক ‘আলফা’ মিশনকে কেন্দ্র করে জন্ম হয় সীতার। কর্ণেল ‘ফতেহ’র ছলচাতুড়িতে যে মিশনের গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই নয়! কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সীতা নিজেই একদিন নিজের ভাগ্যনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকিটা না হয় বড়পর্দার জন্যেই তোলা থাক। তবে শেষপাতে কিছু কথা না বললেই নয়। সেটা হল- করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ এখন অনেকটাই পরিণত। দ্বিতীয় ছবি ‘হাইওয়ে’ থেকেই অবশ্য নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, আবার মেঘনা গুলজারের ‘রাজি’তেও বধূবেশে সিক্রেট এজেন্টের ভূমিকায় ধরা দিয়েছেন, তবে এবার প্রতিটা অ্যাকশন দৃশ্যে আলিয়া ভাট যেন ক্ষুধার্ত হায়না! যার সঙ্গে যশরাজের বাকি গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অ্য়াকশন অবতারে নজর কাড়া শাহরুখ-সলমনের তুলনা টানাই যায়! যার নেপথ্যে অবশ্য সিনেম্যাটোগ্রাফার রুবাইসের দক্ষ লো অ্যাঙ্গেল শট। কারণ অ্যাকশন দৃশ্যগুলিতে আলিয়াকে দীর্ঘাঙ্গী হিসেবে উপস্থাপনের জন্যে সিনেমাজুড়ে এহেন শটের আধিক্য রয়েছে। হলিউড ছবি ‘হার্ট অফ স্টোন’ দিয়েই ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ অবতারে হাতেখড়ি করেছিলেন, এবার ‘আলফা’য় পরিণত অ্যাকশন হিরোইন তিনি। প্রতিটা দৃশ্যের জন্য কড়া হোমওয়ার্ক করেছেন, সেটা স্পষ্ট। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.