প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখার জন্য কী-ই না করেন অনুরাগীরা! কখনও তাঁর স্পর্শ পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, আবার কখনও বা তারকাদের সঙ্গে একফ্রেমে নিজস্ব নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ভক্তরা। কেউ কেউ তো আবার মাইলের পর মাইল হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে প্রিয় তারকার বাড়ির সামনে হত্যে দেন! এবার অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) জন্য মালদহের এক ‘জাবরা ফ্যান’ যা করলেন, তা চর্চার শিরোনামে।
আরও পড়ুন:
রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গণেশ। গন্তব্য একটাই- মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে অরিজিতের বাড়ি। সাইকেলে লাগানো ভারতের জাতীয় পতাকা আর সামনে হাতে লেখা পোস্টার। সেখানে উল্লেখ- ‘এক সফর, এক স্বপ্ন, এক মুলাকাত- ২০০ কিমি সাইকেল যাত্রা। অরিজিৎ সিং স্যরের…’
মালদহের বাসিন্দা গণেশ শেখ। সাইকেলের প্যাডেলে ভর করেই স্বপ্ন ছুঁতে চায় সেই যুবক। বয়স মাত্র বাইশ। মালদহের বামনগোলা থানার জামতলা এলাকায় বাড়ি। যাকে অনেকেই ‘বালুরঘাট পাকুয়া’ নামে চেনেন। বাবা বিজয় শেখ, মা মৌসুমী শেখের সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় গণেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত হলেও তাঁর স্বপ্নটা অনেক বড়। গণেশের একটাই চাওয়া- একটিবারের জন্য বিশ্ববন্দিত সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে একটা ছবি তোলা। সেই স্বপ্ন নিয়েই রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গণেশ। গন্তব্য একটাই- মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে অরিজিতের বাড়ি। সাইকেলে লাগানো ভারতের জাতীয় পতাকা আর সামনে হাতে লেখা পোস্টার। তাতে ইংরেজি অক্ষরে লেখা- ‘এক সফর, এক স্বপ্ন, এক মুলাকাত- ২০০ কিমি সাইকেল যাত্রা। অরিজিৎ সিং স্যরের সঙ্গে দেখা করার জন্য।’ সোমবার দুপুর ১১টা ৩২ মিনিট নাগাদ ফরাক্কার বিডিও দপ্তরের সামনে পৌঁছন গণেশ। ফরাক্কা থেকে জিয়াগঞ্জের দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ৮৯ কিমি। কিন্তু ঘুরপথে ২০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে অরিজিতের বাড়ি পৌঁছতে হবে গণেশকে।

প্রশ্ন করতেই অকপট গণেশ বলেন, “সেই শৈশব থেকে অরিজিৎ সিংয়ের গান শুনি, খুব ভালো লাগে। তাই ওঁকে দেখার খুব শখ। সেকারণেই এত দূরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি।” দেখা না পেলে কী হবে? উত্তরে অরিজিতের ‘জাবরা ফ্যান’ বলেন, “মনে সাহস সঞ্চার করে আর একবুক স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছি।” জানা গিয়েছে, গণেশ এর আগেও দ্বিচক্রী যানে সেলিব্রিটিদের সঙ্গে দেখা করেছেন। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গেও দেখা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। সেক্ষেত্রেও সঙ্গী হয়েছিল সাইকেল। এবার তার গন্তব্য ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ অরিজিৎ সিং। গণেশ জানান, তাঁর এক বন্ধু ওড়িশা থেকে ইতিমধ্যেই জিয়াগঞ্জে পৌঁছে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে হাতে সময় কম। অরিজিৎ মঙ্গলবার ভোরে মুম্বই রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাই সোমবার রাতের মধ্যে কোনওমতে জিয়াগঞ্জ পৌঁছতেই হবে গণেশকে। “সকাল থেকে অনেকদূর চালিয়ে আসছি, পা খুব ব্যথা করছে। রোদের মধ্যে একটানা সাইকেল চালানো ভীষণ কষ্টের। তাও চেষ্টা করব যাতে আজই বিকেলে পৌঁছে যাই”, জানালেন ক্লান্ত গণেশ। অরিজিৎ সিংয়ের এহেন ‘জাবরা ফ্যান’-এর এই অদম্য জেদ এখন মুর্শিদাবাদ থেকে মালদহ সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাবা পরিযায়ী শ্রমিক, বহু কষ্টে পড়াশোনা, নিটে সফল আতাউলের স্বপ্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া
-
ফি বৃদ্ধি, হয় না ক্লাস! পাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালাম, পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মাঝেই গুলি সেনা আধিকারিকের
-
লক্ষ্য পাহাড়ের উন্নয়ন, এবার কলকাতায় শমীকের সঙ্গে বৈঠকে গোর্খা নেতা গুরুং
-
প্রদেশ কংগ্রেসে আরও কোনঠাসা অধীর! বাতিল রবিবারের যোগদান, তৃণমূলীদের নিয়ে আপত্তি এআইসিসির
-
সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন জয়শংকর