পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকেই বলিউডে বা ভারতীয় বিনোদুনিয়ায় পাকিস্তানী শিল্পীদের নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল সিনে সংগঠন। তবে সুপ্রিম রায়ে শাপমোচন ঘটলেও তার পর আর সেভাবে কোনও পাক শিল্পীকে ভারতীয় সিনেজগতে কাজ করতে দেখা যায়নি। একসময়ে এদেশের ছবিতে প্লেব্যাকের পাশাপাশি চুটিয়ে কনসার্টও করতেন আতিফ আসলাম, রাহাত ফতেহ আলি খানের মতো পাক শিল্পীরা। তবে সেই রাস্তাও এখন বন্ধ। বরং সিংহভাগ পাকিস্তানি শিল্পীরা কনসার্টের জন্য এখন ভিড় জমান ‘বদলের’ বাংলাদেশে কিংবা মার্কিন মুলুকে। ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ায় কি কেরিয়ারে চাপের মুখে পড়েছেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এহেন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আতিফ আসলাম (Atif Aslam) যে জবাব ছুড়লেন, তা নিয়ে হইচই!
আরও পড়ুন:
“ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় ১০ বছর কেটে গিয়েছে। ওটা ছিল ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত। ওরা পাকিস্তানের শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন পাকিস্তানে…”
একসময়ে ‘ওহ লমহে’, ‘পহেলি নজর মে’, ‘তু জানে না’, ‘দিল দিয়া গল্লা’র মতো বলিউডকে একাধিক সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন আতিফ আসলাম। কিন্তু বিগত একযুগ ধরে ভারতীয় সিনেইন্ডাস্ট্রির আর কোনও সিনেমার গানে কণ্ঠ দেননি পাক শিল্পী। তবে তাতে ভারতে আতিফের গুণমুগ্ধের সংখ্যা বিন্দুমাত্র কমেনি। বলা ভালো, আজও বলিউড ছবিতে পাক শিল্পীর গান মিস করেন তাঁর অগণিত অনুরাগীরা। এপ্রসঙ্গে আতিফ আসলামের কী মত? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গায়ক জানান, “ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় ১০ বছর কেটে গিয়েছে। ওটা ছিল ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত। ওরা পাকিস্তানের শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত দশ বছরে আমি ভারতীয় কোনও ছবিতে গান না করলেও ভক্তরা আজও ভিপিএন-এর মাধ্যমে আমার গান শোনেন। এমনকী সিডিতে গান কপি করে অন্যদের দেয়। তবে আমি যে পাইরেসি বা অবৈধ অনুলিপি তৈরিকে সমর্থন করি, সেটা নয়, কিন্তু আমার গান যেখানে পৌঁছনোর, সেখানে ঠিকই পৌঁছবে।” এরপরই আতিফ জানান, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার যাঁতাকলে পড়ে কীভাবে তাঁর কেরিয়ারে ‘পোয়া বারো’ হয়েছে?

“ভারতীয় ভক্তদের উদ্দেশে বলব, আপনারা কেউ খারাপ বোধ করবেন না। আমি আপনাদের সবসময়ে খুব মিস করি। কিন্তু ভারতে কাজ করা…”
পাক শিল্পী বলেন, “প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা যদি না আসত, তবে হয়তো আমি নিজের মতো করে গান তৈরি করতে পারতাম না। তাই এজন্য আমি ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানাই। যারা আমাকে নিষিদ্ধ করেছে তাদের ধন্যবাদ। তা না হলে আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারতাম না।” আর ভারতীয় অনুরাগীদের মিস করেন না? এপ্রসঙ্গে আতিফের মন্তব্য, “ভারতীয় ভক্তদের উদ্দেশে বলব, আপনারা কেউ খারাপ বোধ করবেন না। আমি আপনাদের সবসময়ে খুব মিস করি। কিন্তু ভারতে কাজ করার বিষয়টা একেবারেই মিস করি না। তবে আমি নিশ্চিত যে, আপনারা যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন, তাহলে আমার গান কোথায় খুঁজে পাবেন, সেই ঠিকানাটাও আপনাদের জানা।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অগ্রিম ৫ লক্ষ টাকা দিয়েও মেলেনি ফ্ল্যাট! জনতার দরবারে লেকটাউনের মহিলা
-
কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস, সোনার মেয়ে অস্মিতাকে জমি, আর্থিক পুরস্কার দিল ত্রিপুরা সরকার
-
স্বাধীনতা দিবসে লোকভবনে আমন্ত্রিত ৪ হাজার, অনুষ্ঠানে অন্য ৫ রাজ্যও, নবান্নের গুচ্ছ গাইডলাইন
-
সুজিতের অ্যাকাউন্টে নিয়োগ দুর্নীতির ৮ কোটিরও বেশি টাকা, হাই কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির
-
সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে মোবাইল ভাঙে জঙ্গি রানা! নোটবুক হাতড়ে খোঁজ মিলল ৬ পাক চরের