সরস্বতী পুজোর দিন মুক্তি পাচ্ছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘বিজয়নগরের হীরে‘। তার প্রাক্কালে ‘ইন্ডাস্ট্রি’র সঙ্গে আড্ডায় বিদিশা চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
পুজোর সময় ছবির প্রচারে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি হয়েছিল, তার থেকে কি ‘কাকাবাবু’র প্রচারের সময়টা অনেকটা রিল্যাক্সড?
– আমি তো ‘দেবী চৌধুরানী’র প্রচার প্রথমে করতে চাইনি। এটা দেবী চৌধুরানীর গল্প। কিন্তু সিনেমার সঙ্গে একটা ব্যবসায়িক দিক জড়িয়ে থাকে। প্রযোজকরাও নতুন। এদিকে পাশাপাশি দুটো বড় ছবি। তখন মনে হয়েছিল শ্রাবন্তীর পাশাপাশি আমারও সাপোর্ট করা উচিত। তাই ওই লেভেলের প্রচারটা করেছিলাম টু সাপোর্ট দ্য প্রোডিউসার্স। তবে হ্যাঁ, ‘কাকাবাবু’র প্রচারটা খুব এনজয় করছি। গতকাল একটা স্কুলে গিয়ে আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল। ‘অমরসঙ্গী’র একটা লাইন বাজানোতে যেভাবে সাড়ে তিন হাজার বাচ্চা একসঙ্গে হইহই করে উঠল, ভাবা যায় না। ওদের ভালোবাসার মধ্যে তো কোনও ভেজাল নেই, খুব পিওর।
আরও পড়ুন:
আপনার কি মনে হয় এখনকার বাচ্চারা ‘কাকাবাবু’র গল্প পড়ে, না কি প্রসেনজিতের জন্য ‘বিজয়নগরের হীরে’ দেখতে যাবে?
– হয়তো অনেক বাচ্চা আছে যারা ‘কাকাবাবু’পড়েনি, কিন্তু বাঙালি পরিবারে ‘কাকাবাবু’ পড়েনি এমন কম আছে। হয় বাবা-মা পড়েছে, নয় দাদু-দিদা পড়েছে। তারা নিয়ে যাবে বাচ্চাদের এই ছবি দেখাতে, এটা আমার বিশ্বাস।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পর চন্দ্রাশিস রায় প্রথমবার ‘কাকাবাবু’ পরিচালনা করলেন। এই কিশোর সাহিত্য নিয়ে ছবি করার দুই পরিচালকের অ্যাপ্রোচ কতটা আলাদা?
– তার জন্য ছবিটা দেখতে হবে। তবে আমার মনে হয়, সৃজিত অনেক বেশি অ্যাডভেঞ্চারে ফোকাস করেছে। সৃজিতের ‘কাকাবাবু’ লার্জার দ্যান লাইফ আর চন্দ্রাশিসের অ্যাপ্রোচ অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।
আপনার প্রথম ছবি ধরলে এটা বোধহয় ৫৮ বছর হল কেরিয়ারে। অনেকটা লম্বা সময়…
– না না… অত না। তবে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ধরলে তাই না হলেও ৪৫ বছর!
“জীবনে আমি কোনওদিন কারও সঙ্গে এমন কিছু করিনি যাতে তার পেটে লাথি পড়তে পারে।”
সেটাও তো কম নয়। এতগুলো বছর টানা কাজ করে গিয়েছেন। তিনশোর উপর ছবি হয়ে গিয়েছে। নিজেকে ভালো না বাসলে বা স্বার্থপর না হলে কিন্তু এটা করা যায় না!
– আমি বারবার বলেছি, একটা অভিনেতা যখন তৈরি হয় তখন সে একা হয় না, অনেক মানুষের যোগদান থাকে। আর সেই মানুষগুলো যখন বুঝতে পারে এই অভিনেতার সাফল্যের উপর ইন্ডাস্ট্রি নির্ভর করছে তখন একটা ব্র্যান্ড তৈরি হয়। আর ব্র্যান্ড তৈরি হলে চাপটা বাড়ে। ব্র্যান্ডটা আমি বাঁচিয়ে রাখব কী করে কিংবা এই ব্র্যান্ডটা আমি কতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারব! স্বার্থপরতার থেকেও বলব, এটা একটা চব্বিশ ঘণ্টার লড়াই। ঘুমিয়ে থাকলেও লড়াইটা চলে। নাইটমেয়ার আমি বলব।

নাইটমেয়ার!
– হ্যাঁ, ভয়ংকর নাইটমেয়ার। ‘অটোগ্রাফ’ দেখলে বোঝা যায়, একজন সুপারস্টার অভিনেতার সাফল্যের মডেলের অন্তঃস্থলে কাজ করে হারানোর ভয়। একটা ছবি চলল কী চলল না, সেটা ভয় নয়। শাহরুখের কিছু এসে যায় না, ফ্লপ করলে, কিন্তু কামব্যাক করল তো রাজার মতো। আমাদের স্ট্রাগলটা হল রিইনভেন্ট করতে পারলাম কি না! আর হ্যাঁ, নিজেকে ভালোবাসতেই হবে।
এই যে নিজের প্রতি ভালোবাসা, এতে অনেক কিছু হারাতে হয়!
– দ্যাখো, হারানো বলতে যেটা হয়, কাজের প্রতি কমিটমেন্টের জন্য মনে হতে পারে, এই লোকটা সেলফ সেন্টার্ড। বন্ধুরা ভুল বোঝে। মনে হতে পারে সোশ্যাল না… অনেক বন্ধু হারিয়েছি। অনেকে ভুল বুঝেছে। আমাদের কমিটমেন্টটা আমাদের হাতে নেই।
“মিশুককে আমি লঞ্চ করব না।… লেট হিম ফাইট হিজ ওন ব্যাটল।”
এই এতদিন ধরে কাজ করে যাওয়ার কথাই বলছি, এই লড়াইটা লড়তে গেলেও তো স্বার্থপর হতে হয়।
– আমি ভাগ্যবান যে আমার চল্লিশ বছরের উপরে কাজ করা হয়ে গিয়েছে। আমার থার্ড জেনারেশনের সঙ্গেও নামটা কোথাও আসে। এইখানে আমি সৌমিত্রবাবু, অমিতাভ বচ্চনের ফলোয়ার, অমি চেষ্টা করব আমার মতো করে ব্র্যান্ডটা রেখে দেওয়ার, আমার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।
নিজের ব্র্যান্ড বাঁচিয়ে রাখায় আপনি খুব লোভী?
– অ্যাবসোলিউটলি! একটা ভালো চরিত্রর জন্য আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারি। কোনও হ্যাং-আপস্ রাখব না। যদি জানি এই চরিত্রটা আমি পাই সেটা আমাকে আরও দশ বছর বাঁচিয়ে দেবে।
এই টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় কতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন?
– অ্যাট এনি এক্সটেন্ট। তবে নিষ্ঠুরতা কথাটা ঠিক নয়। একটা কথা আমি লিখিত বলতে পারি। এবং সেটাই আমার জীবনের স্ট্রেন্থ। কারণ আমি মিথ্যে কথা বলি না। আমার জীবনে আমি কোনওদিন কারও সঙ্গে এমন কিছু করিনি যাতে তার পেটে লাথি পড়তে পারে। এটা আমার স্ট্রেন্থ। আমি মিথ্যে কথা বলিনি, কারও থেকে কোনও অনৈতিক অ্যাডভান্টেজ নিইনি। আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমাকে উত্তর দিতে হয় না।

মিশুকের ছবির শুটিং শুরু ফেব্রুয়ারিতে?
– না না, এইরকম কোনও গল্প নেই। যে যা ইচ্ছে বলতে পারে। মিশুককে আমি লঞ্চ করব না। ও ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে অভিনয়ে আসতে চেয়েছে। অভিনেতা হিসাবে নিজেকে তৈরি করছে। মুম্বইয়ে অতুল মোঙ্গিয়ার কাছে ক্লাস নিচ্ছে। এখানেও সুদীপ্তার কাছে যায়। ওকে নিয়ে লোকে আলোচনা করছে। এখানেও প্রযোজকরা ওর কথা ভাবছে। বাট লেট হিম ফাইট হিজ ওন ব্যাটল। বাবা হিসাবে যেটুকু গাইড করার করছি। কারণ আমাদের থেকে এখন সময় অনেক পালটে গিয়েছে। অভিনেতা হিসাবে এখন ওকে গ্রো করতে হবে। ওকে বলেছি ভিতটাকে শক্ত করতে। আর ওর মধ্যে একটা ‘স্যোয়াগ’ আছে। কিন্তু আমি অমুকের ছেলে সেটা আমরা একদম এন্টারটেন করিনি। যখন মুম্বই পাঠাই তখন ও অটো রিকশাতে যাতায়াত করে। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে অডিশন দিতে বলি।
“কীসের লিগ্যাসি! যেদিন ভাবব তিনশোর উপর ছবি করে ফেলেছি সেদিন সব শেষ…”
আপনার সঙ্গে আপনার ছেলের তুলনা আসবেই। এটার জন্য মিশুক কতটা প্রস্তুত? আপনি কতটা সাহায্য করছেন?
– হ্যাঁ, তুলনা আসবেই। এটা ওকে হ্যান্ডল করতে হবে। আমি ওকে একটা গল্প শুধু বলেছি যে, আমার কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ বছর বিশ্বজিতের নামটা আমাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। বাবার সঙ্গে চেহারার মিল ছিল। তাই দিনের শেষে বিশ্বজিতের মতো– এটাই বলত সবাই। সময় লেগেছে এই ছায়া থেকে বেরতে। ওকে বলেছি, ‘আমার সঙ্গে তোমার তুলনা আসবেই, কারণ তোমাকে দেখতেও আমার মতো।’ সময় নিয়ে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে।
আপনার যে বিপুল কাজ বা লিগ্যাসি তা সে আপনার ছেলেই হোক বা অন্য অভিনেতা পেরিয়ে যেতে পারবে না, বা পারা মুশকিল– এটা ভাবলে তৃপ্তি হয়?
– কীসের লিগ্যাসি! এই লিগ্যাসি শব্দটা যখনই লিখবে লোকে বলবে ওঁর কীসের লিগ্যাসি! আর যেদিন ভাবব তিনশোর উপর ছবি করে ফেলেছি সেদিন সব শেষ। আমি আজকে জন্ম নিয়েছি। আমাকে আজকে কাজ করতে হবে। আর আমার ছেলে হোক বা সন্তানসম যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে তাদের জন্য সবসময়ই চাইব সুস্থ পরিবেশ তৈরি হোক কাজের। তারা আবার সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জাস্ট লাইক এনি আদার বিজনেস।
কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে সেই সুস্থ পরিবেশ নেই। গত দু-বছর ধরে যেটা চলছে…
– হ্যাঁ, হেলদি পরিবেশ নয়। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে আমরা অনেক বেশি কথা বলছি…

অনির্বাণ ভট্টাচার্যর মতো অভিনেতা কাজ করতে পারছেন না…
– যে কথাগুলো হয়তো ঘরের মধ্যে মিটে যেত, সেটাকে আমরা বাইরে এক্সপোজ করছি। যখন একটা কর্পোরেট মিটিং হয় পরমুহূর্তেই কি সবাই জেনে যায়?
একটা জিনিস বলুন, এই যে কথা হচ্ছে বলে সবাই জানতে পারছে কিন্তু এইভাবে অভিনেতা বা পরিচালক ব্যান কি আগে হয়েছে? আপনি যখন গোড়ার দিকে কাজ করছেন সেই সময়ে?
– আমার সত্যিই মনে পড়ছে না, এর আগে কোনও অ্যাক্টর বা কেউ ব্যান হয়েছে এমন কোনও ঘটনা! একবারই করেছিলাম যখন জয়েন্ট ভেঞ্চার নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। আমাদের এখানে জয়েন্ট ভেঞ্চার কিছু মানুষ করছিলেন। যেখানে আমাদের আর্টিস্ট এবং বিশেষ করে টেকনিশিয়ান না নিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে ছবি করতেন। আর এখানে রিলিজ করতেন। তখন প্রতিবাদ করেছিলাম। বলেছিলাম, আমাদের এখানকার পঞ্চাশ ভাগ লোক থাকতে হবে। কিন্তু ব্যান করিনি। তখন আমার অন্যতম নায়িকা, তাকে বলেছিলাম সলিডারিটি দেখিয়ে কিছুদিন বাংলাদেশে কাজ কোরো না।
সর্বশেষ খবর
-
মক্কেল নাকি ন্যায়বিচার, কোনটা বেছে নেবে ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’?
-
মৃতের সংখ্যার সঙ্গে পিওকে নিয়ে বাড়ন্ত অস্বস্তি! ‘বিক্ষোভকারীরা জঙ্গি নয়’, বোধোদয় শাহবাজের দলের
-
আবাসের তথ্য যাচাইয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা! গ্রেপ্তার পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী
-
শঙ্কা কাটিয়ে ফিরলেন শুভমান, শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের জয়ের পরও ব্যাট করে গেলেন সিরাজ
-
ভারতের জেলে মদ-গাঁজায় বুঁদ অপরাধীরা! সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, কীসের নেশা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ?