পছন্দের তারকাকে দেখতে জন্য যতদূর যাওয়া সম্ভব একজন ভক্ত কিন্তু ততদূর যেতে পারেন। সম্প্রতি এমনই নজির গড়লেন ‘জব উই মেট’ খ্যাত পরিচালক ইমতেয়াজ আলি ও সুরকার এ.আর. রহমনের এক ‘অন্ধ ভক্ত’। পছন্দের তারকাকে এক ঝলক দেখতে সুদূর লাহোর থেকে কুড়ি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তে পৌঁছেছেন এক পাক ভক্ত। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই ঘোর বাস্তব। উল্লেখ্য, একটু পিছন ফিরে তাকালে মনে পড়ে যায় বলিউডের বহু তারকার অনুগামীরা বিভিন্ন সময় তাঁদের পছন্দের নায়ককে দেখতে অসাধ্য সাধন করেছেন।
আরও পড়ুন:
এই মুহূর্তে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র প্রচারে ব্যস্ত পরিচালক। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবির প্রচারের অংশ হিসেবে পাঞ্জাবের আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তে যোগ দেন সুরকার এ.আর. রহমন। সেই বিশেষ অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘জয় হো-আ মিউজিক্যাল স্যালুট টু দ্য ব্রেভহার্টস’। সীমান্তে প্রথমবার লাইভ সঙ্গীত পরিবেশন করলেন এ আর রহমান। শুধু ভারতীয়রাই নন, পাকিস্তান থেকেও অনেক ভক্ত রহমান ও ইমতিয়াজকে এক ঝলক দেখতে সীমান্তে ভিড় জমিয়েছিলেন।

যে পাক ভক্ত ইমতিয়াজ ও রহমনের জন্য লাহোর থেকে ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন তিনি ইনস্টা হ্যান্ডেলে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করেন। পরিচালককে দেখে হৃদয় কতটা উদ্বেলিত হয়েছিল, ইমতিয়াজের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ভাব বিনিময়ের সেই স্মৃতিমেদুর মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এক পাক অনুগামীর ভারতপ্রীতি সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ায় মতোই ঘটনা তা বলাই বাহুল্য।

তিনি লেখেন, ‘আমিও বাকি লাহোরবাসীর মতো ভারত থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করি। রবিবাসরীয় দুপুরে গুলবার্গ থেকে সেই কুড়ি কিলোমিটার পথ মাত্র ২০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যায়। সেই ২০ মিনিটে আমি একটি ইনস্টাগ্রাম রিল নিয়ে ভাবছিলাম যেখানে ইমতিয়াজ আলি বলেছিলেন তিনি এ আর রহমান ও তাঁর টিমকে নিয়ে সীমান্তে আসবেন। এই দুই শিল্পী বছরের পর বছর ধরে আমার শিল্পচর্চাকে যেভাবে প্রভাবিত করেছেন সেই কথাগুলোও মনে পড়ছিল। ২০০৪ সালের পর আমি আর কখনও সীমান্তে যাইনি। কারণ সীমান্ত তখনই সুন্দর লাগে যখন সেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি পরিবেশ থাকে। এবার আমি সীমান্তে গিয়ে সেই উপলব্ধিই করেছি।’

ইমতিয়াজ আলিকে দেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান, ‘আমি তাড়াহুড়ো করে সীমান্তে পৌঁছাই এবং এক বন্ধু আমাকে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা পরস্পরের সঙ্গে ভাববিনিময় করতে পারে। কিন্তু একে অপরকে স্পর্শ করতে পারে না! সেখানে পৌঁছে যখন আমি কোঁকড়ানো সাদা চুল দেখতে পেলাম এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে চিৎকার করে বলেছি ‘ইমতিয়াাজ্জ্জ! ইমতিয়াাজ্জ্জ! বলতে শুরু করলাম আমি তাঁকে কতটা ভালোবাসি। শুধু হেসে হেসে বলছিলেন, ধন্যবাদ অনেক ধন্যবাদ। একদিন আসব, ইনশাআল্লাহ। সীমান্তের এপারেও তিনি কতটা জনপ্রিয় এবং তাঁর সঙ্গীত, সিনেমা ও গল্প বলার ধরণ কীভাবে এক প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাকে প্রভাবিত করে সেটাও বলেছি। প্রত্যুত্তরে শুধু বললেন, একদিন আসব, ইনশাআল্লাহ।’
View this post on Instagram
সীমান্তে দাঁড়িয়ে বিদায়বেলায় ইমতিয়াজকে কী বলেছিলেন? সেই মুহূর্তের উল্লেখ করে লেখেন, ‘বিদায়ের সময় আমি তাঁকে বললাম, ম্যায় ওয়াপিস আউঙ্গা। তখন সেখানে উপস্থিত প্রতিটি ভারতীয় একেবারে আনন্দে উৎফুল্ল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল সীমান্ত আজ বন্ধুত্বপূর্ণ যেখানে শিল্প জিতে গিয়েছে।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দাম্পত্যে প্রেম চাইলে লাল, পড়াশোনায় সবুজ, বাস্তুমতে পর্দা বাছার অমোঘ টোটকা জানেন?
-
রানাঘাট পুরসভাও হাতছাড়া তৃণমূলের, চেয়ারম্যান-সহ পদত্যাগ ১৩ কাউন্সিলরের, দায়িত্বে কে?
-
‘ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট যারা নিয়েছে ও দিয়েছে, গ্রেপ্তার হবে’, হুল দিবসে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
-
বড় জমিদার জাহাঙ্গির! ফলতায় ‘পুষ্পা’র সম্পত্তির নথি হাতে পেয়ে তাজ্জব পুলিশ
-
মন্ত্রিসভায় একঝাঁক রদবদল, নিট কেলেঙ্কারির জেরে পদ যাচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের! নয়া শিক্ষামন্ত্রী কে?