মাত্র ১৩ বছরের রাজনৈতিক কেরিয়ার। তাতেই হু হু করে সম্পত্তিবৃদ্ধি। জরির ওস্তাগর থেকে জমিদার! একাধিক বেআইনি কাজে একদা ফলতার ‘ত্রাস’, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন জেল হেফাজতে। এমনকী পুলিশ তাঁকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়েওছে। ‘পুষ্পা’ও জোড় হাত করে ক্ষমা চেয়েছেন জনতার কাছে। সেসব ছবি এখন ভাইরাল। এখন তাঁকে এই রূপে দেখা গেলেও জাহাঙ্গির কিন্তু রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য! তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত করতে গিয়ে চোখ কপালে পুলিশের। এ যে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে! দেখা যাচ্ছে, রীতিমতো জমিদার হয়ে বসেছিলেন ‘পুষ্পা’। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে অন্তত ৬০ টি জমির দলিল এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। এর মধ্যে বেশিরভাগই দখল করা বলে জানা গিয়েছে। ফলতা ও তার আশেপাশের বহু জমি স্রেফ বাহুবলে নিজের নামে করে নিয়েছিল জাহাঙ্গির, এমনই মনে করছে পুলিশ। চলছে বিশদে তদন্ত।

আরও পড়ুন:
বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুইয়ের অভিযোগ, ‘‘ছোট-বড় নানা জমি ও (জাহাঙ্গির) ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে। কোনওটা নিজের নামে, কোনওটা বউয়ের নামে করেছে। ৮০ থেকে ১০০ বিঘা জমি স্রেফ এভাবেই ওর হয়ে গিয়েছে। নইলে ভাবুন না, ছিল তো ওস্তাগর। তারপর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পরে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হয়ে এত সম্পত্তি কোথা থেকে এল? মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি তখন। ফলতায় এমন কোনও জমি নেই যে ওর নজর পড়েনি।”
২০২২ সাল নাগাদ ফলতার তৃণমূল নেতা বিধান পাড়ুই প্রায় ২০০ কোটি টাকার জমি দু্র্নীতি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পুলিশে। প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু জমির নথিও তুলে দিয়েছিলেন থানায়। কিন্তু সেসময় তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন, পালাবদলের বাংলায় জাহাঙ্গিরকে গ্রেপ্তারির পর সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাজ্জব তদন্তকারীরা। তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবির নামে ঢের ঢের জমি। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তার মধ্যে দখলীকৃতই বেশি।
এনিয়ে বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুইয়ের অভিযোগ, ‘‘ছোট-বড় নানা জমি ও (জাহাঙ্গির) ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে। কোনওটা নিজের নামে, কোনওটা বউয়ের নামে করেছে। ৮০ থেকে ১০০ বিঘা জমি স্রেফ এভাবেই ওর হয়ে গিয়েছে। নইলে ভাবুন না, ছিল তো ওস্তাগর। তারপর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পরে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হয়ে এত সম্পত্তি কোথা থেকে এল? মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি তখন। ফলতায় এমন কোনও জমি নেই যে ওর নজর পড়েনি।”
জাহাঙ্গিরের আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিধান পাড়ুই। তাতে জাহাঙ্গিরের নামে চারটি এবং স্ত্রীর নামে ৩৪টি জমির নথি দেওয়া হয় প্রমাণ হিসেবে। দুর্নীতি তদন্তের আবেদন জানিয়ে ইডিকেও একই নথি দেওয়া হয়েছিল। পরে মে মাসে জাহাঙ্গির গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই সমস্ত অভিযোগপত্র রীতিমতো খুঁড়ে বের করে এনেছে। আর তাতেই অবাক হওয়ার পালা। এসবের উৎস কী, আর কোথায় কত ‘কুবেরের ধন’ লুকিয়ে আছে, তার খোঁজে হন্যে তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মোদির আমেরিকা সফরের পরেই ভারতে আসবেন ট্রাম্প! জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর
-
হার্ট অ্যাটাকের পর ২৭ কেজি ওজন কমালেন অনুরাগ কাশ্যপ, কেন ক্র্যাশ ডায়েট নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা?
-
ব্যবসায়িক স্বার্থেই বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক! বিরক্ত স্কালোনি-টুখেলরা, বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা
-
রণবীর না আলিয়া, বাড়ির ‘আলফা-অ্যানিম্যাল’ কে? অবিশ্বাস্য উত্তর কাপুরবধূর!
-
চরমে কুসংস্কার, মেসি-ভোজিনহা দ্বৈরথে শিরোনামে বিখ্যাত মূর্তি, দলকে জেতাতে এ কী করছেন ভক্তরা!