ধর্মতলায় একুশে জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান কি অতীত? কলকাতা পুলিশের বার্তায় সেই সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠছে। সূত্রের খবর, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর কোনও জনসভা করা যাবে না। তা জানিয়ে মঙ্গলবার কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘আসল’ তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা পুলিশ। জানা যাচ্ছে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার চারপাশে আগেকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এখানে জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পাবে না কেউ। সূত্রের খবর, পুলিশের এই বার্তার পর বিকল্প স্থান খুঁজতে শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল।
এনিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নেত্রী দোলা সেন জানিয়েছেন, ‘‘আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে আমাদের। আমরা ৩৩ বছর ধরে এখানেই ২১ জুলাই পালন করে থাকি। এটা তো যে কোনও কর্মসূচি নয়, শহিদ-তর্পণ। একবেলা বন্ধ থাকে ধর্মতলা। এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথায় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছি দলের মধ্যে।” প্রায় একই বক্তব্য ঋতব্রত শিবিরের। দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান জানাচ্ছেন, ‘‘আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। দরকারে পুলিশের কাছে আবারও আবেদন জানাব।”
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশে ভরাডুবির পর দুই শিবির বিভক্ত ঘাসফুল শিবিরে রাজনৈতিক জটিলতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দলের প্রতীক, তহবিল নিয়ে আইনি টানাপোড়েন চলছে কলকাতা হাই কোর্টে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল এনিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করলেও তা গৃহীত হয়নি। এবার ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন ঘিরে নতুন করে বিপাকে পড়ল দুই তৃণমূলই। আসলে এই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেস বরাবর মেগা ইভেন্ট হিসেবে পালন করে থাকে। ১৯৯৩ সালের তখনকার যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারপক্ষের গুলিচালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ওই জায়গা বলে সেখানেই শহিদ দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু এবছর ব্যতিক্রম হতে চলেছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে ‘না’ বলেছে পুলিশ।
এখন প্রশ্ন হল, শহিদ-তর্পণের জন্য ঘাসফুল শিবিরের কাছে বিকল্প স্থান কী? কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নেত্রী দোলা সেন জানিয়েছেন, ‘‘আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে আমাদের। আমরা ৩৩ বছর ধরে এখানেই ২১ জুলাই পালন করে থাকি। এটা তো যে কোনও কর্মসূচি নয়, শহিদ-তর্পণ। একবেলা বন্ধ থাকে ধর্মতলা। এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথায় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছি দলের মধ্যে।” প্রায় একই বক্তব্য ঋতব্রত শিবিরের। দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান জানাচ্ছেন, ‘‘আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। দরকারে পুলিশের কাছে আবারও আবেদন জানাব।”

অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার ধর্মতলার এই চত্বরে গিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। তাঁরা ডেকরেটর্সকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে মঞ্চ তৈরির জন্য মাপামাপি করেছিলেন। সোমবার এনিয়ে বিধানসভায় তাঁদের কড়া ভাষায় বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশ্ন তুলেছিলেন, পুলিশ অনুমতি ছাড়া কেন আগ বাড়িয়ে মাপামাপি করতে গেলেন? এরপরই হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। নোটিস পাঠিয়ে কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। আজকের মধ্যে তাঁদের হাজিরা দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সেদ্ধ করতে গিয়ে চিড় ধরছে ডিমের খোলায়, সমাধান করবে একটিমাত্র পাতিলেবু!
-
অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কাজ করছে না! সাধারণ সংক্রমণও কেন হয়ে উঠছে ভয়ংকর?
-
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পচছে ফ্রিজারে রাখা মাংস-সবজি, এইভাবে ১ টাকার কয়েন রাখলেই কেল্লাফতে!
-
কেতুগ্রামে তৃণমূলের কার্যালয়ে রাজকীয় ঘর, রয়েছে খাট-বিছানা! উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ
-
বাতাসে এখনও মৃত্যুর গন্ধ! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা পেরোল ১৭০০