Durbar Sharma

পড়াশোনা করতে এসে অভিনয়ে সুযোগ, মণিরত্নমের ছবিতে শুটিংয়ের পর আড্ডায় দুর্বার

জলপাইগুড়ির গ্রাম থেকে এসে টলিউডে সাফল্য। সদ্য কাজ করলেন মণি রত্নমের ছবিতে। জিতের আসন্ন ছবিতেও তিনি নায়কের ছায়াসঙ্গী। দুর্বার শর্মার মুখোমুখি শম্পালী মৌলিক

শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১৫:৩৭

options
link
পড়াশোনা করতে এসে অভিনয়ে সুযোগ, মণিরত্নমের ছবিতে শুটিংয়ের পর আড্ডায় দুর্বার
দুর্বার শর্মা

মণিরত্নমের সঙ্গে কাজ করে ফেললেন। কেরিয়ারের এই পর্যায়েই এতটা ঘটবে ভেবেছিলেন?

Advertisement

সত্যিই ভাবিনি (হাসি)। এমন অনেক জিনিস হয় পৃথিবীতে, ঘটবে বলে মনে হয় না। তেমনটাই হয়েছে। আমার জায়গায় যে কেউ থাকতে পারত। কিন্তু কোনওভাবে তাঁদের চোখে পড়ে গিয়েছি। সে ভাবেই সুযোগটা এসে যায়।

Advertisement

কলকাতায় মণিরত্নমের সঙ্গে তেমন কোনও স্পেশাল মুহূর্ত?

Advertisement

রিহার্সালে দেখা হয়েছিল। শট যখন চলছিল, উনি মাঝে মাঝে এসে ইন্সট্রাকশন দিচ্ছিলেন। সিনটা কী করে আরও ঠিকঠাক করা যায় পরিচালক হিসাবে বলে দিচ্ছিলেন, সেটাই আমার কাছে স্মরণীয় মুহূর্ত।

সুযোগটা কি অডিশন দিয়ে এসেছিল?

যে কাস্টিং এজেন্সি আমাকে এক্ষেত্রে যোগাযোগ করেছিল তাদের সঙ্গে আমি আগে সোনি লিভ-এর ‘জাজ সিটি’-র কাজটা করেছি। তখন ওরা আমার কাজ দেখেছিল। এই ছবির প্রোডাকশন বোধহয় ওই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমার প্রোফাইলটা আরও অনেকের সঙ্গে পাঠিয়েছিল। তারপর শর্টলিস্ট হয়। এখানে আসার পর একটা স্ক্রিনিং টেস্ট হয়। আমরা অনেকেই গিয়েছিলাম। ওই টেস্টে পুলিশের ভূমিকায় থানার সিকোয়েন্স করতে হয়েছিল আমাকে। এরপর নির্বাচিত হই। যে খবরটা আমি এজেন্সি থেকেই পেয়েছিলাম।

Durbar Sharma cast as Jeet's constant companion in upcoming film after Mani Ratnam project
জিতের সঙ্গে দুর্বার

ন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে যেহেতু কাজ করে ফেলেছেন এবং সদ্য একটা বড় ছবিতে কাজ করলেন। এরপর কি আশা করছেন জাতীয় স্তরে আরও কাজ আসবে?

আশা তো করছি। কারণ একটা দরজা খুললে আর একটা দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হয়। মানে বাংলা ভাষায় যদি আমি কাজ না করতাম, তাহলে ওই সোনি লিভ-এর কাজটা পেতাম না। আবার ওই কাজটা ভালোভাবে না করলে হয়তো তারাও পরবর্তী কালে রেফার করত না। এটাই বিশ্বাস করি, একটা ভালো কাজ করলে আর একটা ভালো কাজের সম্ভাবনা খুলে যায়। তাই আশাবাদী।

আপনি জলপাইগুড়ির ভিতরের গ্রামের ছেলে। টালিগঞ্জে কোনও চেনা-জানা ছিল না…

সত্যিই চেনা-জানা ছিল না। আমি থিয়েটার করতাম। থিয়েটারের সূত্রে আরও কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। জলপাইগুড়িতে মায়ের নাটকের দলে থিয়েটার করতাম। তারপর এখানে এসে পড়াশোনার জন্য বেশ কিছুদিন থিয়েটার বন্ধ ছিল। কোভিডের সময় পড়াশোনা থেকে ব্রেক নিয়েছিলাম। কারণ আমার রিসার্চের ফেলোশিপটা বন্ধ হয়ে যায়। আমার পিএইচডি চলছিল তখন। সেটাও বন্ধ রাখতে হয়। এই ছেদ পড়ার পর, যেহেতু ২০১৭-‘১৮ থেকে নিজেরা দল তৈরি করে থিয়েটার করছি, আমার স্ত্রী মৃত্তিকা, বন্ধু সবুজ, অনুজয় ও আরও বেশ কিছু বন্ধু সবাই মিলে ওই দলটা নিয়ে কাজকর্ম করছিলাম তখন। এভাবেই অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি হয়। ফলে প্রথম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ পাই। তারপর আস্তে আস্তে কাজ আসতে থাকে। এখানে এসে অভিনয় করব তেমন পরিকল্পনা ছিল না। পড়াশোনা করতেই এসেছিলাম।

লবি বা পিআর না থাকলেও কাজ পাওয়া যায় তাহলে?

আমার ক্ষেত্রে আমি তেমন বিষয়টা ফেস করিনি এটাই বলতে পারি। আমাকে যে পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা বা নির্মাতারা নির্বাচন করেছেন তাঁরা আমার অভিনয়। দেখেই আবার ডেকেছেন। অনেক পরিচালক আছেন তাঁরা বারবার ডেকেছেন। অভিনেতা হিসাবে এটা বিশ্বাস করতেই ভালো লাগবে যে, অভিনয় দেখেই আমার
সুযোগ হয়েছে। দর্শকরাও রিলেট করতে পারেন বলেই তাঁদের ভালো লাগার কথা জানান।

Durbar Sharma shares his experience of acting with Mani Ratnam and joining Jeet's next film
কেরিয়ার এগচ্ছে দুর্বার গতিতে

অধ্যাপনা করবেন ভেবেছিলেন। সেখান থেকে অভিনয়ের মতো অনিশ্চিত পেশায় চলে এলেন কেন? নির্দেশনাও করেন।

অভিনয়কে পেশা করার কথা কখনওই ভাবিনি। যেটা বললাম, ভেবেছিলাম থিয়েটার করব। আর পেশা অধ্যাপনাই থাকবে। কোভিডের সময় সেই জায়গাটাতেই যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং আমি দেখি যে অ্যাকাডেমিক্সের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। শুধু হিউম্যানিটিজ নয়, সায়েন্সেও অনেক প্রোজেক্ট তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটের সময় আমার মনে হয়েছিল, আমি আরেকটা যে কাজ পারি, সেই কাজটা আশ্রয় করে এগোলে কেমন হয়। সেখান থেকেই অভিনয়ে এগিয়ে যাওয়া। আর পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে পারতাম না। তাদের সমর্থন এখনও রয়েছে।

একাধিক সিরিজের পর আপনি সিনেমাতেও নিয়মিত হয়ে উঠছেন। আসন্ন ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতেও রয়েছেন। কেমন চরিত্র?

খুব ইন্টারেস্টিং চরিত্র। এর আগে আমি ‘রঘু ডাকাত’ করেছিলাম দেবদার সঙ্গে। সেখানে। রঘুর ছোটবেলার বন্ধুর চরিত্রে ছিলাম। এখানেও অনন্ত সিংহের (জিৎ) সর্বক্ষণের সঙ্গী আমি। তার পরিচয় শুধু সঙ্গী নয়, আমার চরিত্রটি এখানে একজন মেকআপ শিল্পীর। অনন্ত সিংহের যে এতগুলো রূপ দেখছি আমরা, যেগুলো বাস্তবে সোমনাথদা (কুণ্ডু) তৈরি করেছেন। সিনেমায় দেখা যাবে সেই মেকআপ। শিল্পী আমি। এজন্য সোমনাথদাকেই কৃতিত্ব দেব। মেকআপের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়, সোমনাথদার কাছেই শিখেছি। আমাকে ওয়ার্কশপ করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দেখে যেন মনে হয় আমিই মেকআপ করেছি। সোমনাথদা এবং পথিকৃৎদার (বন্ধু) গাইডেন্সে আমি সেটা করেছি। মনে হয় দর্শকের ভালো লাগবে।

দেব-জিৎ দু’জনের সঙ্গেই কাজ করে ফেললেন। নিজে কখনও হিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

(হাসি), মলাটচরিত্রে অভিনয় করতে সকলেরই ভালো লাগে। আমারও তাই। কখনও সুযোগ হয়নি তা নয়। তবে সেটা স্বাধীন ছবিতে।

বাণিজ্যিক ছবির কথা বলছি।

বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হওয়ার ইচ্ছেও আছে। সেটা যদি আমাকে কেউ ভাবে কখনও, আমার যেমন লুক, ফিচার্স, আমার অভিনয়ের ধরন, সে সব নিয়ে যদি ভাবেন, ভালোই লাগবে। আমার সৌভাগ্য যে আমি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সুযোগ পেয়েছি। প্রত্যেকটা খুবই আলাদা। সেখান থেকে যদি কেউ বাণিজ্যিক ছবিতে আমাকে নায়ক হিসাবে ভাবেন, করতে খুব ভালো লাগবে।

কেউ আপনাকে বলেনি ফাহাদ ফাজিলের সঙ্গে আপনার সাদৃশ্য রয়েছে।

(জোরে হাসি) গোঁফটা রাখলে পর অনেকেই বলে। বন্ধুবান্ধব সার্কেলে তো বটেই। তখন আমার লজ্জাই লাগে। বিনয় না করেই বলছি ওঁর সঙ্গে আমার নামটা জুড়ে যাওয়ায় নিজের মধ্যে একটা সংকোচ হয়। আমার ধারণা লুকের জন্য মানুষ ওরকম বলে।

Durbar Sharma talks about working in a Mani Ratnam film
দুর্বার শর্মা

আপনি, অনুজয়, দেবরাজ, প্রতীক, লোকনাথ দে যদিও উনি একটু সিনিয়র, প্রত্যেকেই দারুণ অভিনয় করেন। প্রতিযোগিতা অনুভব করেন?

প্রতিযোগিতা নয়, আমরা খুব উপভোগ করি। একে অপরের সঙ্গে কাজ করলে দেওয়া-নেওয়াটা বাড়ে। অনুজয় কোনও একটা সুযোগ পেলে, আমাকে শেয়ার করলে, আমার আনন্দ হয়। আমাদের একটা পরিসর আছে যে, কাজ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা দুটোই করি। যেটা আমাদের গ্রোথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি শিল্পী হিসাবে নিজে যে কাজটা করছি, সেটা তো নিরপেক্ষভাবে দেখতে পারছি না। তখন অন্য আরেক জনের অভিমত পেলে আলোচনা করা যায়। তাই দেওয়া-নেওয়া চলতে থাকে। প্রতিযোগিতার কোনও জায়গা নেই। একটা সহাবস্থান এবং আন্তরসম্পর্ক রয়েছে। খুব এনজয় করি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.