Musafir Cafe Review

পরিণতি যাই হোক স্মৃতিটুকুই সম্বল, কেমন হল ছকভাঙা প্রেমের গল্প ‘মুসাফির ক্যাফে’?

একবার ভালোবাসলে সেই অনুভব জীবনের সঙ্গে জুড়ে যায়? এমন প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুচির অরুণ পরিচালিত 'মুসাফির ক্যাফে'। লিখছেন দেবত্রী ঘোষ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১০:৫৬

options
link
পরিণতি যাই হোক স্মৃতিটুকুই সম্বল, কেমন হল ছকভাঙা প্রেমের গল্প ‘মুসাফির ক্যাফে’?
কেমন হল 'মুসাফির ক্যাফে'?

প্রেমের হাজার রকমফের। সে কখনও সরলরেখায় চলতে ভালোবাসে না। প্রতিটা মানুষ যেমন আলাদা, ঠিক তেমনই তাদের প্রেমে পড়ার গল্পগুলো আলাদা। প্রেম প্রকাশের ধরন পৃথক, প্রত্যাশাও ভিন্ন। এটা ভেবে নেওয়াও ঠিক নয়, যে সব প্রেমের শুরু আর গতিপথ হালকা এদিক-ওদিক হলেও তাদের পরিণতি একই হবে। যে ধরনের ত্রিকোণ প্রেমের গল্প সাধারণত পর্দায় দেখতে দর্শক অভ্যস্ত, তার থেকে রুচির অরুণ পরিচালিত নেটফ্লিক্সের ‘মুসাফির ক্যাফে’ একেবারেই আলাদা। দিব্য প্রকাশ দুবের একই নামের উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত এই আট এপিসোডের সিরিজ পরিণত প্রেমের গল্প বলে।

Advertisement

২০১৮ সাল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার চন্দর (বিক্রান্ত ম্যাসি) ভোপালে চাকরি করলেও তার আসল স্বপ্ন পাহাড়ে ক্যাফে খোলার। বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে পরিচয় সুধার (বেদিকা পিন্টো) সঙ্গে। পেশায় ডিভোর্স উকিল সুধার বিয়ে নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। সে চায় আরও বড় উকিল হতে, মায়ের খেয়াল রাখতে, তার সব স্বপ্ন পূরণ করতে। জীবনের চাহিদা আলাদা হলেও চন্দর আর বেদিকা একে অপরের প্রেমে পড়ে।

Advertisement
Musafir Cafe movie review – Netflix Hindi romantic drama Season 1
‘মুসাফির ক্যাফে’

চন্দরের বর্তমান জীবন অবশ্য মুসৌরিতে থিতু। তার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে সঙ্গী প্রীতির (মহিমা মকওয়ানা) হাত ধরে। পাহাড়ে জনপ্রিয় ‘মুসাফির ক্যাফে’র বছর তিনেক বয়েস এখন। ক্যাফের নামটা যদিও সুধার উপহার। যে সুধা একরকম জোর করেই চন্দরের স্বপ্নে উড়ান দেওয়ার সাহস জুগিয়েছিল। সারণ্য রাজগোপালের লেখা এই সিরিজে দুই সময়রেখা সমান্তরালে চলে। একদিকে চন্দর আর সুধার বিপরীতমুখী চরিত্রের উদ্দাম, আনন্দে আত্মহারা প্রেম।

Advertisement
Musafir Cafe Season 1 movie review featuring the lead cast
‘মুসাফির ক্যাফে’তে বিক্রান্ত

আর অন্যদিকে পাহাড়ের শান্ত জীবনে হাতে হাত রেখে পাশাপাশি চলা চন্দর আর প্রীতির ধীর-স্থির সুনিশ্চিত সঙ্গ। ‘লিটল থিংস’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন রুচির প্রেমের গল্প সুন্দর করে, গুছিয়ে বলতে জানেন। এই সিরিজেও তার অন্যথা হয়নি। তবে দেখতে দেখতে মনে হয়, সিরিজের বদলে ছবি হলে এই গল্প আরও টানটান হত। এমন জায়গায় গল্প শেষ হয়েছে, যাতে দ্বিতীয় সিজন আসার সম্ভাবনা থেকে যায়। চন্দরের চরিত্রে বিক্রান্ত ম্যাসির অভিনয় ‘ব্রোকেন বাট বিউটিফুল’-এর কথা মনে পড়ায়।

দুই সময়রেখাতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। সুধার চরিত্রে বেদিকা প্রাণবন্ত হলেও, কিছু সিরিয়াস দৃশ্যে তাঁর অভিনয় আরও পরিণত হওয়ার দরকার ছিল। শান্ত অথচ দৃঢ় প্রীতির চরিত্রে মুসকানকে ভালো লাগে। দুটি ছোট চরিত্রে আদিল হুসেন এবং অনুভা ফতেপুরিয়াকে বেশ ভালো লাগে। অনিরুদ্ধ পাটাঙ্কারের চিত্রগ্রহণে ভোপাল সুন্দর লাগলেও যেন পাহাড়-ঘেরা কুয়াশা-মাখা মুসৌরির মায়া আলাদা।

Musafir Cafe Netflix movie review poster and romantic drama series
‘মুসাফির ক্যাফে’র দৃশ্য

অনেকগুলো গান অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ‘কিসি কে হোনে কা অসর হামপে উতনা হি হোতা হ্যায়, জিতনা কি উনকে না হোনে কা’- একবার কাউকে ভালোবেসে ফেললে, সে সারাজীবনের শরিক হয়ে থাকে, সে যত স্বল্পই হোক না কেন। আসলে প্রেমের পরিণতিটা কোনওদিনই গুরুতর নয়, সম্বল হয়ে থেকে যায় একসঙ্গে চলার পথটুকু।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.