Raakh review

দিল্লির রঙ্গা-বিল্লা বিভীষিকার ‘রক্তাক্ত’ দলিল, কেমন হল ‘রাখ’? পড়ুন রিভিউ

দর্শককে নিমজ্জিত রাখে আলি ফজল, সোনালি বেন্দ্রের 'রাখ'। সত্য ঘটনা অবলম্বনে প্রসিত রায় পরিচালিত এই সিরিজ একেবারেই মিস করা যাবে না। লিখছেন স্বাতী চট্টোপাধ্যায় ভৌমিক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২২, ২০২৬, ১৯:১৬

options
link
দিল্লির রঙ্গা-বিল্লা বিভীষিকার ‘রক্তাক্ত’ দলিল, কেমন হল ‘রাখ’? পড়ুন রিভিউ
কেমন হল 'রাখ'? পড়ুন রিভিউ

১৯৭৮ সালের আগস্ট মাসে রাজধানীতে দুই ভাইবোন গীতা ও সঞ্জয়ের অপহরণ ও নৃশংস খুনের ঘটনা সারা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই রঙ্গা-বিল্লার ভয়াবহ অতীতকে নতুনরূপে দর্শকের সামনে নিয়ে এলেন পরিচালক প্রসিত রায়। তবে শুধু ভয় নয়, চিত্রনাট্য, পরিচালনা আর অভিনয়ের গুণে অসহায় কষ্ট ও অনেকটা মনখারাপের আবহ উপহার দিয়ে গেল প্রাইম ভিডিও-র নতুন সিরিজ ‘রাখ’।

Advertisement
Raakh review: Rangaa-Billa's chilling crimes return in this series
দর্শককে নিমজ্জিত রাখে আলি ফজল, সোনালি বেন্দ্রের ‘রাখ’।

সাহিল আর সুমন, দুই ভাইবোন রেডিও স্টেশনে যাওয়ার পথে প্রবল বৃষ্টিতে নিরুপায় হয়ে এক অচেনা গাড়ির কাছে লিফট চেয়েছিল। সেই থেকে দু’দিন পর নিখোঁজ দুই ভাইবোনের লাশ খুঁজে পাওয়া গেল জঙ্গলের ভিতর। ভেঙে পড়লেন আর্মি অফিসার বাবা। প্রচণ্ড শকে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলেন মা মোনা। দিল্লি পুলিশ ছুটে বেড়াতে লাগল অপরাধীদের সন্ধানে। কারা করল এমন নৃশংস খুন, কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে? সিনেমা, সিরিজকে প্রাথমিকভাবে বিনোদন মাধ্যম হিসাবে দেখা হয়ে থাকে। কিন্তু এ কেমন বিনোদন, যে ঘটনা আটচল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হলেও দর্শকদের নির্বাক করে তুলতে পারে! সুমন আর সাহিলের মৃত্যু ঘিরে আবর্তিত হয়েছে আট এপিসোডের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া, চাপা কষ্টের বাতাবরণ। অপরাধীরা ভয়ঙ্কর নৃশংস হলেও পরিচালক শুধু খুনি খোঁজার থ্রিলার হিসেবে তৈরি করেননি এই সিরিজ। একইসঙ্গে অনেকগুলো ‘যদি’র মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ সিরিজের গল্প দর্শকের মনে দাগ কেটে যেতে থাকবে। যদি সেদিন বৃষ্টি না হত, যদি সুমনদের মা সঙ্গে যেতেন, যদি হলুদ ফিয়াট দেখে সুমন লিফট না চাইত, এমন আরও অজস্র আফসোস আচ্ছন্ন করে রাখে সিরিজ জুড়ে। সেই সম্ভাবনার কথাও দেখিয়েছেন পরিচালক, যদিও শেষ পর্বটি দেখতে স্নায়ুর জোর থাকা প্রয়োজন।

Advertisement
Raakh review: Rangaa-Billa's chilling crimes return in Raakh
রঙ্গা-বিল্লার ভয়াবহ অতীতকে নতুনরূপে দর্শকের সামনে নিয়ে এলেন পরিচালক প্রসিত রায়।

বিবেকহীনতা সেই অর্থে রোগ না হলেও সাধারণত জন্মগত অপরাধীদের মধ্যে এরকম প্রবণতা দেখা যায়। তেমনই এক ভয়াবহ সাইকোপ্যাথ চরিত্র ‘বাবু’। অসম্ভব দক্ষতায় চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন আকাশ মাখিজা। সমস্ত সিরিজ জুড়ে অদ্ভুত এক গা রি-রি করা ঘেন্না জন্মায় তাঁকে দেখে। একইরকম অনবদ্য অভিনয়ের সাক্ষর রেখেছেন ‘রজ্জো’ রূপী রমনদীপ যাদবও। ভারতে ফরেনসিক বিজ্ঞানের শুরুর সময়কে সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে, যাকে নিঃসন্দেহে এক জরুরি অধ্যায় বলা যেতে পারে। সাব ইন্সপেক্টর জয়প্রকাশের চরিত্রে সম্ভবত তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয় করলেন আলি ফজল। হতাশায় ডুবে যেতে যেতে তাঁর হার না মানা জেদও এই সিরিজের সম্পদ। মনে থেকে যাবে অরোরা দম্পতির চরিত্রে আমির বশির ও সোনালি বেন্দ্রের অভিনয়। সামান্য সংলাপ, বাকিটা অভিব্যক্তি দিয়ে নজির রেখে গেলেন দুজনেই। রাকেশ বেদি, অংশুল চৌহান, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, বাহারুল ইসলাম, মুকুন্দ পাল প্রত্যেকেই অনবদ্য। আর অবশ্যই মনে থাকবে অপরাধীদের সঙ্গে শেষ নিঃশ্বাস অবধি লড়ে যাওয়া নিষ্পাপ দুই কিশোর-কিশোরীর চরিত্রে দিব্যা শর্মা ও ভিভান শর্মাকে। সম্ভবত এই বছরের সেরা সিরিজ দর্শকদের উপহার দিয়ে গেলেন ‘পাতাল লোক’ খ্যাত বাঙালি পরিচালক প্রসিত রায়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.