Nibba Nibbi Review

খামখেয়ালি অ্যাডভেঞ্চারে ‘দেবদাস’-এর আধুনিক সংস্করণ! পড়ুন ‘নিব্বা নিব্বি’ রিভিউ

তথাগত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত 'নিব্বা নিব্বি' কেমন হল? লিখছেন দেবত্রী ঘোষ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১৫:৪১

options
link
খামখেয়ালি অ্যাডভেঞ্চারে ‘দেবদাস’-এর আধুনিক সংস্করণ! পড়ুন ‘নিব্বা নিব্বি’ রিভিউ
তথাগত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত 'নিব্বা নিব্বি' কেমন হল?

সময় বদলেছে। সেই সঙ্গে সমাজ আর মানুষও। আজকের জেনারেশন আগের থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রায় জন্ম থেকেই চোখের সামনে স্ক্রিন নিয়ে বড় হওয়া এই প্রজন্ম মনে করে, ক্ষমতা যার, জিত তারই হবে, এমন কোনও মানে নেই। বরং যে শেষপর্যন্ত অনলাইন থেকে যাবে, জীবনে তারই এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Advertisement

‘নিব্বা নিব্বি’ বলতে আসলে অপরিণত, বয়স কম, অতি-নাটুকে দম্পতি বোঝায়। এই ছবিতে দেবা আর পারো তাই-ই। তবে এও বেশিরভাগ মানুষের জানা যে, দেবা আর পারোর প্রেম প্রজন্মগত ভাবেই টক্সিক, সেই শরৎচন্দ্রের আমল থেকেই।

গল্পটা কীরকম? দেবা (ঋষভ বসু) তার ব্যবসায়ী, ক্ষমতাসম্পন্ন বাবার লুকিয়ে রাখা হার্ডডিস্ক চুরি করে পালিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সমাজের ওপরতলার বেশ কিছু মানুষের আপত্তিকর ভিডিও। সে তার বাবাকে ব্ল্যাকমেল করছে। ব্ল্যাকমেল বিষয়টা সম্পর্কে সব প্রজন্মই ওয়াকিবহাল। তাই দেবার বাবা দিব্যি বুঝতে পারছে, সে তো বিপদে পড়েইছে, তার সঙ্গে সমাজের আরও খানকয়েক মাথার রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। এই অ্যাডভেঞ্চারে দেবার সঙ্গিনী তার প্রেমিকা পারো বা পার্বতী (সৌরসেনী মৈত্র), যে আবার গর্ভবতীও। তথাগত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘নিব্বা নিব্বি’ বাংলা জি ফাইভের প্রথম ডিজিটাল ছবি। ‘নিব্বা নিব্বি’ বলতে আসলে অপরিণত, বয়স কম, অতি-নাটুকে দম্পতি বোঝায়। এই ছবিতে দেবা আর পারো তাই-ই। তবে এও বেশিরভাগ মানুষের জানা যে, দেবা আর পারোর প্রেম প্রজন্মগত ভাবেই টক্সিক, সেই শরৎচন্দ্রের আমল থেকেই। এখানেও তার অন্যথা হয়নি। এদের মধ্যে ভালোবাসার কমতি নেই বটে, তবে ধৈর্যের অভাব আছে প্রচুর। আছে অবিশ্বাস, চাপানউতোর, একগুচ্ছ গালাগালি, আর একরাশ টেনশন। তবু তারা রোমাঞ্চে পিছপা হয় না, কারণ তাতে রয়েছে ‘আনলিমিটেড ফান’।

Advertisement
Rishav Basu, Sauraseni Maitra starrer Nibba Nibbi Review
‘দেবদাস’-এর আধুনিক সংস্করণ ‘নিব্বা নিব্বি’

রাজনৈতিক ভণ্ডামি থেকে সামাজিক অরাজকতা, পুরুষের নোংরা দৃষ্টি– এই সব কিছুই ডার্ক কমেডির মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন পরিচালক। সঙ্গে প্রেমকেও গুরুত্ব দিতে ভোলেননি।

অদ্ভুত, খামখেয়ালি চরিত্রদের কেন্দ্র করে ছবি করার একটা আলাদা মজা আছে। বিশেষ করে, তার সঙ্গে যখন রোড ট্রিপ, খুনোখুনি, ধরপাকড় জড়িয়ে। কখন কী হয়? তার একটা টেনশন দর্শককে এই ছবির সামনে বসে থাকার উত্তেজনা যোগায়। কিন্তু মুশকিল হল, চরিত্ররা খামখেয়ালি হলেও গল্প খামখেয়ালি হলে চলে না। সেক্ষেত্রে প্লট মাঝেমাঝেই খেই হারিয়ে ফেলে, যা এই ছবির ক্ষেত্রে হয়েছে। রাজনৈতিক ভণ্ডামি থেকে সামাজিক অরাজকতা, পুরুষের নোংরা দৃষ্টি– এই সব কিছুই ডার্ক কমেডির মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন পরিচালক। সঙ্গে প্রেমকেও গুরুত্ব দিতে ভোলেননি। কিন্তু এতকিছু একসঙ্গে সামলে উঠতে গিয়ে চিত্রনাট্যে খামতি থেকে গিয়েছে। অভিজ্ঞান ভট্টাচার্য ও তথাগত মুখোপাধ্যায়ের লেখা সংলাপও তত জোরালো নয়। দেবার চরিত্রে ঋষভ অনেকটাই চরিত্রের মেজাজ ধরে রাখতে পেরেছেন। তাঁর অভিনয়ে খামখেয়ালিপনা প্রাণ পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু দৃশ্যে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় ও শঙ্কর চক্রবর্তী সেই খামখেয়ালিপনায় যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন। তবে সৌরসেনীর কাছে আরও প্রত্যাশা ছিল। অ্যাকশনের দৃশ্যগুলো মন্দ নয়। এই গল্পের শুরু রাস্তায়, শেষও রাস্তাতেই। দেবা আর পারোর গাড়ি কোনও গন্তব্যে পৌঁছয় না। অ্যাডভেঞ্চারেও ড্রপসিন পরে না তাই আলাদা করে। অপশব্দে ভরপুর সংলাপের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ বা জয় গোস্বামীর কবিতার লাইন, ‘২২শে শ্রাবণ’ ফর্মুলার মতো ঠেকলেও মন্দ লাগে না। ছবি তৈরির ক্ষেত্রেও পরিচালক কোনও চলতি ফর্মুলার সাহায্য নিলে এই ছবি হয়তো আরেকটু শক্ত ভিত পেত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.