Tollywood

পরিচালক-প্রযোজক দম্পতিকে না জানিয়ে মুম্বইয়ের ওটিটিতে বাংলা ছবি বিক্রি, তদন্তে লালবাজার

নির্মাতাদের অন্ধকারে রেখে ২ কোটির জালিয়াতি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৩, ২০২৫, ১২:৩০

options
link
পরিচালক-প্রযোজক দম্পতিকে না জানিয়ে মুম্বইয়ের ওটিটিতে বাংলা ছবি বিক্রি, তদন্তে লালবাজার

অর্ণব আইচ: পরিচালক ও প্রযোজককে অন্ধকারে রেখেই আস্ত একটি বাংলা সিনেমা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ে। একটি জাতীয় স্তরের ওটিটি প্ল‌্যাটফর্ম ওই বাংলা ছবিটি কিনেছে, এমনই অভিযোগ পরিচালক ও প্রযোজকের। তাঁদের অভিযোগের তীর আঙুল কলকাতারই একটি সঙ্গীত সংস্থা ও তার কর্ণধারের দিকেই।

Advertisement

অভিযোগ, গানের সত্ত্ব কেনার নাম করে ওই সঙ্গীত সংস্থার কর্ণধার মুম্বইয়ের ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে বিক্রি করেছেন ওই সিনেমাটি। তার ফলে পরিচালক ও প্রযোজককে অন্ধকারে রেখেই কলকাতার ওই সংস্থা ও মুম্বইয়ের ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মটি রোজগার করেছে দেড় কোটি টাকা। লোকমুখে শুনে ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মে তাঁরা নিজেদের সিনেমাটি দেখতে পান বলে তাঁদের দাবি। ওই ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিচালক ও প্রযোজক দম্পতি অনামিকা আদিত‌্য ও অর্চন আদিত‌্য। বুধবার রাতে তাঁরা লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা দু’কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতির ফাঁদে পড়েছেন। এই ব‌্যাপারে কলকাতার ওই সঙ্গীত সংস্থা এবং মুম্বইয়ের ওই ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মের তিন কর্তার বিরুদ্ধে সাইবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। এবার চার অভিযুক্তকে নোটিস পাঠিয়ে লালবাজারে তলব করা হবে।

Advertisement

লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ শহরতলির হরিদেবপুর এলাকার অনামিকা আদিত‌্য ২০১৩ সালে ১৪০ মিনিটের ওই বাংলা ছবিটির প্রযোজক। তাঁর স্বামী অর্চনের লেখা কবিতার উপর ওই ছবিটি তৈরি হয়। অর্চন আদিত্য ওই সিনেমাটির পরিচালকও। ছবিতে বেশ কয়েকটি গান রয়েছে, যেগুলি গেয়েছেন কলকাতা ও মুম্বইয়ের একাধিক গায়ক-গায়িকা। ২০১৩ সালেই সিনেমাটি দিল্লির ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়। যেহেতু ছবিতে বেশ কয়েকটি গান রয়েছে, তাই দম্পতির কয়েকজন শুভানুধ‌্যায়ী তাঁদের পরামর্শ দেন, গানের সত্ত্ব সঙ্গীত সংস্থাকে বিক্রি করতে। তাতে তাঁদেরও রোজগার হবে। আবার সিনেমাটিরও প্রচার হবে। সেইমতো ২০১৪ সালে তাঁদের সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার কসবার রাজডাঙায় একটি সঙ্গীত সংস্থার যোগাযোগ হয়। ওই অফিসের কর্ণধার তাঁদের সঙ্গীতের সত্ত্বটি কিনে নেন। নথিতে সইসাবুদও হয়। কিন্তু কোনও টাকা তাঁদের দেওয়া হয়নি। এর পর থেকে তাঁরা ওই ব‌্যক্তির দু’টি ঠিকানায় গিয়েও তাঁকে পাননি। ফোনেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

Advertisement

পুলিশের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এলাকায় দম্পতি ওই ব‌্যক্তির সন্ধান পান। ওই ব‌্যক্তি তাঁদের জানান, কয়েকটি টেলিকম সংস্থায় ওই গানগুলি কলার টিউন ও রিং টোনের জন‌্য বিক্রি করতে পেরেছেন। কিন্তু কোনও টাকা তাঁরা পাননি। এর পরই ওই দম্পতি জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত সংস্থার কর্ণধার তাঁদের তৈরি ছবিটি বেআইনিভাবে বিক্রি করেছেন মুম্বইয়ের একটি ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মে। তাঁরা ওই ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মে গিয়ে তার প্রমাণ পান। এ ছাড়াও অভিযোগ, বেআইনিভাবে ওই সিনেমার গানগুলি বিক্রি করা হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ‌্যানেলে। দম্পতির অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্নভাবে মুম্বইয়ের ওই ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মকে প্রশ্ন করেও কোনও উত্তর পাননি। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, ওটিটি প্ল‌্যাটফর্মে দেখানো তাঁদের ছবিতে পালটে ফেলা হয়েছে ‘টাইম লাইন’। ২০১৩ সালের বদলে দেখানো হয়েছে সেটি ২০১৪ সালের ছবি। এ ছাড়াও নায়ক, নায়িকা, পরিচালকের ভুয়ো নাম ব‌্যবহার করা হয়েছে সিনেমার টাইটেল কার্ডে। বাংলার গায়িকার জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে মুম্বইয়ের এক গায়িকার নাম। তারও কোনও সদুত্তর না পেয়ে দম্পতি লালবাজারে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.