Jeetu Kamal

‘আবেগের আড়ালে অর্থের লোভ আর…’, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাকে বিঁধলেন জীতু?

গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনেতার মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১৭:১১

options
link
‘আবেগের আড়ালে অর্থের লোভ আর…’, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাকে বিঁধলেন জীতু?
রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জীতু

মার্চ থেকে জুলাই। পেরিয়েছে ৪ মাস। তবে এখনও অধরা অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুরহস্য। ঠিক কী হয়েছিল, কীভাবে মৃত্যু, প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা, কিছুই এখনও স্পষ্ট নয়। প্রথম দিকে অনেকেই রাহুলের হয়ে সরব হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ব্যস্ত হয়ে গিয়েছেন নিজেদের জীবনে। আর সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেই ২৯ জুলাই অর্থাৎ রাহুলের মৃত্যুর ঠিক চার মাস পূর্তির রাতে টলিপাড়ার একাংশকেই বিঁধলেন পর্দার সত্যজিৎ রায় অর্থাৎ জীতু কমল (Jeetu Kamal)। লিখলেন, ‘মা গো, বাবা গো, পিসি গো-এইসব আবেগের ডাকের আড়ালে কোথাও যেন অর্থের লোভ আর আত্মপ্রচারের আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠল।’ 

Advertisement

গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও অভিনেতার মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরা। কারণ গোড়া থেকেই ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের হাতে আসা ফুটেজে অসঙ্গতি পাওয়ায় রহস্য দানা বেঁধেছিল। এরপর রাহুলের মৃত্যুতদন্তের দাবিতে এক মাসব্যাপী বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিতে ঝড় বয়ে গেলেও সময়ের সঙ্গে থিতিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে গত জুন মাসে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও এখনও রহস্যভেদ হয়নি। 

Advertisement

এরই মাঝে গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাতে রাহুলকে নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন জিতু। লেখেন, ‘আজও আরেকটি ২৯ পেরিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত কোথায়? কোথায় সেই তদন্ত চাওয়ার মুখগুলো? কোথায় সেই তাগিদ? কোথায় সেই টিপ্পনি, যে বেঁচে থাকা মানুষ কখন আন্দোলন করবে আর কখন চুপ করে থাকবে? কীভাবে চলে গেল একটি প্রাণ-সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত। আমরা শুধু মানুষে মানুষে বিভক্ত হলাম।’ রাহুলের মৃত্যুর পর অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই কেঁদে ভাসিয়েছিলেন। তুলে ধরেছিলেন তাঁরা রাহুলের কতটা কাছের। এদিন তাঁদের নিশানা করে জিতু লেখেন, ‘মা গো, বাবা গো, পিসি গো-এইসব আবেগের ডাকের আড়ালে কোথাও যেন অর্থের লোভ আর আত্মপ্রচারের আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠল। সেই দৌড়ে আমরা হারিয়ে ফেললাম মানবিকতা, হারিয়ে ফেললাম নিজের জীবনকেও। হয়তো একদিন আমরাও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখনও হয়তো কেউ খোঁজ নেবে না, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ খোঁজ রাখবেও না।’ 

Advertisement

 

রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির বিচারের দাবিতে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন জীতু কামাল। রাহুলের ছবির পাশে নিজের মালা পরানো ছবি রেখে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে শিল্পী-কলাকুশলীদের ‘অবহেলা’ করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেতা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে ‘ধান্দাবাজ’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এহেন শোকযাপনের জন্য অবশ্য গোড়া থেকেই কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে জীতুকে। সেলেবপাড়ার অন্দরেও যা নিয়ে কম ফিসফাস হয়নি! এমনকী অভিনেতাকে পালটা ‘স্থান-কাল-পাত্র’ বিচার করে ব্যক্তিগত সমস্যা তুলে ধরার নিদান দিয়েছিলেন একাংশ। কেউ ‘সস্তার প্রচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তো কেউ বা ‘ফুটেজখোর’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.