পঁচিশ সালের নভেম্বর মাসে ‘কান্তারা’র এক দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঋষভ শেট্টির দৈব নৃত্যকে ‘ভূত’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন রণবীর সিং। ‘ইফি’র মঞ্চ থেকে সেই বিতর্কিত মন্তব্য ভাইরাল হতেই বলিউড অভিনেতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তোলে কর্নাটকের তুলু সম্প্রদায়। যার জেরে এফআইআর-এর পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ফৌজদারী মামলাও। সোমবারই সংশ্লিষ্ট ‘কান্তারা’ মামলায় কর্ণাটক উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন রণবীর সিং (Ranveer Singh)। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করে। এবার সেই শুনানিতেই হাই কোর্টের কাছে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল রণবীর সিংকে।
আরও পড়ুন:
“দেবদেবীকে নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আপনি বড্ড বেপরোয়া। আপনার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন তো কর্ণাটকের মেয়ে। তাই এখানকার স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।”
সোমবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে পিটিশন দাখিল করে অভিনেতা যুক্তি দেন, “ঋষভ শেট্টির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছিলাম। আর সেটাকেই অন্যায়ভাবে অপরাধের রং লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ জোড়া আইনি নোটিস জারি করায় রণবীরের আইনজীবীর মন্তব্য, “অভিনেতার উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।” সেই মর্মেই দিনের দিন জরুরী শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন রণবীরের আইনজীবী। তবে সোমবার কর্ণাটক আদালত আবেদন খারিজ করার পর পালটা রণবীর সিংকে ভর্ৎসনা করে বলা হয়, “একজন বলিউড তারকা হওয়ার কারণেই কি বিষয়টি জরুরিভাবে নেওয়া উচিত নাকি হলিউড তারকা হলে এরকম অগ্রাধিকার প্রাপ্য?” এবার মঙ্গলবারের শুনানিতেও কোর্টের কাছে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতাকে।
“কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অধিকার আপনার নেই। আপনি রণবীর সিং হোন বা যে কেউ, মুখে লাগাম থাকা উচিত।”

যদিও অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে স্বস্তি পেয়েছেন রণবীর সিং, তবে ঘটনার পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন অভিনেতার উদ্দেশে বলেন, “আপনি তো তারকা। বহু মানুষের কাছে আপনারা অনুপ্রেরণা। কাজেই আপনার আরও দায়িত্বজ্ঞান থাকা উচিত। আপনি মিমিক্রি করুন। কিংবা যা ইচ্ছে হয় করুন, কিন্তু কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অধিকার আপনার নেই। আপনি রণবীর সিং হোন বা যে কেউ, মুখে লাগাম থাকা উচিত।” রণবীর সিংয়ের উদ্দেশে আদালতের তরফে এও বলা হয় যে, “জনসমক্ষে মন্তব্য় করার আগে তারকাদের আরও সাবধানী হওয়া উচিত। কোনও দেবদেবীকে নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কর্ণাটকের জনগণের অনুভূতিকেও উপেক্ষা করা যাবে না। আপনি বড্ড বেপরোয়া। আপনার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন তো কর্ণাটকের মেয়ে। তাই এখানকার স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।”
এর আগে ক্ষমা চেয়ে রণবীর সিং জানিয়েছিলেন, “আমি শুধু ঋষভ শেট্টির অসাধারণ পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি জানি, এই ধরণের দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য কতটা কসরত করতে হয়। তাই মন থেকে ওঁকে শ্রদ্ধা করি। আমি বরাবর আমাদের দেশের প্রত্যেকটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে গভীরভাবে সম্মান করে এসেছি। কিন্তু যদি কারও ভাবাবেগে আমি আঘাত করে থাকি তাহলে মন থেকে ক্ষমা চাইছি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘সেলিব্রিটি বলেই আমাকে ইউজ করেছেন’, মমতার তারকা-প্রীতি নিয়ে বেনজির তোপ রচনার
-
বকেয়া পারিশ্রমিক চাইতেই পরিচালকের মারধর! অঝোরে কান্না ‘লাপাতা লেডিজ’-এর অভিনেতার
-
বিশ্বকাপের মাঝেই অনাগত সন্তানের মৃত্যু! শোকে পাথর ডাচ তারকা, পরের ম্যাচগুলি খেলবেন?
-
তারাতলা বিল্ডিং প্ল্যান থেকে আর্থিক লেনদেন, কার নির্দেশে কাজ, জেরায় কী জানালেন কালী?
-
১৫ হাজার বিষ ক্যাপসুল বানিয়ে মহরমের শোভাযাত্রায় গণহত্যার ছক! অসুস্থ বহু, গ্রেপ্তার ফায়াজ