ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই যে মুষলপর্ব শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে, তা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে! ‘বিদ্রোহী’ শিবির এতদিন ধরে নাম না করে ইঙ্গিতে নিশানা করেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন দলের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতাকে রীতিমতো নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন তিনি।
এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে গলা চড়িয়েই রচনা বললেন, ‘‘দলের মুখ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু হুগলি জেতার জন্য আপনার সেলিব্রিটি দরকার ছিল। নাহলে কেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন যে কোনও কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করাননি? আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই আজ হুগলি তৃণমূলের হয়েছে। আপনি আমাকে ইউজ করেননি?” অর্থাৎ তারকা সাংসদের জোরাল দাবি, নিজের ক্যারিশ্মাতেই হুগলির সাংসদ হয়েছেন ‘দিদি নং ১’। এও জানালেন, সাংসদ পদ তিনি ছাড়বেন না।
আরও পড়ুন:
এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে গলা চড়িয়েই রচনা বললেন, ‘‘দলের মুখ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু হুগলি জেতার জন্য আপনার সেলিব্রিটি দরকার ছিল। নাহলে কেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন ফুটপাথ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করাননি? আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই আজ হুগলি তৃণমূলের হয়েছে। আপনি আমাকে ইউজ করেননি?” অর্থাৎ তারকা সাংসদের জোরাল দাবি, নিজের ক্যারিশ্মাতেই হুগলির সাংসদ হয়েছেন ‘দিদি নং ১’। এও জানালেন, সাংসদ পদ তিনি ছাড়বেন না।
দলনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে হাসিমুখে জানিয়েছিলেন ‘দিদি নং ১’। কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই সেই সুর গেল বদলে! সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ফুঁসে উঠলেন রচনা, তা বেশ চমকপ্রদ। জেলার আরেক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এখনও মমতার পাশে, তাঁর প্রতি তোপ দেগে রচনার আক্রমণ, ‘‘ওঁর (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) যদি এত দম, তাহলে নিজের ছেলেকে বিধানসভা ভোটে জেতাতে পারলেন না কেন? এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে মমতার কাছে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনি কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি।”
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙন হয়েছে। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে জিতেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের ২৯ জন। এর মধ্যে বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮। সেই ২৮ জনের মধ্যে ২১ জনই ‘বিক্ষুব্ধ’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে এনডিএ-কে সমর্থন করতে এনসিপিআই-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। এর নেতৃত্বে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বীরভূমের শতাব্দী রায়। সপ্তাহ দুয়েক আগে দিল্লিতে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করেছেন। কাকলি-শতাব্দীদের শিবিরে নাম লেখালেও সেসময় বিদেশে থাকায় তাঁদের সঙ্গে দিল্লি যেতে পারেননি হুগলির তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি আলাদা করে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজের অবস্থান জানান।
এরপর কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বেশ প্রশংসা করেন রচনা। দলনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে হাসিমুখে জানিয়েছিলেন ‘দিদি নং ১’। কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই সেই সুর গেল বদলে! সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ফুঁসে উঠলেন রচনা, তা বেশ চমকপ্রদ। জেলার আরেক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এখনও মমতার পাশে, তাঁর প্রতি তোপ দেগে রচনার আক্রমণ, ‘‘ওঁর (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) যদি এত দম, তাহলে নিজের ছেলেকে বিধানসভা ভোটে জেতাতে পারলেন না কেন? এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে মমতার কাছে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনি কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল
-
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর
-
গাড়িতে বোমা, প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করে ‘সহমরণে’র ফাঁদ, তারপর…