Nusrat Jahan

নুসরতের ‘সই জাল’ করে টাকা তুলেছেন রাজর্ষি! অভিযোগ উঠতেই কী বলছেন পরিচালক?

অভিনেত্রীর চ্যাট প্রকাশ্যে এনে বিস্ফোরক প্রযোজকদ্বয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২৫, ১৭:৪৬

options
link
নুসরতের ‘সই জাল’ করে টাকা তুলেছেন রাজর্ষি! অভিযোগ উঠতেই কী বলছেন পরিচালক?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিন কয়েক ধরেই চর্চার শিরোনামে রাজর্ষি দে। সম্প্রতি পরিচালক নিজেই সিনেমা তৈরি থেকে বিরতি নিতে চেয়েছিলেন। সেই আবহেই রাজর্ষির বিরুদ্ধে ভুয়ো নথি, স্ট্যাম্প, এমনকী লোগো ব্যবহার করে প্রযোজকের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরই রাজর্ষি দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়। এবার অভিযোগ, নুসরত জাহানের সই জাল করেও তিনি নাকি টাকা তুলেছেন। টলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিস্ফোরক অভিযোগকারী দুই প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ এবং প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য।

Advertisement

সমস্যার সূত্রপাত, ‘ও মন ভ্রমণ’ সিনেমার প্রযোজনা ঘিরে। অরিন্দম ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে ‘ও মন ভ্রমণ’ ছবিটির যৌথ প্রযোজনায় ছিলেন নুসরত জাহানও। পরিচালক ঠিক করে শুটিংয়ের খরচের হিসেব দিতে না পারায় তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য বিনিয়োগ করা বন্ধ করে দেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই সিনেমার অভিনয়রত তারকারা পারিশ্রমিকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। সমান্তরালে পরিচালকও তাঁদের ফোন করে টাকা মিটিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু হিসেবের গড়মিল ঠাহর করতে পারায় রাজর্ষির অনুরোধ রাখেননি দুই প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ এবং প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য। ফলস্বরূপ শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যৌথ প্রযোজক নুসরত জাহান নিজেই ‘ও মন ভ্রমণ’ সিনেমার শুটিং শুরু করতে উদ্যত হন। বাকি দুই প্রযোজক অরিন্দম-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন তিনি এক পাঁচতারা হোটেলে। সেখানেই ফাঁস হয় বড় রহস্য!

Advertisement
প্রযোজকের ফাঁস করা স্ক্রিনশট

অরিন্দম ঘোষ এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য এক পাঁচতারা হোটেলে নুসরত জাহানের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি এই ছবির জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন? আর এই প্রশ্নের উত্তরেই টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেত্রী যা বলেন, সেটা শুনে মাথায় বাজ পড়ার মতো পরিস্থিতি হয় তাঁদের। নুসরত জানান, তিনি ১০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, যেখানে চুক্তিপত্রে তাঁর সই-সমেত সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ লক্ষ টাকার উল্লেখ রয়েছে। সেই সই নুসরত জাহানকে দেখাতেই তিনি বলেন, এটি তাঁর নকল সই। তিনি মোটেই এরকম কোনও চুক্তিপত্রে সই করেননি। এরপরই প্রযোজকদ্বয় বুঝতে পারেন, রাজর্ষি দে নুসরত জাহানের সই জাল করেই তাঁদের থেকে টাকা তুলেছেন। অন্যদিকে এমন অভিযোগ নিয়ে পরিচালকের মন্তব্য, তিনি কিংবা তাঁর প্রযোজনা সংস্থা মাইকেল অ্যাঞ্জেলো স্টুটিয়োজের কেউই কারও সই জাল করেননি। তাঁর কাছে যে চুক্তিপত্র রয়েছে, সেখানে ১০ লক্ষ টাকার কথাই লেখা। যার মধ্যে ১ লক্ষ বাদে সবটাই নুসরতকে দেওয়া হয়েছে। ১৫ লক্ষ যে চুক্তিপত্রে লেখা ছিল সেটা ভুল। সেই নথিপত্র সব ইম্পা এবং ফেডারেশনের কাছে জমা দিয়েছেন রাজর্ষি দে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রযোজক অরিন্দমের প্রশ্ন, তাহলে তাঁদেরকে ১৫ লক্ষ টাকা লেখা চুক্তিপত্র পাঠালেন কেন?

Advertisement

পালটা রাজর্ষির মন্তব্য, এত বছর টলিউডে কাজ করছেন, আজ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ছবি তৈরি করার সময়ে বাড়ির গয়না বিক্রি করে হলেও বকেয়া টাকা মিটিয়েছেন। কিন্তু কোনওদিন কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেননি। “প্রযোজকের দেওয়া ৭৩ লক্ষ টাকার চেক বাউন্স হয়েছে দু বার। তাই সিনেমার শুটিং আটকে। একথা জানানোর পর তাঁরা এক মিটিং ডাকেন, যেখানে আমি যেতে পারিনি। এরপরই আমার বিরুদ্ধে উলটো অভিযোগ আসা শুরু হয়”, জানিয়েছেন পরিচালক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.