শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়: বুধবার দুপুরে আচমকা যে খবর পেলাম, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে কখনও ভাবিনি। এটা কোনও যাওয়ার বয়স হল! প্রথমে খবরটা বিশ্বাসই করতে পারিনি। অনীকদার (Anik Dutta Death) সঙ্গে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। অনীকদার প্রথম ছবিতেই আমি ছিলাম। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর কথা বলছি। দ্বিতীয় ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এও কাজ করেছিলাম। দুটো ছবিই ইউনিক। দুটো ছবিই দুই ধারার। ওঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে, প্রথম দিকে একটু ভয় লাগত। উনি এত বেশি সেনসিটিভ ছিলেন নিজের কাজ নিয়ে, কারও কাজ যদি একটু এদিক থেকে ওদিক হত, অমনি হাইপার টেনশনের মতো করতেন। সেটা পরের দিকে আমি মজার ছলেই নিতাম।
আরও পড়ুন:
অনীকদা হয়তো একটা বিষয় নিয়ে কারও উপর চিৎকার করছেন, আমি আরও জোরে চিৎকার করে উঠতাম। দ্বিতীয় ছবি থেকে এইটা করতে শুরু করেছিলাম। তখন উনি থতমত খেয়ে বলতেন, ‘কী হল কী হল!’…
অনীকদা হয়তো একটা বিষয় নিয়ে কারও উপর চিৎকার করছেন, আমি আরও জোরে চিৎকার করে উঠতাম। দ্বিতীয় ছবি থেকে এইটা করতে শুরু করেছিলাম। তখন উনি থতমত খেয়ে বলতেন, ‘কী হল কী হল!’ আমি বলতাম, ‘না, তোমার চিৎকারটা ঠিক রেঞ্জে পৌঁছচ্ছে না। আমি আসল রেঞ্জটা দেখালাম।’ তখন আবার শিশুর মতো সারল্যের হাসি দেখতাম অনীকদার মুখে। যেটা অনীকদার সঙ্গে যাঁরা মিশেছেন, তাঁরা বলতে পারবেন। যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা জানেন, আক্ষরিক অর্থেই উনি একজন শিশুর মতোই ছিলেন। কাজেই ঘটনাটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। কারণ উনি যা যা সিনেমা দিয়ে গিয়েছেন বাংলায়, একেকটা এই রকম ব্যতিক্রমী সিনেমা, অথচ মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। কোনও ছবি মাথার উপর দিয়ে যায়নি। খুব কম পরিচালক আছেন তাঁর মতো। অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।

বউদিকে হঠাৎ করে, ‘তুমি কিচ্ছু বোঝো না’, বলে ঝাঁজিয়ে উঠলেন। আমি তখন অনীকদার সামনে বউদির সঙ্গে মজা করেছিলাম ‘হ্যাঁ গো, তোমার কোনও বাপেরবাড়ি নেই। এই লোকটার সঙ্গে আছ কী করে!’
দ্বিতীয় ছবির স্মৃতি থেকে বলতে পারি, আরও একটা অভিজ্ঞতার কথা। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর শুটিং চলছিল উত্তর কলকাতার রাস্তার উপর। একটা লোক সাইকেল করে চলে যাচ্ছিল। তাকে দেখে অনীকদা, ‘ধর ধর, ওকে ধর, ওকে আমার লাগবে’ বলে চিৎকার করে উঠলেন। এমন চিৎকার যেন লোকটা চোর! আমি বললাম, ‘অনীকদা এটা কী করছ, লোকে মারবে আমাদের। একে রাস্তার ওপর শুটিং করছি। লোকে বিরক্ত হচ্ছে। তার ওপর এইরকম করছ!’ অনীকদার উত্তর ‘না, ওকে আমার লাগবে পাসিং।’ অর্থাৎ পাসিং শটে সাইকেল চালক ভদ্রলোককে ব্যবহার করা হবে। এবং বউদি তো (অনীক দত্তর স্ত্রী সন্ধি দত্ত) সারাক্ষণ সামনে সামনে দেখতেন অনীকদাকে, ফলে কিছুটা অভ্যস্ত ছিলেন। তখন বউদিকে হঠাৎ করে, ‘তুমি কিচ্ছু বোঝো না’, বলে ঝাঁজিয়ে উঠলেন। আমি তখন অনীকদার সামনে বউদির সঙ্গে মজা করেছিলাম ‘হ্যাঁ গো, তোমার কোনও বাপেরবাড়ি নেই। এই লোকটার সঙ্গে আছ কী করে!’ তার পরে অনীকদার আবার সেই একটা সারল্যর হাসি। খুব মজার অভিজ্ঞতা ছিল। সিনেমাগুলোও সেই রকম ছিল। এই ধরনের সিনেমা বাংলায় কম।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
উরুগুয়েকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে স্পেন, ইতিহাস গড়ে নকআউটে ভোজিনহার কেপ ভার্দেও
-
আবেগের নাম শ্যামাপ্রসাদ! ভারত কেশরী ‘ঘনিষ্ঠ’ শতায়ু অফিসারকে শ্রদ্ধা বিজেপি নেতার
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার