প্রথম পাতা খেলা দেশ বিদেশ ই-পেপার
Saurav Palodhi

‘বড় ছবি, ছোট ছবি, তকমায় বিশ্বাসী নই’, ‘অনেকদিন পর’ মুক্তির প্রাক্কালে অকপট সৌরভ পালোধি

'অনেকদিন পর' প্রযোজক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ে মুগ্ধ সৌরভ পালোধি। কী জানালেন?

Advertisement ad
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:১২

options
link
‘বড় ছবি, ছোট ছবি, তকমায় বিশ্বাসী নই’, ‘অনেকদিন পর’ মুক্তির প্রাক্কালে অকপট সৌরভ পালোধি zoom
'অনেকদিন পর' মুক্তির আগে সৌরভ পালোধি

আপনার পরপর দুটো ছবির পোস্টারেই সাইকেল। ‘অঙ্ক কি কঠিন’ আগে এসেছে। এই শুক্রবার আসছে ‘অনেকদিন পর’। মিল আর অমিল কতটা?
ঠিক (হাসি)। মিল হচ্ছে দুটোই মানুষের গল্প, শিকড়ের গল্প। এবং সত্যি গল্প। সব শ্রেণির জীবনে যেমন ঘটে। মানুষ যেমন একলা হয়ে যাচ্ছে, এটা একসঙ্গে থাকার একটা গল্প। কিছু শ্রেণি হয়তো সংসার চালানোর পয়সা জোগাড় করতে পারছে না। আর কিছু শ্রেণির কাছে টাকা আছে, ব্যয় করার লোক নেই। সেই সব একাকীত্বের গল্প, যাতে সেই ফাঁক-ফোকরগুলো পূরণ হয়।

আর অমিল?
বিষয়গতভাবে অমিল আছে। দুটো ছবির মোটিভ একই। সামাজিক কথা বলার আমার একটা মোটিভ আছে। ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এ যেমন স্কুল খোলার মাধ্যমে সকলে এডুকেশন পাক বলতে চেয়েছিলাম। এখানে আজ না হোক, অনেকদিন পরে হলেও সবাই যেন একসঙ্গে থাকে, এটাই বলার চেষ্টা করেছি। শুধু বাবা, মা, ছেলে, বউ নয় পাঁচটা বন্ধু হলেও যেন একসঙ্গে থাকে। একসঙ্গে থাকাটা খুব জরুরি। একলা হয়ে যাওয়াটা সলিউশন নয়। তাই সংগঠন প্রয়োজন। যে কোনও রকমে।

আমি যে বিপ্লব করে ফেলেছি তা নয়, এরকম অনেক ভালো বা এর থেকেও দারুণ কাজ হচ্ছে। তারা স্পেস পাচ্ছে না। আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে অ্যাকসেস করতে পারি বলে এটা আমার সৌভাগ্য। আমি প্রিভিলেজড। বুম্বাদা যখন বলছেন যে, আপনারা এই ছবিটা দেখুন। এই ছবি হওয়া প্রয়োজন আছে।

Saurav Palodhi discusses his upcoming film Onekdin Por and producer Prosenjit Chatterjee

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছবিটা প্রযোজনা করেছেন, এটা কতটা সাহায্য করবে?
এই ধরনের ছবিতে চট করে কোনও প্রোডিউসার রাজি হন না। আমি ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর জন্য  রানা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। ‘অনেকদিন পর’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রোডিউস করছেন। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এরকম ছবি নিয়ে আমার বহু চেনা-পরিচিত বা সিনিয়র, জুনিয়র, পরিচালক এমন গল্প নিয়ে বসে আছে বা সিনেমা বানিয়েছে, সেইগুলো জায়গা মতো প্লেসড হচ্ছে না। কারণ একা সেই খরচ করা বা রিলিজ করানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আমি একটু লাকি। আমি যে বিপ্লব করে ফেলেছি তা নয়, এরকম অনেক ভালো বা এর থেকেও দারুণ কাজ হচ্ছে। তারা স্পেস পাচ্ছে না। আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে অ্যাকসেস করতে পারি বলে এটা আমার সৌভাগ্য। আমি প্রিভিলেজড। বুম্বাদা যখন বলছেন যে, আপনারা এই ছবিটা দেখুন। এই ছবি হওয়া প্রয়োজন আছে। তখন সেটা তো একটু ভ্যালু অ‌্যাড করেই। ‘দোস্তজী’র ক্ষেত্রেও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রেজেন্ট করার পর অনেক মানুষ দেখেছিল। ছবিটা তো ভালোই। কিন্তু এই যে মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য তো একটা নামের প্রয়োজন হয়। পার্ট করার জন্য বলছি না, প্রেজেন্ট করার জন্য। স্টাডি করে বুঝেছি, বুম্বাদা এই ধরনের কাজ যাতে আরও পোর্ট্রেড হয়, আরও লোকের কাছে পৌঁছয়, সেটা আপ্রাণ চাইছেন।

‘যে জানালাগুলোর আকাশ ছিল’ নাটকটা এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যেটা আপনার ছবিটাকে এগিয়ে দেবে মনে হয়?
নাটক রিচ বাট মাইনরিটি আর্ট। একটা নাটক আমাদেরই বানানো সিনেমাকে এগিয়ে দিতে পারবে কি না, এটা যে প্রশ্ন হিসাবে আসছে, এটা আমার কাছে গর্বের, আনন্দের। অনেক মানুষ দেখছে। এর আগে অন্য নাটকও যেভাবে চলেছে তো, একই রকম । এটার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে আলাদা করে খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই। এই নাটকটায় তো আরও উচ্ছ্বাস নেই, কারণ রাহুলদা। খুব কাছের। আরও বেশি কাছের হয়ে গিয়েছে নাটকটা। সেটা ছবিটাকে হেল্প করবে কি না জানি না। ছবিটা ছবির মতো করেই চলুক। এটাকে হেল্প করতে পারবে একমাত্র মানুষ দেখে। ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর সময় প্রতিজন দেখে আরও পাঁচজনকে বলেছিল ছবিটা দেখার জন্য। এর থেকে বড় প্রোমোশন, হোর্ডিং, নিউজ পেপার, বিশাল পয়সা খরচা করেও হয় না, যদি মানুষ মানুষকে বলে।

Saurav Palodhi shares insights about Onekdin Por
সৌরভ পালোধি

মানুষ যদি নিজের শিকড়ের গল্প চোখের সামনে দেখতে পায়, তাহলে সেই মানুষই ব্যবস্থা করে দেয় যাতে আরও দু’জন দেখতে পায়। একশো টাকায় বানানো হলেও সেটা ছবি বা একশো কোটিতে বানানো হলেও তার ডেফিনিশন ফিল্ম। টাকা বা স্টার কাস্টের নিরিখে বড়-ছোট ছবির বিষয়টা আনতে চাই না।

বিশ্বকাপের মরশুম, একটা বড় ছবির পর আসছে আপনার ছবি, এগুলো কি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে?
আমি নিজেই বিশ্বকাপ দেখতে ব্যস্ত (হাসি)। রাতে ঘুম হচ্ছে না, দিনের বেলায় ঘুমোচ্ছি। তবে ওয়ার্ল্ড কাপ থাকুক, রাত্রিবেলা খেলা দেখাও থাকুক। বড় ছবি, ছোট ছবি– এই টার্মে বিশ্বাসী নই। প্রচুর নামী মানুষ অভিনয় করছেন বলে সেটা বড় ছবির আখ্যা পাবে। আর নামী মানুষ ছবিতে না থাকলে বড় ছবির আখ্যা পাওয়া যায় না, এটায় আমি বিশ্বাস করি না। আর কোনও ছবির জন্য অন্য কোনও ছবি মরে যায়, তাও মানি না। মানুষ ‘অভিমান’ দেখবে, ভালো লাগলে অন্যদের বলবে। মানুষ ‘অনেকদিন পর’-ও দেখবে। ভালো লাগলে সেটাও পাঁচজনকে বলবে। বিশ্বাস করি, মানুষ যদি নিজের শিকড়ের গল্প চোখের সামনে দেখতে পায়, তাহলে সেই মানুষই ব্যবস্থা করে দেয় যাতে আরও দু’জন দেখতে পায়। একশো টাকায় বানানো হলেও সেটা ছবি বা একশো কোটিতে বানানো হলেও তার ডেফিনিশন ফিল্ম। টাকা বা স্টার কাস্টের নিরিখে বড়-ছোট ছবির বিষয়টা আনতে চাই না। ‘ধুরন্ধর’ বড় ছবি আর ‘দোস্তজী’ ছোট ছবি, মানতে পারব না। যার যেমন জনার পছন্দ, সে তেমন ছবি দেখবে। সবক’টাই দেখা প্রয়োজন। প্রচুর টাকা খরচ করে প্রচুর লোকের জন্য যে ছবি বানানো হয়, সেগুলোও দেখুক, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির ভালো। আর আমাদের মতো যারা চেষ্টা করছি, সবই বার বার দাগিয়ে দিচ্ছে ছোট ছবি, সেগুলোও দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে।

Saurav Palodhi talks about his new film Onekdin Por and praises producer Prosenjit Chatterjee

আপনার নিজস্ব দর্শক তৈরি হয়েছে। কতটা আশাবাদী?
আমার দর্শক বলে কিছু হয় না। মানুষ সমাজের গল্প দেখতে চায় থিয়েটার এবং ফিল্মে। আমি তো সভা করতে পারব না, গল্প বলার কাজ করি থিয়েটারের মাধ্যমে, সিনেমা কম করি। কারণ কম পাই। আমি একটা গল্প বলার চেষ্টা করি যেখানে মানুষ নিজেদের দেখতে পাবে।

চিত্রাঙ্গদা, বিমল গিরি বিভিন্ন ছবিতে ছাপ ফেলেছেন। সেটা প্লাস পয়েন্ট। কী বলবেন?
চিত্রাঙ্গদা-বিমল সবাই আমার খুব পছন্দের। এই ছবি বানানোর আগে চিত্রাঙ্গদার কোনও ফিল্ম দেখিনি। তবে ‘কালার ব্লাইন্ড’ নাটকে ওর কাজ দেখে আমার ভালো লাগে। তাই কাস্ট করা। ও খুবই ইন্টেলিজেন্ট অ্যাক্টর। অভিনয় নিয়ে চর্চা করে। পুরো কাস্টটাই যদি দেখো, তারা সবাই অ্যাক্টর। কে পার্ট করছে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেন আর কেমন এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করি, মানুষ ‘নাম’ দেখে সিনেমা দেখে না এখন। আমরা সবাই ‘লাপতা লেডিজ’ দেখেছি কিন্তু কেউ সেই হিরো-হিরোইনদের নাম বলতে পারব না গুগল না করে। শিকড়ের গল্প বলা গেলে আর ভালো পারফরম্যান্স হলে, মানুষ দেখবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন