দাদা সলমন খান জানিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়িটাই একটুকরো হিন্দুস্থান। যেখানে সর্বধর্মের সহাবস্থান। খান পরিবারে যেমন ইদ উদযাপন হয়, তেমনই ধুমধাম করে গণপতির আরাধনাও হয়। শুধু কি তাই? ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে পদবির জেরে একাধিকবার ‘দেশদ্রোহী’ খোঁটা খেতে হলেও সলমনরা বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে এসেছেন। ভাই সোহেল খানও (Sohail Khan) সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত। ভেবেছিলেন, পুত্রসন্তান হলে সাধ করে নাম রাখবেন ‘রাম খান’। কিন্তু শেষমেশ সেই ইচ্ছেপূরণ হয়নি। কেন? সম্প্রতি এক রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে নিজেই ভাগ করে নিলেন সেকথা।
আরও পড়ুন:
“আমি চেয়েছিলাম, আমার ছেলের নাম ‘রাম খান’ রাখতে। আমরা আসলে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, তাই। কিন্তু…”
রাম-নামের পাশে ‘খান’ পদবি দেখে অনেকেই হয়তো ফুঁসে উঠতে পারতেন! কেউ বা খুঁজে পেতেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। কিন্তু সোহেলের ইচ্ছেপূরণ হল না কেন? সম্প্রতি প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সজদেহর সঙ্গে কুনাল খেমুর রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ গিয়ে সেকথা ফাঁস করলেন সলমনের ভাই। সোহেল জানান, “সীমা যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল তখন আমরা মজা করে ঠিক করেছিলাম যে, পুত্রসন্তান হলে নামটা আমি রাখব, আর কন্যাসন্তান হলে নাম রাখবে সীমা। আমি চেয়েছিলাম, আমার ছেলের নাম ‘রাম খান’ রাখতে। আমরা আসলে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, তাই। কিন্তু সীমার মনে অন্য একটি নাম ছিল।” তারপর? সোহেল খানের সংযোজন, “ডাক্তার যখন জানালেন যে ছেলে হয়েছে, তখন আমি ঘরে ঢুকলাম। সীমা আমার দিকে তাকাল। তখনও ওঁর ঘোর কাটেনি। ও আমাকে দেখেই বলল- ‘নির্বাণ কেমন আছে?’ সীমা যেভাবে ‘নির্বাণ’ নামটা উচ্চারণ করল সেদিন, তাতে আমার আর নাম বদলানোর কথা মনেই হয়নি কখনও।” আসলে বড় দাদা সলমন খানও তো বরাবর সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাই দিয়ে এসেছেন।

ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হলেও একাধিকবার পদবীর জেরে ‘দেশদ্রোহী’ খোঁটা খেতে হয়েছে ভাইজানকে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান ভুলে নেটপাড়াতেও বারবার দাবি করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানে চলে যান।’ তৎসত্ত্বেও বারবার আন্তর্জাতিক ময়দানে গর্বের সঙ্গে ভারতের সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন সলমন খান। কখনও সিনেমার মাধ্যমে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন তো কখনও বা আবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুলে দুস্থদের সাহায্য করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আদতে মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী। তবে মুসলিম ধর্মাবলম্বী হলেও গোমাংস ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেন না সলমন খান। এপ্রসঙ্গে সলমন একবার জানান, “আমি গোমাংস এবং পর্ক (শুয়োরের মাংস) ছাড়া সবকিছু খাই। গোমাতা তো আমাদেরও মা। আসলে আমার নিজের মা, সলমা খান (সুশীলা চরক) হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর বাবা মুসলিম। এদিকে আমার আরেক মা হেলেন, খ্রিস্টান। আমার মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকি আমি। তাই আমার কাছে সব ধর্মই সমান। প্রত্যেকেরই উচিত সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করা। আমার বাড়িটাই তো একটুকরো হিন্দুস্তান।” পরিবারের এহেন শিক্ষাতেই যে শিক্ষিত সোহেল, সেটাই জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ