পুজোর ছবি আসছে, দিব্যাণীর জন্য প্রথমবার। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পাশে বসে সাক্ষাৎকার দিতে কতটা ভয়?
দিব্যাণী : (হাসি) একটু ভয় লাগছে। তবে সিনেমা আসছে বলে এক্সাইটমেন্ট বেশি। সিরিয়ালের (ফুলকি) পর এটা আমার প্রথম ছবি। সেটা পুজোর ছবি এবং সৃজিত স্যরের ছবি। বড় পাওনা। এত বড় বড় অ্যাক্টরদের সঙ্গে প্রথম ছবিতে আসছি। প্রচণ্ড উত্তেজনা হচ্ছে। ১৫ অক্টোবরের পর দর্শক কী বলবে তার অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন:
দিব্যাণীর মতো ফ্রেশ ট্যালেন্টকে নিলেন?
সৃজিত : ‘ভারতী’র চরিত্রের মধ্যেই রয়েছে অন্তর্নিহিত ইনোসেন্স। সেটা যাঁরা ‘পথের দাবী’ পড়েছেন, তাঁরা জানেন। ভারতী যে চোখে পৃথিবীটাকে দেখে, যেটা নিয়ে সব্যসাচী মল্লিকের সঙ্গে ভারতীর একটা খুব সুন্দর সিন-ও আছে। উপন্যাসের মতো ছবিতেও আছে, সব্যসাচীর স্বাধীনতা সংগ্রামের যে পন্থা, সেখানে যে ভায়োলেন্স, খুনোখুনি, তা নিয়ে ভারতীর মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব নিষ্পাপ, অলমোস্ট ‘নাইভ’ একটা অ্যাঙ্গেল আছে। সেই জায়গা থেকে একদম নতুন মুখ দরকার ছিল। যে মুখের সঙ্গে কোনও ব্যাগেজ নেই। দর্শক যে মুখ সেভাবে দেখেনি। দিব্যাণীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মনে হয়েছিল ওকে খুব ভালো লাগবে।
ক্ষমতার পচনের গল্প, আদর্শের সঙ্গে পলিটিক্যাল অপারচুনিজমের যে সংঘাত, সেটা তখনও যা ছিল, এখনও তাই আছে। শুধু পার্টির নামগুলো পালটে গেছে।
পুজো রিলিজের সময় এমন সিরিয়াস ছবি, দর্শক কতটা আগ্রহী হবে?
সৃজিত : ২০১০ থেকে যদি দেখি, পুজো রিলিজে কী ধরনের ছবি ওয়ার্ক করবে এটার কোনও নিয়ম নেই। যদি আমার ছবিগুলোই দেখি, ‘অটোগ্রাফ’, ‘২২ শে শ্রাবণ’, ‘মিশর রহস্য’, ‘চতুষ্কোণ’, ‘রাজকাহিনী’, ‘জুলফিকার’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘গুমনামী’, ‘দশম অবতার’, ‘টেক্কা’– এই দশটা ছবি, সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের। ‘রাজকাহিনী’-র মতো ডিপ্রেসিং ছবি ব্লকবাস্টার। আমার মনে হয়, বিষয় কীভাবে হ্যান্ডল করা হচ্ছে, কতটা মনোগ্রাহী হচ্ছে এবং কনটেন্ট কতটা জাস্টিফায়েড হচ্ছে তার ওপর সব নির্ভর করে।

শরৎ চন্দ্রের ‘পথের দাবী’-র যে মূল জায়গা, উপন্যাসটা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, অর্থাৎ ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন বাধা পেয়েছিল। উপন্যাসের একশো বছরে আসছে আপনার ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। একশো বছর আগে যা ছিল, তার থেকে এখন খুব বেশি বদল আসেনি।
সৃজিত : একেবারেই তাই। আমার আগের ছবি ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ নিয়ে মানুষ জিজ্ঞেস করছিল ২০০২-এর গল্প, ২০২৬ সালে কেন প্রাসঙ্গিক। ওই একই উত্তর যে, ক্ষমতার পচনের গল্প, আদর্শের সঙ্গে পলিটিক্যাল অপারচুনিজমের যে সংঘাত, সেটা তখনও যা ছিল, এখনও তাই আছে। শুধু পার্টির নামগুলো পালটে গেছে। একই ভাবে একশো বছর আগে ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে, প্রতিবাদ করলে ক্ষমতা যে ভাবে শ্বাসরুদ্ধ করত, এখনও তাই করে। এখনও লোকজন ব্যান্ড হয়, নির্বাসিত হয়। আমরা দেখেছি তসলিমা নাসরিনের ক্ষেত্রে। এখানে ইন্ডাস্ট্রিতে অনির্বাণ, ঋদ্ধির ক্ষেত্রে। এটা পালটায়নি।
দিব্যাণীর এমন ছবি নিয়ে প্রস্তুতি কেমন ছিল?
দিব্যাণী : ‘পথের দাবী’-র অডিও স্টোরি শুনেছি। আগে আমি যে চরিত্রটা করতাম, সেটা খুব ছটফটে ছিল, ইনোসেন্টও ছিল। কিন্তু এখানে সারল্যটা অন্যরকম। সে কম কথা বলে কিন্তু নিজের মতামত দিতে ভয় পায় না।
এটা পিরিয়ড ছবি সময়টা অনেক আলাদা।
দিব্যাণী : তার জন্য আমি ক্যারেক্টার স্কেচ করেছিলাম। বাকিটা সৃজিত স্যর গাইড করেছেন আমাকে। কতটা লজ্জা পেতে হবে, কোথায় কেমন তাকাতে হবে পুরোটা ভেবে নিয়েছিলাম। ছবিতে অপূর্ব (ঋক চট্টোপাধ্যায়) আর ভারতী জুটি। ঋকদার সঙ্গে কাজ খুব উপভোগ করেছি। প্রথমে কথা বলছিলাম না। দু’-তিনদিন যাওয়ার পর ব্যপারটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। অ্যাকশন বলার আগে ঋকদা এমন কিছু বলে দিত, প্রচণ্ড হাসি পেত। তারপর মুহূর্তে ঋকদা সিরিয়াস হয়ে যেত। খুব ভালো সুইচ অন-অফ করতে পারে। খুব মজা হয়েছে ঋকদার সঙ্গে কাজ করে।
দিব্যাণী, ঋকের সঙ্গে কথা হয় আমার। ওরা যেভাবে রাজনীতি, সমাজ, কিংবা সম্পর্ককে দেখে, যেভাবে সংগীত দেখে, সেগুলোর সঙ্গে আমাকে পরিচিত করিয়েছে।

সৃজিতের কাছে কতটা বকুনি খেয়েছেন বা প্যাম্পার্ড হয়েছেন?
দিব্যাণী : বকুনি খাইনি। বকুনি খাওয়ার ভয়ে ছিলাম। তার জন্য সব মুখস্থ করে গিয়েছি। ঋকদাও ভয়ে ছিল। আমরা দু’জনেই মুখস্থ করে যেতাম শুটিংয়ে। কয়েকটা জায়গা যেখানে বুঝতে পারিনি সেখানে সৃজিত স্যর বুঝিয়ে দিয়েছেন।
জেন জি-দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা?
সৃজিত : দুর্দান্ত! আমি তো মনে করি জেন জি শুধু নয়, মিলেনিয়ালস হোক, জেন এক্স হোক, আমি সবসময় শিখতে চাই তাদের থেকে। যেমন, দিব্যাণীর কাছ থেকে ইনস্টাগ্রাম শিখছি। কীভাবে ইনস্টাগ্রামে রিলস শুট করতে হয়, গ্রিড ইত্যাদি বিষয় শিখছি। ওরা এ ব্যাপারে অসম্ভব পটু। ওরা ফেসবুকটাকে ধর্তব্যের মধে্যই রাখে না। ওটা বুমারদের জিনিস, ওটা নিয়ে ওরা ইন্টারেস্টেড নয়। ওরা যেভাবে চারদিকের পৃথিবীটাকে দেখে সেটা নিয়েও দিব্যাণী, ঋকের সঙ্গে কথা হয় আমার। ওরা যেভাবে রাজনীতি, সমাজ, কিংবা সম্পর্ককে দেখে, যেভাবে সংগীত দেখে, সেগুলোর সঙ্গে আমাকে পরিচিত করিয়েছে। যে কোনও প্রজন্মের কাছ থেকেই অন্য প্রজন্মের অনেক কিছু নেওয়ার আছে।
অবশেষে আবির চট্টোপাধ্যায়কে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চরিত্র দিলেন এই ছবিতে।
সৃজিত : (হাসি) তা নয়! আমি আবিরকে বাঙালির সবচেয়ে আইকনিক চরিত্রগুলোর মধ্যে একটা ‘স্যাটা বোস’ দিয়েছি, ‘চৌরঙ্গী’র।

আবিরকে এমন একটা ভিলেনের চরিত্র দিয়েছিলাম ‘রাজকাহিনী’-তে, কোনওদিন কেউ তাকে এমন চরিত্রে ভাবতেও পারে না। আবির যতই অভিমান করুক, গোসা করুক, যে তুমি তো অনির্বাণ, যিশু, পরমকে ভালো ভালো পার্ট দাও। যখনই আমি আর আবির একসঙ্গে কাজ করেছি, ইতিহাস হয়ে গেছে।
আবার তো উত্তমকুমার অভিনীত ‘সব্যসাচী’ চরিত্রে আবির এই ছবিতে।
সৃজিত : হ্যাঁ। শুধু তাই নয়, আবিরকে এমন একটা ভিলেনের চরিত্র দিয়েছিলাম ‘রাজকাহিনী’-তে, কোনওদিন কেউ তাকে এমন চরিত্রে ভাবতেও পারে না। আবির যতই অভিমান করুক, গোসা করুক, যে তুমি তো অনির্বাণ, যিশু, পরমকে ভালো ভালো পার্ট দাও। যখনই আমি আর আবির একসঙ্গে কাজ করেছি, ইতিহাস হয়ে গেছে। অভিজিৎ পাকড়াশীকে নিয়ে যত না কথা হয়, সূর্য সিনহাকে নিয়ে বেশি হয়। অথচ সে একটা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। অভিজিৎ আর অমৃতার বিয়েতে পিছনে দাঁড়ানো সূর্য তো বাঙালির ভগ্ন হৃদয়ের মিম হয়ে গেল। ওটা আত্মত্যাগের টেমপ্লেট। আমি যা বলছি তাতে দ্যাখো দিব্যাণীর মুখে একগাল হাসি। কারণ ওদের পুরো প্রজন্ম সূর্য সিনহার ভক্ত।
পুজোয় সেরকম লড়াই নেই। বাকি তিনজন প্রযোজক এতটাই পোড়খাওয়া, শক্তিশালী, ম্যাক্সিমাম শোজ ওরাই পাবে। আমরা একটু কম শো পাব। কিন্তু তাতে ক্ষতি নেই।

যে মানুষটাকে ‘ফেলুদা’র চরিত্রে ভেবেছেন আগে তাঁকে ‘শরৎচন্দ্র’ রূপে ভাবলেন কী করে?
সৃজিত: এটা মারাত্মক এপিফ্যানি, বিদ্যুৎ ঝলকের মতো মাথায় এসেছিল। তখন অন্য প্রযোজকের ছবিটা করার কথা, তাদের অফিসে বসে অ্যালেনের প্রন কাটলেট খাচ্ছিলাম। আমার চারপাশে শরৎচন্দ্রের চারটে ছবি ছিল। তখন ভাবছি কে করবে? প্রন কাটলেটে কামড় দেওয়া মাত্র টোটার মুখটা ভেসে উঠল। এখানে ইন্টারেস্টিং ট্রিভিয়া হল অ্যালেনের প্রন কাটলেট রবীন্দ্রনাথের খুব প্রিয় ছিল। কোথাও একটা ঐতিহাসিক যোগাযোগের ব্যাপার (হাসি)। ছবিতেও দুই কিংবদন্তির পারস্পরিক সম্পর্কের নানাদিক থাকবে।
পুজোর লড়াইয়ে আপনার ছবি ছাড়াও রয়েছে ‘দেশু ৭’, ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’, ‘দ্য একেন : কেরালায় কুরুক্ষেত্র’।
সৃজিত : না, পুজোয় সেরকম লড়াই নেই। বাকি তিনজন প্রযোজক এতটাই পোড়খাওয়া, শক্তিশালী, ম্যাক্সিমাম শোজ ওরাই পাবে। আমরা একটু কম শো পাব। কিন্তু তাতে ক্ষতি নেই। কারণ আমাদের বাজেটও সবচেয়ে কম। কাজেই আমাদের আরওআই অনুযায়ী পুজোয় সব চেয়ে ওপরে থাকার সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল। কারণ খেলাটা আরওআইতে হবে। অ্যাবসোলিউট সংখ্যায় নয়। আমাদের বাঙালিয়ানায় ভরপুর, বাংলা সাহিত্যকে উদযাপন করা একটা ছবি আসছে। আমরা দুটো কি তিনটে করে শো পেলেও বাঙালি যেমন আগে দশবার আমার পুজোর ছবিকে ব্লকবাস্টার করেছে, এবারও তাই করবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না