Suniel Shetty KL Rahul

‘চ্যাম্পিয়ন’ জামাই রাহুলকে নিয়ে গদগদ সুনীল শেট্টি, নেটপাড়া বলছে, ‘জিও শ্বশুরমশাই!’

জামাই কেএল রাহুলকে নিয়ে কী মন্তব্য শ্বশুর সুনীলের?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২৫, ১৯:২৩

options
link
‘চ্যাম্পিয়ন’ জামাই রাহুলকে নিয়ে গদগদ সুনীল শেট্টি, নেটপাড়া বলছে, ‘জিও শ্বশুরমশাই!’

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খলনায়ক থেকে সোজা হিরো। তেইশের বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘শাপমোচন’ ঘটিয়ে রবিবাসরীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচে বাজিগর কেএল রাহুল (KL Rahul)। ৩৩ বলে ৩৪ রানে ‘অপরাজিত’ থেকে তিনি এখন আপামর দেশবাসীর কাছে ‘নায়ক’। ম্যাচ জেতার অন্যতম কারিগর। আর সেই প্রেক্ষিতেই ‘চ্যাম্পিয়ন’ জামাই রাহুলকে নিয়ে যারপরনাই গদগদ সুনীল শেট্টি (Suniel Shetty)। অতঃপর প্রশংসায় ভরাতেও ভুললেন না ক্রিকেটার জামাইকে।

Advertisement

২০২৩ সালের সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা সত্ত্বেও দেশবাসীর কাছে ‘খলনায়ক’ হয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। মন্থর পারফরম্যান্স নিয়ে শুনতে হয়েছিল বহু কটু কথাও। তবে রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চূড়ান্ত ম্যাচে অপরাজিত থেকে দলকে জেতানোয় সেই সমীকরণ একেবারে বদলে গেল। ‘ভিলেন’ থেকে সোজা ‘হিরো’ হয়ে উঠলেন। ম্যাচ জয়ের পর রাহুলের আবেগপ্রবণ মুহূর্ত শেয়ার করে সুনীল শেট্টির মন্তব্য, ‘দেশের ইচ্ছে, আজ্ঞাকারী রাহুল।’ জয়ের উদযাপনের মাঝেও এক্স হ্যান্ডেলে বলিউড অভিনেতার এহেন পোস্ট তুমুল গতিতে ভাইরাল। নেটপাড়াও মজে জামাই-শ্বশুর সমীকরণ দেখে। কেউ বলছেন, ‘এই না হলে শ্বশুর।’ আবার কারও মন্তব্য, ‘জিও শ্বশুরমশাই।’ আবার কেউ বলছেন, ‘এমন শ্বশুরমশাই পেলে জীবন ধন্য হয়ে যেত, আমার নিজের বাবাও এমন সমর্থন করেন না আমাকে।’ কেউ বা আবার সুনীলের পোস্টে সায় দিয়ে বলছেন, ‘জামাই আমাদের মান বাঁচিয়ে দিয়েছে।’ সবমিলিয়ে কেএল রাহুলকে নিয়ে করা সুনীল শেট্টির পোস্টে সরগরম নেটপাড়া।

Advertisement

প্রসঙ্গত, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ঋষভ পন্থকে বসিয়ে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে রাহুলকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া, মোটেই সহজ ছিল না ভারতীয় টিমের পক্ষে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অনেক তাবড় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই বলেছিলেন যে, পন্থকে বসানো ঠিক হচ্ছে না। কারণ, তিনি গেমচেঞ্জার। কিন্তু রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় টিম কেএল রাহুলের উপর আস্থা হারায়নি। বরং পারিপার্শ্বিকের কথায় কান না দিয়ে তাঁকেই কিপার-ব্যাটার হিসেবে খেলিয়ে গিয়েছে। যে আস্থার প্রতিদান প্রতিনিয়ত দিয়ে গিয়েছেন রাহুল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ঝোড়ো ব্যাটিং থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঝে মহাচাপ সামলে শান্ত ব্যাটিং।

Advertisement

একদিক থেকে রবিবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল রাহুলের কাছেও শাপমুক্তির বটে। তা, চ্যাম্পিয়ন হয়ে কী মনে হচ্ছিল তাঁর? চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সম্প্রচার সংস্থাকে এসে রাহুল বলছিলেন, “ক্যামেরায় বলতে পারব না। কিন্তু শেষের দিকে আমি কুৎসিত সমস্ত ভুলভ্রান্তি করছিলাম। আমাদের পরের দিকে ব্যাটিং ছিল। তাই মনে হয়েছিল যে, দলকে অনায়াসে জিতিয়ে দিতে পারব। কিন্তু এ সমস্ত বড় ম্যাচে নিজেকে শান্ত রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।” কিন্তু যতটা বললেন চাপ সামলে জেতানোর কথা, কাজটা কি ততটাই সহজ ছিল? রাহুল এবার অদ্ভুত উত্তর দেন। সমস্ত কৃতিত্ব দেন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটকে। তিনি বলেন, “ভিতরে ভিতরে কী যে অনুভূতি হচ্ছে, ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। আসলে ছোট থেকে যা করে এসেছি আমরা, সেটাই করেছি। স্কিল দেখিয়েছি। আর কী জানেন, ছোট থেকে নানা পর্যায়ে চাপ নিতে হয়েছে আমাদের। যে দিন থেকে ঠিক করেছি যে, পেশাদার ক্রিকেটার হব, চাপ নেওয়া সে দিন থেকে শুরু হয়েছে। চ্যালেঞ্জ সামলানো শুরু হয়েছে। আসলে বোর্ড যে ভাবে ক্রিকেটারদের ছোট থেকে তৈরি করে, যে ভাবে আমরা পেশাদার ক্রিকেটারে পরিণত হই, এ ধরনের জয়ের পিছনে সেই ব্যাপারগুলোই কাজ করতে থাকে।”

কী রকম? রাহুল এবার আরও বিশদে যান। বলে দেন, “কৃতিত্ব আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের। নিজেদের স্কিল, নিজেদের ব্যাটিং ক্ষমতা প্রকাশের জন্য যে প্ল্যাটফর্ম আমাদের ভারতীয় বোর্ড দিয়ে থাকে, তা অতুলনীয়। আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের অনন্ত চাপে ফেলতে থাকি। যে চাপ সবার অলক্ষ্যে আমাদের তৈরি করে দিয়ে যায়। ক্রমাগত আমাদের চ্যালেঞ্জ করে ক্রিকেটার হিসেবে আরও উন্নত করে। তাই নেপথ্যে কৃতিত্ব কিন্তু ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.