আলু

আলু চাষে প্রচুর লক্ষ্মীলাভের সম্ভাবনা, দিশা দেখাচ্ছে কৃষি দপ্তর

আলু চাষের জন্য রাসায়নিক সার ও ইউরিয়া দেওয়ার কোনও প্রয়োজন হয় না।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৯, ২০:১৭

options
link
আলু চাষে প্রচুর লক্ষ্মীলাভের সম্ভাবনা, দিশা দেখাচ্ছে কৃষি দপ্তর

চন্দ্রজিৎ মজুমদার: আলু মূলত ঋতুভিত্তিক চাষ। জ্যোতি, চন্দ্রমুখী ইত্যাদি নানা প্রজাতির আলুর বাজারে বছরভর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি একটি খুবই উপকারি সবজি। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের অনেকেই এই সময় গম, সরিষার পাশাপাশি আমনের আলু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। মোটা আর্থিক লাভ করছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি ব্লকের কৃষকদের কৃষি দপ্তর থেকে আলু চাষের জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি করা হচ্ছে সরকারি সাহায্যও।

মাটি: আলু চাষের জন্য জল নিকাশি যুক্ত দো-আঁশ মাটি খুবই উপকারী। এই মাটিতে সাধারণত ধান চাষের পর আলু চাষের উপযোগী করে চষে বীজ লাগানোর উপযুক্ত করা হয়।
বীজ: বাজারে ভিভিন্ন জাতের আলুর বীজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে জেলার কান্দি এলাকায় মূলত দু’টি জাতের আলুর চাষ বেশি হয়। এগুলি হল জ্যোতি ও চন্দ্রমুখী। আর হাইব্রিড প্রজাতির আলুর এখন কান্দি ব্লকে চাষ হচ্ছে। তবে তার পরিমাণ খুবই কম।
বোনার সময়: আলু চাষ মূলত বর্ষাকালের ধান চাষের পরেই করা হয়। ধান তুলে নেওয়ার পরেই উপযুক্ত জমি তৈরি করে আলুর বীজ পুঁতে দিয়ে ভ্যালি তৈরি করা হয়। বীজ থেকে চারা বের হওয়ার পর মূলত মাটি আলগা করা এবং ঘাস পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এবার প্রথম আলু চাষে কিছুটা দেরি হচ্ছে। কারণ, বঙ্গোপসাগরে অতর্কিতে তৈরি হওয়া নানা নিম্নচাপ।

Advertisement

সার প্রয়োগ: এই আমনের আলু চাষের জন্য নানা রকম রাসায়নিক সার ও ইউরিয়া দেওয়ার কোনও প্রয়োজন হয় না। ধান চাষের পর জমিতে যে রাসায়নিক ও জৈবিক সার পড়ে থাকে মূলত ওই সার দিয়েই আমনের আলু চাষ করা সম্ভব। তবে, একান্ত প্রয়োজনে কম-বেশি জৈবিক সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। চারা জন্মানোর ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কিছু জৈবিক সার দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, গাছের বৃদ্ধি কম হলে কিছু রাসায়নিক সার মাটির সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে প্রয়োগ করা হয়। তবে এটা একমাসের মাথায় দিলে ভাল হয়।
কীটপতঙ্গের আক্রমণ: আলুর গাছে মূলত পোকামাকড়ের তাণ্ডব বেশি হয় না। পাতা ছিদ্রকারী পোকার জন্য কিছু কীটনাশক স্প্রে করা যেতে পারে। আলু গাছের মূলত ধসা রোগের প্রবণতা বেশি থাকে। এই সময় রোদের তাপ কম থাকার ফলে গাছের পাতায় পোকার প্রাদুর্ভাব কমে যায়। এছাড়া, এমন কিছু পোকা রয়েছে যাদের খালি চোখে দেখা যায় না, তারা গাছের পাতায় বসে রস চুষে খায়। যেহেতু আলু মাটির নিচে ফলে তাই উৎপন্ন ফসলে ইঁদুরের আক্রমণ সব থেকে বেশি ঘটে। রোগ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে দৈনিক বিকালে আলু গাছে পরিষ্কার জল স্প্রে দিলে ভাল ফসল মিলবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: বাড়িতেই চাষ করুন কড়াইশুঁটি, পদ্ধতি জানেন তো?]

আমনে আলুর রোগ: এই আলু চাষের জন্য মূলত রোগের তেমন প্রাদুর্ভাব দেখা যায় না। চাষের জন্য মূলত যেটি প্রয়োজন গাছের গোড়ায় যেন কোনওভাবেই জল না দাঁড়ায়। চাষের উপযুক্ত সময় আশ্বিন থেকে মাঘ মাস। রোদের তাপ কম ও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এই আলু চাষ ভাল হয়। তবে অতিরিক্ত কুয়াশাতে আলু গাছের ক্ষতি হতে পারে।
ফলন: আমনের আলু গাছের ফলন মূলত নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। আমনের আলু চাষে মূলত দু’ মাস সময় থাকে। এই আলুর দামও ভাল মেলে। নজর রাখতে হবে আলু গাছের গোড়ায় যেন জল না দাঁড়ায়। কাঁচা গাছের দিকেও সতর্ক নজর রাখা জরুরি।  

Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.