সম্প্রীতির নজির, এই মাদ্রাসায় একসঙ্গে পড়াশোনা করে হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়ারা

শুধু উর্দু-আরবি নয়, শেখানো হয় ইংরেজি--অঙ্ক-বিজ্ঞানও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৪:৫৫

options
link
সম্প্রীতির নজির, এই মাদ্রাসায় একসঙ্গে পড়াশোনা করে হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়ারা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতে মাদ্রাসা মানেই ধরে নেওয়া হয় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষাঙ্গণ। সাধারণের ধারণা, সেখানে ইসলাম ধর্ম এবং সেই সম্পর্কে যাবতীয় রীতিনীতির পাঠ শেখানো হয়। কিন্তু না, সব মাদ্রাসায় তা হয় না। আর তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ আগ্রার একটি মাদ্রাসা। যেখানে মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের পড়ুয়ারাও পড়াশোনা করে। শুধু তাই নয়, গত দশ বছর ধরে মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা দৌরাথায় উর্দু, আরবি, ফার্সি-র পাশাপাশি পড়ানো হচ্ছে ইংরেজি, হিন্দি, অঙ্ক, বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্সও। একই ছাদের নিচে বসে দুই সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা শেখে ‘দুনিয়াভি তালিম’। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির আগ্রার এই মাদ্রাসা।

Advertisement

[আবেদনময়ী ক্যাটরিনার নতুন ছবিতে পারদ চড়ছে ইন্টারনেটে]

সাধারণত মাদ্রাসায় নিয়মকানুন অত্যন্ত কড়া হয়। কিছু বিশেষ বিষয় ছাড়া পড়ানো হয় না অনেক বিষয়ই। মাঝেমধ্যেই তাই বিতর্ক তৈরি হয় মাদ্রাসার সিলেবাস নিয়েও। কিন্তু দশ বছর আগেই এই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের পালটানোর কথা ভাবেন। আর সেই মতো শুধু মুসলিম নয়, অন্যান্য ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মাদ্রাসার দরজা। জানা গিয়েছে, ১৯৫৮ সালে ৪৫০ জন পড়ুয়া নিয়ে চালু হয়েছিল মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা দৌরাথা। দশ বছর আগেও সেখানে পড়ত না কোনও হিন্দু পড়ুয়া। কিন্তু বর্তমানে ২৪৮ জন মুসলিম পড়ুয়ার পাশাপাশি ২০২ জন হিন্দু পড়ুয়াও সেখানে পড়াশোনা করে। হিন্দি ছাড়াও অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা সেখানে উর্দু এবং আরবি ভাষা শেখে। নিয়মিত বিষয়গুলি পড়ানোর জন্য সেখানে রয়েছে ১৪ জন মৌলানা এবং অন্যান্য বিষয়গুলির জন্য রয়েছে আলাদা ৪ জন শিক্ষকও। উর্দু, আরবি-সহ এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়মিত হলেও কাউকেই সেটি পড়ার জন্য জোর করা হয় না। এমনটাই জানিয়েছেন সেখানকার এক মৌলানা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[সম্প্রীতির বাংলা: হিন্দু যুবতীর বিয়ের খরচ জোগালেন মুসলিম প্রতিবেশীরাই]

প্রিয়াঙ্কা নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর কথায়, ‘ওখানে আমার অনেক মুসলিম বন্ধু আছে। হিন্দি, ইংরেজি এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি পড়ার পাশাপাশি আমি নিজের ইচ্ছেতেই উর্দু এবং আরবি ভাষা শিখছি।’ অপর এক পড়ুয়া দীপ্তি জানিয়েছে, বাড়ির কাছেই মাদ্রাসাটি রয়েছে। আর বেশিরভাগ বন্ধুরাই সেখানে পড়ে দেখে নিজের বাবার কাছে কিছুটা জেদ করেই সে সেখানে ভরতি হয়েছে। তাঁর বাবা মহেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ‘দীপ্তির ইচ্ছে অনুযায়ীই ওকে মাদ্রাসাটিতে ভরতি করা হয়েছে। গত দু’বছর ধরে ওখানে পড়ছে। অন্যান্য বিষয়ের এর পাশাপাশি সে সেখানে উর্দু এবং আরবি ভাষাও শিখছে।’ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মৌলানা উজেইর আলম বলেন, ‘কোনও ধর্মই জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের কথা শেখায় না। একই ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের পড়ুয়াদের লেখাপড়া করছে, এটা দেখতে খুবই ভাল লাগে। একতা ও সম্প্রীতির এ এক জলন্ত উদাহরণ। দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বার্তা দিতে এটা আমাদের এক ছোট্ট প্রয়াস।’

Advertisement

[নাবালিকা ধর্ষণে এবার মৃত্যুদণ্ডের নিদান মধ্যপ্রদেশে]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.