শিওরে নির্বাচন, রাজ্য সভাপতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রাজস্থান বিজেপি

অমিত-বসুন্ধরা বৈঠকে মিলল না সমাধান সূত্র, চরমে মতানৈক্য।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০১৮, ১২:০২

options
link
শিওরে নির্বাচন, রাজ্য সভাপতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রাজস্থান বিজেপি

নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচন হবে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যেই। অথচ দলের রাজ্য সভাপতি পদটি প্রায় দু’মাস ধরে শূন্য। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে সভাপতি পদের জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই নাম খোঁজা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের সেই সব নাম পছন্দ নয় বলেই জানা গিয়েছে। রাজস্থানে দলের অবস্থা যে বিশেষ ভাল নয়, তা বেশ বুঝতে পারছে বিজেপি। প্রকাশ্যে সেকথা মেনে না নিলেও সাম্প্রতিককালে সেখানকার সবকটি উপনির্বাচনেই কংগ্রেসের কাছে তারা হেরে গিয়েছে। রাজস্থানের পরিস্থিতি যে জটিল হয়ে উঠেছে, সেকথা মাথায় রেখে এখন থেকেই ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে তা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। ১৫টি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে। অথচ মরুরাজ্য রাজস্থানে যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে, তা সামলানো বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সামনে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বসুন্ধরাকে কোনওভাবেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাগে আনতে পারছে না বলেই বিজেপির অন্দরমহলের খবর। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেলের মতো দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথায় ওঠবস করতে বসুন্ধরা কোনওদিনই রাজি ছিলেন না, এখনও রাজি নন বলে যে কথা বিজেপির অন্দরে শোনা যায়, সাম্প্রতিক ঘটনা তার সত্যপ্রমাণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

[লাইনচ্যুত মুম্বই-হাওড়া মেলের তিনটি কামরা, আতঙ্কিত যাত্রীরা]

Advertisement

দলের রাজ্য সভাপতি পদটি অবিলম্বে পূরণ করার জন্য গত সপ্তাহেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর পছন্দ করা প্রার্থীকে বসুন্ধরা একপ্রকার খারিজ করে দিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। এবারেই প্রথম নয়, এর আগেও এই একই বিষয় নিয়ে শাহ ও রাজের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। বিজেপি সূত্রের খবর, সেবার শাহর পক্ষ থেকে যোধপুরের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের নাম রাজ্য সভাপতি হিসাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বসুন্ধরা তাতে রাজি হননি। আবার রাজের পক্ষ থেকে জাতপাতের সমীকরণের যুক্তি দিয়ে সেখানকার সিন্ধি-পাঞ্জাবি নেতা শ্রীচন্দ কৃপালির নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব মানতে রাজি হননি শাহ। গতবারের পরে এবারেও দলের পক্ষ থেকে আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের নাম প্রস্তাব করা হয়। দলিত সম্প্রদায়ের মেঘওয়ালকে রাজ্য সভাপতি করা হলে দলের লাভ হবে বলেও বোঝানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনও অজ্ঞাত কারণে বসুন্ধরা তা খারিজ করে দিয়েছেন বলেই বিজেপি সূত্রের খবর।

Advertisement

[সীমান্তে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল সেনার, খতম তিন জঙ্গি]

গত সপ্তাহের শাহ-রাজে বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ভূপেন্দ্র যাদবের নাম রাজস্থানের রাজ্য সভাপতি হিসেবে আলোচনা হয় এবং তাতে বসুন্ধরা রাজিও হয়েছিলেন, কিন্তু শাহ এখনই যাদবকে ছাড়তে রাজি হননি। আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য যাদবকে তাঁর দিল্লিতে প্রয়োজন রয়েছে বলেই শাহ পরিষ্কার জানিয়ে দেন। সেদিনের বৈঠকেও রাজ্য সভাপতির নাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে গিয়েছে। শাহর সঙ্গে বসুন্ধরার অনেকদিন ধরেই নানা বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। একসময় তাঁকে সরিয়ে রাজস্থানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী বসানো হবে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ওঠে। কিন্তু, সেবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব মিটমাট করে দেন। তাঁদের মধ্যে যে মতানৈক্যই থাকুক না কেন, আপাতত এসব নিয়ে ভাবতে রাজি নন শাহ। আবার শুধুমাত্র বসুন্ধরার উপর ভরসা করতেও যে তিনি রাজি নন, সেকথা জানা গিয়েছে। রাজস্থান নিজেদের দখলে রাখতে তিনি নিজেই সবরকমভাবে চেষ্টা করবেন বলেই ঠিক করেছেন। তার জন্য কিছুদিনের মধ্যেই শাহ জয়পুরে বেশ কিছুদিনের জন্য ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকবেন বলেই জানা গিয়েছে। অতীতে এই একইভাবে উত্তরপ্রদেশেও ঘাঁটি গেড়েছিলেন তিনি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.