সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কালো টাকা উদ্ধার করতে রাতারাতি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এখন অনলাইনে আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। নগদে নয়, এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড নিদেনপক্ষে চেকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হোক সারা দেশে, এমনটাই চান প্রধানমন্ত্রী। আর প্রধানমন্ত্রী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে কর্নাটকের এই প্রত্যন্ত গ্রামে। ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা তো ছেড়েই দিন, এই গ্রামে মুদির দোকান বা চায়ের দোকানেও চেকের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন হয়। কর্নাটকের রামানাগার জেলার প্রথম ‘নগদহীন গ্রাম’ ভোনডারাগুপ্পে-তে আপনাকে স্বাগত।
[গুগলের চাকরি ছেড়ে শিঙারা ভেজে কোটির দৌড়ে এই যুবক]
কয়েক বছর আগেও কিন্তু ছবিটা এরকম ছিল না। রেশম চাষের জন্য বিখ্যাত কর্নাটকের এই প্রত্যন্ত গ্রামটি। ভোনডারাগুপ্পে গ্রামের ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই রেশম চাষের সঙ্গে যুক্ত। নগদেই হত যাবতীয় ব্যবসায়িক লেনদেন। ব্যাঙ্ক কী জিনিস, জানতেনই না গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু, প্রশাসনের নিরন্তর চেষ্টায় গত কয়েক বছরে কার্যত বিপ্লব ঘটে গিয়েছে ভোনডারাগুপ্পে-তে। রামানাগারা জেলার ডেপুটি কমিশনার বি আর মমতা গৌড়া জানিয়েছেন, ‘ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আর্খিক লেনদেন করা কেন জরুরি, তা বোঝানোর জন্য গ্রামবাসীদের নিয়ে আমরা ওয়ার্কশপ করেছি। আজ যে গ্রামের সকলেই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করছেন, তারজন্য গ্রামের মহিলাদের অবদানও অনস্বীকার্য। মহিলারা বিভিন্নভাবে গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে ভীষণভাবে সাহায্য করেছেন।‘
[মারণ সেলফি, গুরদাসপুরে ব্রিজ থেকে পড়ে মৃত ২ বান্ধবী]
বেঙ্গালুরু-মাইসুরু হাইওয়ে থেকে প্রায় ৬০ কিমি দুরে অবস্থিত এই ভোনডারাগুপ্পে গ্রাম। গ্রামে ৩৫০ পরিবারের বাস। প্রত্যেকেরই স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় অ্যাকাউন্ট আছে। চেকে কিংবা এটিএমের মাধ্যমে যাবতীয় আর্থিক লেনদেন হয় এই গ্রামে। এই গ্রামেরই বাসিন্দা পেশায় রেশম ব্যবসায়ী শ্রীনিবাসন বলেন, ‘আমি নগদেই ব্যবসা করতাম। গত কয়েক দশকের মধ্যে কোনওদিন ব্যাঙ্কে যায়নি। কিন্তু, এখন আমার এটিএম কার্ড আছে। নগদের প্রয়োজন হলে ব্যাঙ্কে যাই। এমনকী, কেনাবেচার সময়েও নগদে টাকা নিই না। চেকের মাধ্যমেই আর্থিক লেনদেন করি।’
[OMG! বন্ধুত্ব পাতাতে না পেরে এ কী করলেন যুবক?]
ভোনডারাগুপ্পে গ্রামে রয়েছে একটি মাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। গ্রামবাসীদের সঠিক সময়ে পরিষেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টার কসুর করেন না ব্যাঙ্কের কর্মীরা। প্রতিদিন সকাল সাতটায় টাকা নিয়ে গ্রামে পৌঁছে যান তাঁরা। ব্যাঙ্কের এক কর্মী বলেন, “হাইওয়ে থেকে গ্রামটি অনেকটাই দুরে। তাই মহিলা বা বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা রোজ ব্যাঙ্কে আসতে পারেন না। তাই আমরাই টাকা নিয়ে গ্রামে পৌঁছে যাই। আধার কার্ড দেখালেই টাকা পেয়ে যান তাঁরা।’
সর্বশেষ খবর
-
বদলেছে UPI নিয়ম, কোথায় কখন কাদের দিতে হবে অতিরিক্ত চার্জ? জানুন খুঁটিনাটি
-
পতঞ্জলির ভেজাল ঘি! বাকযুদ্ধের পর এবার ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন রামদেব
-
সীমান্তপাচার থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, শেহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা কেন্দ্রের
-
রুশ তেল কেনার ‘শাস্তি’, ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্কবাণের পথে আমেরিকা! বৃহস্পতিতেই চূড়ান্ত
-
দু’বছর আগে হেরেছিলেন ১০ লক্ষ ভোটে! অসমে ফের ভোট ময়দানে সেই ‘আতর সম্রাট’