Bihar

সরকারের ভুল ধরলেই…, বিজেপির বিহারে সরকারি কর্মীদের সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা! প্রশ্নে বাকস্বাধীনতা

কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই বিহার সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি (সংশোধনী) ২০২৬ আনা হয়। ভারতীয় সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল কর্তৃক বিজ্ঞাপিত এই সংশোধনীটি সমগ্র বিহারে প্রযোজ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১৭:১৫

options
link
সরকারের ভুল ধরলেই…, বিজেপির বিহারে সরকারি কর্মীদের সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা! প্রশ্নে বাকস্বাধীনতা
নির্দেশিকা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি নীতি পছন্দ হয়নি, তাই সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনা করবেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ জানাবেন, এমনটা আর চলবে না। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিহারের বিজেপি-জেডিইউ সরকার। বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। 

Advertisement

কর্মীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই বিহার সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি (সংশোধনী) ২০২৬ আনা হয়। ভারতীয় সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল কর্তৃক বিজ্ঞাপিত এই সংশোধনীটি সমগ্র বিহারে প্রযোজ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও রাজ্য সরকারের দাবি, ডিজিটাল যুগে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Advertisement

কোন কোন সমাজমাধ্যমে কতখানি নিষেধাজ্ঞা?

Advertisement

আপাতত ফেসবুক, এক্স হ্যান্ডেল এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশাল মিডিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা তথা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি নীতিমালা, সরকারি প্রকল্প এবং আদালতের সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ (বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট) নিয়ে সমালোচনা করতে পারবেন না কর্মীরা। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সমালোচনা করলে বিষয়টিকে অসদাচরণ (Misconduct) হিসাবে ধরা হবে। সেই মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়াও নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগত সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পরিচালনার জন্য দপ্তরের ইমেল আইডি বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়াও নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগত সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পরিচালনার জন্য দপ্তরের ইমেল আইডি বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। ভুয়ো প্রোফাইল, বেনামি পরিচয় বা ছদ্মনাম ব্যবহার করে সামাজিকমাধ্যমে কন্টেন্ট পোস্ট করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অফিস চত্বরে ছবি, ভিডিও তোলা, নথি শেয়ার করা, লাইভ স্ট্রিম করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের যে কোনও কাজের জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি কর্মীদের জন্য সমাজমাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম সংস্থা বা বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে সমর্থন বা বিরোধিতা প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ। জাতি, ধর্ম বা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয়ে উসকানিমূলক বা আপত্তিকর বিষয়বস্তু পোস্ট করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এইসঙ্গে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কর্মজীবনে একবারই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে পারবেন সরকারি কর্মচারীরা। উল্লেখ্য, ইদানীংকালে সোশাল মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী গণমাধ্যম হয়ে উঠেছে। সেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে ভালো ভাবে নিচ্ছে না বিহারের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় অংশ। তাঁরা বিষয়টিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হিসাবেই দেখছেন।    

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.