Bihar political crisis

কেন বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বিরোধী মহাজোটে নীতীশ কুমার? নেপথ্যে কি জাতীয় রাজনীতির অঙ্ক?

ইতিমধ্যেই আরজেডি-সহ সাত দলের সমর্থনে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছেন নীতীশ কুমার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২২, ১৯:৫৯

options
link
কেন বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বিরোধী মহাজোটে নীতীশ কুমার? নেপথ্যে কি জাতীয় রাজনীতির অঙ্ক?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের পালাবদল বিহারের রাজনীতিতে। আবারও নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) হাত ধরে। দেশের অন্যান্য প্রান্তে যখন নেতানেত্রীরা প্রবলভাবে বিজেপিমুখী, ঠিক তখন রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে বিজেপির হাত ছাড়লেন নীতীশ কুমার। বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে আরজেডি- কংগ্রেস-সহ সাত দলের সমর্থনে সরকার গড়ার দাবি রাজ্যপালের কাছে জানিয়ে এসেছেন তিনি। বুধবার বিকাল ৪টেয় ইউপিএর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। এমনিতে বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ ‘পল্টুরাম’ হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু এবার যেভাবে সম্পূর্ণ স্রোতের বিপরীতে হেঁটে তিনি বিজেপির হাত ছেড়ে আরজেডির হাত ধরলেন, সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর নেপথ্যে কারণ কী কী? শুরু হয়ে গিয়েছে কাঁটাছেঁড়া।

Advertisement

নীতীশের এনডিএ (NDA) ছাড়ার অন্যতম কারণ রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা। এমনিতেই জোটে তিনি ছিলেন ছোট শরিক। তার উপর আবার কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরসিপি সিংয়ের মাধ্যমে জেডিইউতে (JDU) ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। সদ্যই শনিবার সরকারিভাবে জেডিইউ ছেড়েছেন আরসিপি। তাতেই দলে ভাঙনের আশঙ্কা বেড়ে যায় নীতীশের। সেকারণেই তিনি তড়িঘড়ি বিজেপির সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রকল্পে সব রেলকর্মীর হাতে পতাকা, কোন ফান্ড থেকে খরচ? উঠল প্রশ্ন]

শোনা যাচ্ছে, নীতীশের এনডিএ ছাড়ার অন্যতম কারণ অমিত শাহর অতিসক্রিয়তা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরোক্ষে বিহার বিজেপির যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকী নীতীশের মন্ত্রিসভায় বিজেপি থেকে কারা কারা মন্ত্রী হবেন, সেটাও ঠিক করে দিচ্ছিলেন শাহ। যা একেবারেই নাপসন্দ ছিল নীতীশের। তাঁর ভয় ছিল, বিহারে জমি শক্ত করতে যে কোনও দিন তাঁর সরকার ফেলে দিতে পারে বিজেপি।

Advertisement

বিজেপির সঙ্গে জেডিইউ-এর জোট শুরু থেকেই তেমন মসৃণ ছিল না। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মাত্র জেডিইউয়ের মাত্র একজনকে জায়গা দেন মোদি (Narendra Modi)। যা নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। তাছাড়া বিহার বিধানসভায় বিজেপি যাকে স্পিকার করেছে সেই বিজয়কুমার সিনহা লাগাতার নীতীশ সরকারকেই আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। যা নিয়ে চরম অসন্তোষ ছিল নীতীশের মনে। এমনকী স্পিকারকে সরানোরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপি তা মানেনি।

বিজেপির নীতি এবং নীতীশের রাজনীতি। দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নীতি আয়োগের রিপোর্টে বিহারকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলির মধ্যে দেখানো হয়েছে। যা একেবারেই নাপসন্দ নীতীশের। এমনকী বিজেপির একের পর এক প্রকল্প যা কিনা সংখ্যালঘুদের ভাবাবেগকে আঘাত করে, সেটাও মুখ বুজে হজম করতে হয়েছে নীতীশকে। কিন্তু লাগাতার বিজেপিকে এভাবে সমর্থন করায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নীতীশের গ্রহণযোগ্যতা কমছিল। তাছাড়া, সদ্যই কেন্দ্রের আনা অগ্নিপথ (Agnipath) প্রকল্পেরও তীব্র বিরোধী নীতীশ। জোটে থাকার দরুন তার দায়ও এসে পড়ছিল তাঁরই উপর। যা মানতে পারেননি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

[আরও পড়ুন: বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে যোগীকে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে তোলপাড় উত্তরপ্রদেশ]

নীতীশের বিজেপির (BJP) হাত ছাড়ার আরও একটি কারণ হতে পারে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখার হাতছানি। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শিবির মোদির সমকক্ষ স্বচ্ছ ভাবমূর্তির খোঁজ করছে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ লোকসভার কথা দিকে নজর রেখে বিরোধী জোটের নেতা হিসাবেও নীতীশ নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেই পারেন। কারণ নতুন জোটে পা রেখেই বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছেন, শুধু বিহার থেকে নয়, অন্যান্য রাজ্যেও কীভাবে বিজেপিকে হারানো যায়, সেদিকে তিনি নজর দেবেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন