BJP

বেনোজল আটকে ভিত শক্ত করায় জোর, বাংলায় সরকার গড়েও ‘সতর্ক’ বিজেপি

তৃণমূল স্তরের কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে– কোনও প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না, পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের সঙ্গে আপস করা চলবে না। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: মে ৬, ২০২৬, ১৫:৩৬

options
link
বেনোজল আটকে ভিত শক্ত করায় জোর, বাংলায় সরকার গড়েও ‘সতর্ক’ বিজেপি
জয়ের পর উৎসবে বিজেপি সমর্থকরা।

বিপুল জয়, কিন্তু সংযমের বার্তা– বাংলায় সরকার গড়েই সতর্ক বিজেপি (BJP)। আসল লড়াই এর পর থেকে শুরু হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রথমবার সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু এই সাফল্যের আবহে বাড়তি উচ্ছ্বাসে ভাসার বদলে সংযত কৌশলই বেছে নিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। স্পষ্ট বার্তা– ভোটে জয় রাজনৈতিক দরজা খুলেছে, কিন্তু প্রশাসনিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

দলের শীর্ষস্তরের নেতারা মনে করছেন, ভোটে জয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের দরজা খুলেছে। কিন্তু প্রশাসনের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে গেড়ে বসা সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং অনিয়মের সংস্কৃতি ভেঙে ফেলা অনেক কঠিন কাজ। ফলে সরকার বদলালেই যে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছে বিজেপি। এই প্রেক্ষাপটে সতর্ক না থাকলে উল্টে বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা নেতৃত্বের একাংশের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নেতার কথায়, “যারা এতদিন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে এই ব্যবস্থার অংশ ছিল, তারা হঠাৎ হারিয়ে যাবে না। বরং অনেকেই এখন নিজেদের রং বদলে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করবে।”

দলের এক দ্বিতীয় সারির নেতার কথায়, “যারা এতদিন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে এই ব্যবস্থার অংশ ছিল, তারা হঠাৎ হারিয়ে যাবে না। বরং অনেকেই এখন নিজেদের রং বদলে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করবে।” তাঁর দাবি, এই সুযোগসন্ধানী শক্তিই আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এই ‘ইনফিলট্রেশন’ বা অনুপ্রবেশই আগামী দিনে দলের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে, যদি শুরুতেই তা রোখা না যায়।

Advertisement

এই কারণে এখন থেকেই সংগঠনের ভিত মজবুত করতে জোর দিচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে– কোনও প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না, পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের সঙ্গে আপস করা চলবে না। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আদর্শগতভাবে দৃঢ় রাখা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা– এই দুই ভাবনাকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। নিচুতলার কর্মীদের বারবার বোঝানো হচ্ছে, ক্ষমতার সঙ্গে আপস নয়, বরং পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংযত অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতায় এসেই আত্মতুষ্টির পথে না হেঁটে বিজেপি যে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিজেপির এই সতর্ক অবস্থান এক ধরনের ‘কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজি’ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। কারণ, বাংলার মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন রাজ্যে যদি পুরনো অভিযোগ—দুর্নীতি, দখলদারি বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন সরকারের সঙ্গেও জুড়ে যায়, তা হলে জনসমর্থন দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, এই জয়কে স্থায়ী করতে হলে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধী শক্তির প্রতিরোধ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং স্থানীয় স্তরের বাস্তব সমস্যা– সব মিলিয়ে বিজেপির সামনে এখন বহুস্তরীয় লড়াই। তাই বাংলায় সরকার গড়ার পর বিজেপির বার্তা স্পষ্ট, এটি শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং ব্যবস্থাগত পরিবর্তনের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই এই জয় স্থায়ী রূপ পাবে, নচেৎ চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন