Ghooskhor Pandat

‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নিয়ে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ব্রাহ্মণদের পাশে ‘দলিত’ মায়াবতীও, যোগী কি অস্বস্তিতে?

স্রেফ একটি সিনেমা নয়, যোগীরাজ্যে হঠাৎ করে সবর্ণদের জাগরণ মাথাব্যাথা বাড়াবে যোগী আদিত্যনাথের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১৯:৫৪

options
link
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নিয়ে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ব্রাহ্মণদের পাশে ‘দলিত’ মায়াবতীও, যোগী কি অস্বস্তিতে?
ঘুষখোর পণ্ডিত নিয়ে তরজা উত্তরপ্রদেশে। ছবি: সংগৃহীত।

ইউজিসির নয়া গাইডলাইনের পর এবার ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামের একটি সিনেমা নিয়েও তপ্ত যোগীরাজ্যের রাজনীতি। স্রেফ সিনেমার নাম দেখেই ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবিটিকে উচ্চবর্ণ তথা ব্রাহ্মণ বিরোধী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, এটা নাকি সার্বিকভাবে গোটা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের অপমান। ইতিমধ্যেই জোড়া মামলার ফলায় বিদ্ধ সিনেনির্মাতারা। ইতিমধ্যেই ওই সিনেমা নিয়ে ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের বহু মানুষ সরব। সোশাল মিডিয়ায় ওই ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠছে।

Advertisement

চমকপ্রদভাবে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি তো বটেই বিরোধী শিবিরের কেউ কেউও সেই মতবাদকে সমর্থন করছেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই ওই ছবিটির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। জানিয়েছেন, নির্মাতাদের বিরুদ্ধে যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মায়াবতীর মতো তথাকথিত দলিত নেত্রীও চমকপ্রদভাবে এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের পাশে। তিনি সোজা বলছেন, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ আসলে ব্রাহ্মণ বিদ্বেষী সিনেমা। এই ধরনের ছবি শুধু নিষিদ্ধই নয়, একই সঙ্গে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মায়াবতীর এই অবস্থানও অনেককে অবাক করছে। কারণ মায়াবতীর রাজনীতির পুরোটাই দলিত নির্ভর। ব্রাহ্মণদের অপমান নিয়ে তার এই অতিরিক্ত চিন্তা আবার চিন্তায় রাখছে শাসকদলকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মায়াবতীর মতো তথাকথিত দলিত নেত্রীও চমকপ্রদভাবে এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের পাশে। তিনি সোজা বলছেন, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ আসলে ব্রাহ্মণ বিদ্বেষী সিনেমা।

একটু খোলসা করা যাক। আসলে তথাকথিত ব্রাহ্মণ বা সবর্ণরা বিজেপির সবচেয়ে পুরনো ভোটব্যাঙ্ক। বিশেষ করে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে। সমস্যা হল মোদি জমানার এই ১১ বছরে বিজেপি সেই সবর্ণ ভোটব্যাঙ্ককে ভিত্তি করে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও নিজেদের সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টা সফলও হয়েছে। ওবিসি এবং দলিতদের একটা অংশও এখন বিজেপির ‘কোর’ ভোটার। তাতে আবার আপত্তি ব্রাহ্মণ তথা সবর্ণদের। তাদের একটা বড় অংশ মনে করছে, বিজেপি অর্থাৎ তাঁদের নিজেদের দল দলিত বা ওবিসিদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে তাঁদের স্বার্থ উপেক্ষা করছে। ফলে বিজেপির ওই তথাকথিত উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ হয় ২০২৪ লোকসভায় উত্তরপ্রদেশে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের মতো হেভিওয়েট উচ্চবর্ণের প্রার্থী টিকিট না পাওয়ায়। ক্ষোভ জমতে জমতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিজেপিরই ব্রাহ্মণ বিধায়করা নিজেরা একজোট হয়ে আলাদা করে বৈঠক পর্যন্ত করেছেন। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে বিজেপিকে।

Advertisement

আসলে ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের মনে হয়েছে, বিজেপি তাদের অবজ্ঞা করছে। কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের কোনও মঞ্চ বা ইস্যু সেভাবে পাচ্ছিলেন না তারা। তাছাড়া সমস্যা হল বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও দলকে তারা বিকল্প হিসাবেও ভাবতে পারেন না। তাই বিজেপির নীতির সমালোচনা বিজেপির অন্দরে থেকেই করতে হচ্ছে ব্রাহ্মণদের। কিন্তু সদ্য ইউজিসির নতুন ‘ইক্যুইটি রেগুলেশন’ বিধি প্রকাশ্যে আসার পর সবর্ণদের ক্ষোভে ঘৃতাহুতি পড়ে। নতুন নিয়মে ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বা জাতিভিত্তিক বৈষম্যের সংজ্ঞা হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে এমন বৈষম্য হিসেবে, যা শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি), উপজাতি (এসটি) এবং ওবিসিদের বিরুদ্ধে করা হয়। অর্থাৎ সংজ্ঞার মধ্যেই সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকরা কার্যত বাদ পড়ছেন। যা নিয়ে সবর্ণরা রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। এমনকী উত্তরপ্রদেশে ওই নিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। একাধিক বিজেপিরই ব্রাহ্মণ নেতা প্রকাশ্যে ওই নীতিকে কালা কানুন বলে দেন। এসবের মধ্যেই ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ বিতর্ক। এমনিতেই সবর্ণরা ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। তার মধ্যে এই ‘কটাক্ষমূলক’ ছবির নাম তাঁদের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। এতদিনের সঞ্চিত ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে এই ছবিটির উপর।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পুরো বিতর্কে যোগী কি চাপে? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, উচ্চবর্ণের এই ক্ষোভ যে ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি প্রভাব ফেলবে সে আশঙ্কা এখনই বিজেপি করছে না। কারণ অন্য কোনও দল সরাসরি উচ্চবর্ণের পাশে নেই। কিন্তু যেভাবে মায়াবতী সরাসরি ‘দলিত’ অবস্থান ছেড়ে ব্রাহ্মণদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেটা কিন্তু কিছুটা হলেও চাপে ফেলবে যোগী আদিত্যনাথকে। কারণ, এই মায়াবতীর ইতিহাস আছে একসঙ্গে ব্রাহ্মণ ও দলিতদের সমর্থনে সরকার চালানোর। ২০০৭ সালে বিএসপি নেত্রী একসঙ্গে ব্রাহ্মণ ও দলিতদের সমর্থন টানতে সক্ষম হন, এবং পাঁচবছর কুরসিতে ছিলেন। মায়াবতী আবারও সেই চেষ্টাই করছেন। সেকারণেই ইউজিসির নয়া বিধি নিয়েও তিনি সম্পূর্ণ দলিত স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্রাহ্মণ স্বার্থরক্ষার বার্তা দেন। আবার ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ইস্যুতেও তিনি ব্রাহ্মণদের পাশে। যা খানিকটা হলেও চাপ বাড়াবে যোগীর উপর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন