Gyanesh Kumar

বিতর্কের আবহেই ‘বিদ্রোহী’ ২ সতীর্থের সঙ্গে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার, এসআইআর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে নাম বাদ পড়াদের জন্যেও বিশেষ কর্মসূচিও নাকি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত
বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১৯:২৮

options
link
বিতর্কের আবহেই ‘বিদ্রোহী’ ২ সতীর্থের সঙ্গে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার, এসআইআর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের
শনিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ।

বিতর্কের আবহেই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। ‘বিদ্রোহী’ ২ সতীর্থ বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধুর সঙ্গে আলোচনায় বসলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন সদনে ‘ত্রয়ী’র বৈঠকে এসআইআর অর্থাৎ বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জানা গিয়েছে, কোনও কারণে নোটিস দেওয়া হলে, ভোটারকে এইআরও বা ইআরও অফিসে শুনানির জন্য আর সশরীরে যেতে হবে না। অনলাইনেই হবে শুনানি। পাশাপাশি দিল্লিতে এসআইআরের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও খবর। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

আজ, শনিবার বৈঠকে বসে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই বৈঠকের ছবিও সামনে আনা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দুই সতীর্থ অর্থাৎ দুই কমিশনারও বসে রয়েছেন। বিতর্কের আবহে যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

দিন দুই আগে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক একটি খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নাকি একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সতীর্থ দুই নির্বাচন কমিশনারকে কার্যত উপেক্ষা করছেন। প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি জ্ঞানেশ। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো জাতীয় রাজনীতিতে ঝড়। বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। যদিও কমিশনের ব্যাখ্যা, কমিশনের যে কোনও সিদ্ধান্তেই ভিন্নমতের অবকাশ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আর এই আবহেই আজ, শনিবার বৈঠকে বসে কমিশনের ফুলবেঞ্চ। নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই বৈঠকের ছবিও সামনে আনা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দুই সতীর্থ অর্থাৎ দুই কমিশনারও বসে রয়েছেন। বিতর্কের আবহে যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও এদিন একাধিক সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকে নেওয়া হয়েছে মূলত এসআইআর নিয়ে।

Advertisement

দিল্লির এসআইআর নিয়ে কোনও আপত্তি কিংবা বক্তব্য থাকলে, তা দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর করা হয়েছে। একইভাবে মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও যে কোনও দাবি কিংবা আপত্তি দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বাড়িয়ে তা ১২ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, এসআইআরের নোটিস যিনি বা যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের বাড়ি যাবেন বিএলও’রা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সমস্ত নথি তাঁরা নেবেন এবং ইসিআইনেট অ্যাপে আপলোড করবেন। ইআরও ভোটারের যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ছাড়া শুনানির জন্য নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের ইআরও বা এইআরও অফিসে ডাকার প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত বৈঠকে। শুধু তাই নয়, বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেই হবে শুনানি। এমনকী যে বা যিনি শুনানির নোটিস পেয়েছেন, তাঁর পরিবর্তে পরিবারের অন্য কেউ হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর-এর সময় বা পরবর্তী সময়ে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ও নতুন ভোটাররা সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন করতে পারেন যে কোনও সময়। সিইও, ডিইও এবং ইআরও-দের এই বিষয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন গোয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছে, যেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করার জন্য বিএলও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.