Vande Matram

জনগণমনর সমমর্যাদা পাবে বন্দে মাতরম? অবমাননায় শাস্তি! বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র

জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানানোই নিয়ম। এর অন্যথা হলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। সেই আইনি পদক্ষেপ বন্দে মারতমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হয় বৈঠকে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৬:৫৬

options
link
জনগণমনর সমমর্যাদা পাবে বন্দে মাতরম? অবমাননায় শাস্তি! বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র
ফাইল ছবি

জাতীয় সঙ্গীতের মতোই সমমর্যাদা পেতে চলেছে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Matram)! বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক এই গানকে সম্মান জানাতে এবার উঠে পড়ে লাগল মোদি সরকার। সম্প্রতি এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানাতে যেসব আইনি বিধান রয়েছে তা এই গানের ক্ষেত্রেও লাগু করা যায় কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

Advertisement

সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নেতৃত্বে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। অন্যান্য মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল জাতীয় সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যে সব নিয়ম ও নির্দেশিকা সংবিধানে রয়েছে তা বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও লাগু করা যায় কি না। বন্দেমাতরম গাওয়ার সময়, স্থান এবং পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা উচিত কিনা তা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি, জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানানোই নিয়ম। এর অন্যথা হলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। সেই আইনি পদক্ষেপ বন্দে মারতমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হয় বৈঠকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১৮৭৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম। ১৮৮২ সালে গানটি ব্যবহৃত হয় ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে এই গান গান স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। এরপর থেকে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে যায় গানটি। বর্তমানে এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির কেন্দ্রেও চলে এসেছে গানটি। সংসদে এই জাতীয় স্তোত্রকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি সরকার। অভিযোগ তোলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস অধিবেশনের সময় বন্দে মাতরমের কিছু শ্লোক বাদ দেওয়া হয়। যা পরবর্তীতে দেশভাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি বন্দে মাতরম নিয়ে বিজেপির এই সক্রিয়তার নেপথ্যে বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বাংলার আবেগ রবীন্দ্রনাথকে কিছুটা পিছনের সারিতে পাঠিয়ে বঙ্কিম আবেগ ও জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে হাতিয়ার করে মাঠে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

Advertisement

জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি দেশের সংবিধান বন্দে মাতরম গানকেও সমান মর্যাদা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে ঠিকই। তবে এটি পাঠ করা বা গাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনও শিষ্টাচার, আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান সময়ে দেশের নানা প্রান্তে জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের হলেও বন্দে মাতরম গানের অবমাননায় সেভাবে কোনও শাস্তির বিধান নেই। এবার সেই উদ্যোগই শুরু করল মোদি সরকার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন