CM Suvendu Adhikari

দিল্লিতে শাহী বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার! বাংলায় এবার মহারাষ্ট্র মডেল? জল্পনা তুঙ্গে

যে মডেলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরেছিল, সেই একই কৌশল কি এবার প্রয়োগ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে?

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৩, ২০২৬, ১৩:৫৭

options
link
দিল্লিতে শাহী বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার! বাংলায় এবার মহারাষ্ট্র মডেল? জল্পনা তুঙ্গে
দিল্লিতে শাহী বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার!

মঙ্গলবার রাতে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনার পারদ চরমে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এরই মধ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর রাজধানীতে একই সঙ্গে নয়াদিল্লি উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অঙ্ক। রাতে বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীনের বাড়িতে বৈঠকে ছিলেন শুভেন্দু ও স্পিকার। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও হাজির ছিলেন বলে কোনও কোনও সূত্র জানাচ্ছে। বেশি রাতে নীতিন নবীনের বাড়ি থেকে শুভেন্দুর কনভয় বেরতে দেখা গিয়েছে।

Advertisement

স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুও জানিয়েছেন যে, শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। নীতিন নবীনের বাড়ির বৈঠক থেকে বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরুর চর্চা তুঙ্গে ওঠে। যে মডেলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরেছিল, সেই একই কৌশল কি এবার প্রয়োগ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে? বিজেপি শীর্ষ সূত্রের খবর, বাংলার রাজনীতিতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় এমন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব কিছু ঠিক থাকলে আজ, বুধবারই মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে মডেলের উদাহরণ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর আকস্মিক দিল্লি সফর নিয়ে প্রথমে জল্পনা ছিল মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘিরে। কিন্তু সরকার গঠনের পর একেবারে শেষ মুহূর্তে দপ্তর বণ্টন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক দলের সংস্কৃতি নয়। বরং শুভেন্দুর দিল্লি সফরের নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনা। 

Advertisement

নীতিন নবীনের বাড়ির বৈঠক থেকে বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরুর চর্চা তুঙ্গে ওঠে। যে মডেলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরেছিল, সেই একই কৌশল কি এবার প্রয়োগ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে? বিজেপি শীর্ষ সূত্রের খবর, বাংলার রাজনীতিতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় এমন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

আবার এই ধরনের পরিস্থিতিতে যে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই উপযুক্ত দিক নির্দেশ ও প্রয়োজনীয় আলোচনা করতেই মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষ একসঙ্গে রাজধানীতে, এমন ব্যাখ্যাই উঠে এসেছে এদিন। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সরাসরি বিজেপিতে নিয়ে আসার পথ আইনি নানা কারণে জটিল। পাশাপাশি, যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ বিজেপিকে বিপুল জনসমর্থন দিয়েছে, সেই দলের নেতাদের দলে টানলে বিজেপির অস্বস্তি বাড়বে। রাজ্য বিজেপি-র এক প্রথম সারির নেতার কথায়, “বাংলার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই তৃণমূলের নেতাদের বিজেপিতে এনে পুরস্কৃত করা হলে জনতার কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।” তারই বিকল্প পথের নাম ‘মহারাষ্ট্র মডেল’! আর এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে যাঁর নাম সব চেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি অমিত শাহ। বিরোধী শিবিরের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে সাংগঠনিক-রাজনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা বহুবার প্রমাণিত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.