সংসদ অভিযানেই শেষ নয়, টানা ৬ দিন দিল্লিতে তাণ্ডব ‘ককরোচ’দের! প্রকাশ্যে দিল্লি পুলিশের রিপোর্ট
দিল্লি পুলিশের রিপোর্ট বলছে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ভিড়ে বেশ কিছু ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ এবং ‘রাজনৈতিক চক্রান্তকারী’ মিশে গিয়েছিল।
ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানে ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবীরা বলেন, আন্দোলনকারী মহিলাদের গোপনাঙ্গ লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। অনেকেরই পুলিশি ব্যাজ ছিল না। কিন্তু দিল্লি পুলিশের কর্মীদের পরিবার বলছে, বিষয়টি একতরফাভাবে দেখানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এবার প্রকাশ্যে এল দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট। সেখানেই উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীদের হিংসা টানা অন্তত ছ’দিন ধরে চলেছিল। দিল্লির রাজপথে দফায় দফায় অশান্তি, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া-সমস্ত কিছুই অব্যাহত থেকেছে। যদিও ঠাণ্ডা মাথায় সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে পুলিশ।
স্রেফ হিংসা নয়, আরও চাঞ্চল্যকর একটি বিষয় উঠে এসেছে প্রাথমিক রিপোর্টে। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে জমা হতে থাকেন পড়ুয়ারা। তখনও পর্যন্ত প্রতিবাদের অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড় বাড়তে থাকে। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে একাধিক নেতা সেখানে গিয়েছিলেন।
সেখান থেকেই পড়ুয়াদের আন্দোলনে সম্ভবত রাজনীতির ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। দিল্লি পুলিশের রিপোর্ট বলছে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ভিড়ে বেশ কিছু ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ এবং 'রাজনৈতিক চক্রান্তকারী' মিশে গিয়েছিল। এই নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের উসকানিতেই প্রতিবাদীদের বিরাট অংশ অশান্ত হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই ক্রমে হিংসার সূত্রপাত। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রতিবাদীদের অশান্তি থামেনি বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
এই অভিযানের পরদিন থেকে শুরু করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দিন পর্যন্ত প্রত্যেক দিন প্রতিবাদীরা অশান্তি চালিয়েছে। পাথর ছোড়া হয়েছে পুলিশকে লক্ষ্য করে। ব্যারিকেড ভাঙচুর, সরকারি বাস ভাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে প্রত্যেক দিন। সেটা হয়েছে মূলত কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীর কারণেই, মত দিল্লি পুলিশের। কিন্তু এই অশান্তির ঘটনাগুলি অত্যন্ত সতর্ক এবং অহিংসভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র বিক্ষোভে মোট ২৪৪ পুলিশকর্মী এবং ২০৯ আমজনতা জখম হয়েছেন। সেই সঙ্গে শতাধিক ব্যারিকেড নষ্ট হয়েছে। পুলিশের বহু জিনিসের খোঁজ মিলছে না। যাবতীয় হিংসাত্মক কার্যকলাপ ঘটেছে সংসদ ভবনের ২ কিলোমিটারের মধ্যে। দিল্লি পুলিশের মতে, টানা ৬দিনের হিংসার নেপথ্যে রয়েছে উসকানি দেওয়া কিছু গোষ্ঠী। তারা চেয়েছিল আন্দোলনকে লাগাতার উত্তপ্ত করতে। বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের চক্রান্তেই হিংসাত্মক হয়েছে পড়ুয়াদের আন্দোলন।