কেউ পদ্ম সম্মান, কেউ রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! অতীতে বহুবার ‘ভালো কাজের পুরস্কার’ পেয়েছেন নির্বাচন কমিশনাররা
২০২০ সালে নির্বাচন কমিশনার পদে অশোক লাভাসার ইস্তফার নজিরও রয়েছে।
ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিজেপির দিকে নিশানা করে বিরোধীদের বক্তব্য, গেরুয়া শিবির যে চুরি করেই ভোটে জিতছে, সেটা এবার প্রমাণিত হয়ে গেল। কমিশন অবশ্য অন্তর্কলহের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপিও এই বিতর্কে মুখ খুলেছে। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি যদি কোথাও হয়ে থাকে তাহলে সেটা হয়েছে কংগ্রেস আমলে। দুর্নীতির জন্মই কংগ্রেস থেকে হয়েছে। ১৯৫৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত একের পর এক উদাহরণ তুলে বিজেপি দাবি করে, কংগ্রেস আমলে বহু নির্বাচন কমিশনারকে আনুগত্যের উপহার দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সেই অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে ইতিহাসেও।
অতীতে দেখা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনাররা নিজেদের মেয়াদের পরে হয় সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। না হয় অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ পেয়েছেন। সরকারি সম্মান পাওয়ার নজিরও রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে প্রথমেই বলা যায় স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনের কথ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করায় জন্য তাঁকে পদ্মবিভূষণ দেওয়া হয়। পরে আরও পাঁচ নির্বাচন কমিশনার ওই পদ্মবিভূষণ সম্মান পান।
নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে কেভিকে সুন্দরম, নগেন্দ্র সিং, আর কে ত্রিবেদী, এমএস গিল, এন গোপালস্বামীরা পদ্ম সম্মান পান। এদের মধ্যে কে ভি কে সুন্দরমকে পরে তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আর কে ত্রিবেদীকে পরে গুজরাটের রাজ্যপাল করা হয়। আরেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভিএস রামাদেবীকে একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল মনোনীত করে কংগ্রেস সরকার।
আরও পড়ুন:
তবে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং প্রশংসিত হলেন টিএন সেশন। কমিশনার হিসাবে তাঁর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, প্রত্যেক ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র চালুর মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেন তিনি। আবার পরবর্তীকালে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে নির্বাচনও লড়েন। টিএন সেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনিও কমিশনের অন্দরে একনায়কতন্ত্র চালাতেন। নিজের সহকারী নির্বাচন কমিশনারদের ‘গাধা’ ও ‘বোকা’ বলেছিলেন। সে সময় রীতিমতো বিতর্কও হয়।
আর এক বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মনোহর সিং গিল। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনি ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ২০০৪ সালে তিনি সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেন। রাজ্যসভার সাংসদ হন। এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। চমকপ্রদ বিষয় হল ২০০০ সালে বাজপেয়ী আমলে এম এস গিলকে পদ্মবিভূষণ দেওয়া হয়। বাজপেয়ী আমলের আরেক নির্বাচন কমিশনার জে এম লিংডোও পরে রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান।
কংগ্রেস আমলের সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার সম্ভবত নবীন চাওলা। বিজেপির অভিযোগ, এই নবীন চাওলাকে সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশে নির্বাচন কমিশনার করা হয়। তিনি কাজও করতেন সোনিয়ার নির্দেশেই। এমনকী তাঁর আমলের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী তাঁর আচরণে এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলকে চিঠি লিখে নবীনকে সরানোর আর্জি জানান। পরে এই গোপালস্বামীকে সরিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হন নবীন চাওলা।
মোদি জমানায় নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার ইস্তফা কমিশনের আরও এক বিতর্কিত অধ্যায়। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ থেকে তাঁকে ছাড় দিয়ে দেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার। আপত্তি জানান লাভাসা। সরকারিভাবে ডিসেন্ট নোট দিয়েছিলেন তিনি। ঠিক এক বছর পর লাভাসা নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে চাকরিতে যোগ দেন।