Unnao

উন্নাও কাণ্ড: কুলদীপের জামিনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত দিল্লি, কংগ্রেস নেতা-সমাজকর্মীদের আটক পুলিশের

কুলদীপকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশও স্থগিত করেছে দিল্লি হাই কোর্ট।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ২১:৩৭

options
link
উন্নাও কাণ্ড: কুলদীপের জামিনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত দিল্লি, কংগ্রেস নেতা-সমাজকর্মীদের আটক পুলিশের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উন্নাও কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে মঙ্গলবার জামিন দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। তারপরই দেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থতিতে দিল্লিতে সংসদের কাছে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বহু কংগ্রেস নেতা এবং সমাজকর্মী। শনিবার তা ঘিরে উত্তপ্ত হল রাজধানী। বিক্ষোভকারীদের আটক করল পুলিশ। আটক করা হয়েছে সমাজকর্মী যোগিতা ভায়ানাকে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, সংসদের কাছে যেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছিল, তা নির্ধারিত স্থান নয়। বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা মানতে নারাজ ছিলেন আন্দোলনকারী। এরপরই তাঁদের আটক করা হয়। সমাজকর্মী যোগিতা বলেন, “এটা শুধু উন্নাও বলে নয়। পরিস্থিতি এখন সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছে। রোজ নতুন নতুন ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই এসবের সঙ্গে জড়িত।”

Advertisement

কুলদীপকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশও স্থগিত করেছে দিল্লি হাই কোর্ট। ব্যক্তিগত ১৫ লক্ষ টাকা বন্ডের বিনিময়ে বিচারপতি সুব্রমনিয়াম প্রসাদ ও হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন পেলেও এখনই জেলমুক্তি হচ্ছে না তার। কুলদীপের জামিন মঞ্জুর করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্ত দিল্লি ছেড়ে বাইরে যেতে পারবে না। নির্যাতিতার বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত নির্যাতিতা বা তাঁর পরিবারকে কোনও রকম হুমকি দিতে পারবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হাই কোর্টের নির্দেশ, বিচারাধীন আদালতে কুলদীপের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে প্রত্যেক সোমবার তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। কোনও শর্তের লঙ্ঘন হলে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের জামিন বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ জুনে গণ-ধর্ষিতা হন উন্নাওয়ের কিশোরী। মূল অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি বলে অভিযোগ ছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সেখানেই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। এই ঘটনার পর উলটে নির্যাতিতার বাবাকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। একই বছর ডিসেম্বর মাসে দোষী সাব্যস্ত হয় কুলদীপ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবং পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় কুলদীপকে। বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.