সুপ্রিম কোর্টের তরফে ডিএ নিয়ে তৈরি করা বিশেষ কমিটির সমস্ত সুপারিশ মানবে রাজ্য। ইতিমধ্য়েই প্রথম দফায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ ৬০০০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে শীর্ষ আদালতে জানাল রাজ্য। শীর্ষ আদালতে একথা জানিয়ে আরও কিছুটা সময় চাইল রাজ্য। তাতে সম্মতি দিল আদালত। ফলে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার (DA Case) শুনানি। সূত্রের খবর, পরবর্তী শুনানি ৬ মে অর্থাৎ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। সেখানে বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ সপ্তাহ সময়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ দেয়নি রাজ্য। বরং সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। আদালত স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মিটিয়ে দিতে হবে মে মাসের মধ্যে। তবে প্রথম কিস্তি দিতে হবে মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে। আদালত জানায়, তারপর যা বাকি থাকবে তার কতটা অংশ দেওয়া হবে, কতদিনের মধ্যে দিতে হবে, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি।
সুপ্রিম নির্দেশ মেনে ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-এর একটা অংশ মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য। তবে সরকার পোষিত সংস্থার কর্মীরা টাকা এখনও পাননি বলেই খবর। এরই মাঝে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল ডিএ মামলার শুনানি। সেখানেই রাজ্যের তরফে জানানো হয়, তাঁদের কাছে যে কর্মীদের তালিকা ও হিসেব ছিল তাঁদের বকেয়া টাকা ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই খাতে খরচ হয়েছে ৬০০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি কেন্দ্রের গঠন করা কমিটির সুপারিশ মেনেই রাজ্য কাজ করছে বলে জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। পাশাপাশি বলা হয়, কমিটি পরবর্তী রিপোর্ট পেশ করবে এপ্রিলের শেষভাগে। ততদিনের জন্য মুলতুবি করা হোক ডিএ মামলা। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে ফের পিছল শুনানি।
বকেয়া ডিএ বাবদ রাজ্যের দেওয়ার কথা মোট ৪২ হাজার কোটি টাকা। দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা। এপ্রসঙ্গে এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই রাজ্য ডিএ ও বেতন কমিশনে বিশ্বাস করে না। এরা সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে না। এরা সুপ্রিম নির্দেশ কার্যকর করতে চাইছে না। মুখ্যমন্ত্রী একাধিবার বলেছেন, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার হতে পারে না। আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন। আমাদের গৃহমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলেই সপ্তম পে কমিশন লাগু করবে। ৪ তারিখের পর বিজেপি সরকার এসে সরকারি কর্মীদের ডিএ ও বেতন কমিশনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মুম্বইয়ে স্কুলের বাসের উপর ভেঙে পড়ল গাছ, মৃত্যু এক পড়ুয়ার, হাসপাতালে গুরুতর আহত ৫
-
মিলল না রক্ষাকবচ, কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি, আরও বিপাকে অভিষেক!
-
সম্পর্কে ধোঁকা দেওয়া বড় ব্যাপার নয়! পরকীয়া ‘সমর্থন’ করে চরম বিতর্কে রাম কাপুর
-
ট্রেনের জানলায় বর্ষার জলছবি, বন্দে ভারতের আরামদায়ক সফরে ঘুরে দেখুন ভারতের এই ৭ রুট
-
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পালটা আইএস-আল কায়দা পতাকা! বিশ্বকাপের মাঝেই বাংলাদেশে জঙ্গি-প্রেম?