PM Modi

‘অহংকারেই পতন হবে তৃণমূলের’, রাষ্ট্রপতিকে ‘অপমান’ ইস্যুতে ফের সরব মোদি

"ওরা দেশের আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একজন আদিবাসী মহিলা, দেশের রাষ্ট্রপতির এই অপমান কোনওভাবেই ক্ষমা করবেন না।"

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২৬, ১৬:৫৫

options
link
‘অহংকারেই পতন হবে তৃণমূলের’, রাষ্ট্রপতিকে ‘অপমান’ ইস্যুতে ফের সরব মোদি
নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

তৃণমূলের তরফে তথ্য-সহ যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করা হলেও, বঙ্গ ভোটকে মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতির অপমান ইস্যু ফের খুঁচিয়ে তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার শিলিগুড়ির ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলকে ‘অহংকারী’, ‘ঘৃণ্য রাজনীতি’র জনক বলে তোপ দাগলেন তিনি। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই অহংকার তৃণমূলের পতন ঘটাবে।

Advertisement

রবিবার দিল্লিতে মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কড়া সুরে তৃণমূলকে আক্রমণ শানান দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে একটি প্রবাদ রয়েছে। বলা হয়, যে যতই শক্তিশালী হোক না কেন অহংকার তাঁর পতন ঘটাবেই। আমি দেশের রাজধানী থেকে সকলকে বার্তা দিচ্ছি, তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি ও ক্ষমতার অহংকার শীঘ্রই ভেঙে যাবে। ওরা দেশের আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একজন আদিবাসী মহিলা, দেশের রাষ্ট্রপতির এই অপমান কোনওভাবেই ক্ষমা করবেন না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু একটি সাঁওতাল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে তৃণমূল কংগ্রেস ওই অনুষ্ঠান বয়কট করে। রাষ্ট্রপতি নিজে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে এসেছেন এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি সর্বদা উদ্বিগ্ন। অথচ তৃণমূল সরকার এই অনুষ্ঠান অব্যবস্থাপনার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এটা শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, ভারতের সংবিধানেরও অপমান।”

Advertisement

আমি দেশের রাজধানী থেকে সকলকে বার্তা দিচ্ছি, তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি ও ক্ষমতার অহংকার শীঘ্রই ভেঙে যাবে। ওরা দেশের আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একজন আদিবাসী মহিলা, দেশের রাষ্ট্রপতির এই অপমান কোনও ভাবেই ক্ষমা করবেন না।

উল্লেখ্য, শনিবার শিলিগুড়িতে এক সাঁওতাল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী না গেলেও রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে যান শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতিকে বলতে শোনা যায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোটবোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” এই বক্তব্যের পরেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক আক্রমণ প্রতি আক্রমণ। এই ঘটনা নিয়ে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি।

এই ঘটনায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিলে মুখ খোলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পা রাখার পর প্রোটোকল মেনেই সেখানে যান শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। প্রথা মেনেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্বাগত জানানো বা মঞ্চে থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। জেলা প্রশাসন সেখানে উপস্থিত থাকায় প্রোটোকল ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না।’ এরপরই সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বিজেপি নিজেদের দলীয় স্বার্থে দেশের সর্বোচ্চ পদকে অসম্মান ও অপব্যবহার করছে। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ তবে এরপরও প্রধানমন্ত্রীর এহেন বয়ানের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে বিরোধী শিবির।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.