Supreme Court

SIR-এ নাম বাদ পড়া মানে নাগরিকত্ব হারানো নয়, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এই কথা জানিয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৮:০১

options
link
SIR-এ নাম বাদ পড়া মানে নাগরিকত্ব হারানো নয়, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
ফাইল ছবি।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া মানে নাগরিকত্ব হারানো নয়। শুক্রবার জনৈক প্রসেনজিৎ বসুর দায়ের করা মামলায় মৌখিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এ কথা জানিয়েছে। বিচারপতি বাগচী বিহার এসআইআর মামলার রায় উল্লেখ করে জানান, নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে না। বরং সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে, তার নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ থাকার পর নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের জন্য তৈরি হয়েছে আপিল ট্রাইব্যুনাল। সেখানে প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের কাজ খুব ধীর গতিতে হচ্ছে। মাত্র ৩৮ হাজার আবেদনের শুনানি হয়েছে। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ আবেদনকারীর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় আরও গতি আনতে ও সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই শুনানিতে এমনটাই মৌখিক পর্যবেক্ষণ আদালতের।

Advertisement

মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ জানান, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে দুই প্রাক্তন বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। এ দিকে আবেদনগুলি বিচারাধীন অবস্থাতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের যুক্ত হতে পারবে না। (তবে ট্রাইব্যুনালে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।) গোপাল শংকরনারায়ণ আদালতে আরও দাবি করেন, নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের জাতিগত শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে না।

Advertisement

এরপরই বিচারপতি বাগচী জানান, আদালত বিহার এসআইআরের রায়ে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা নয়। তিনি বলেন, “কোনও নাম বাদ গেলে তা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে নিষ্পত্তির জন্য তা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রায় স্পষ্ট। সংবিধানের ৯, ১০, ১১ ও ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকত্বের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। নাগরিক তালিকার উপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ভোটার তালিকায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এর ফলে কারও নাগরিকত্বের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যায় না।”

আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতের কাছে আপিল করেন, কারও কাছে যদি পাসপোর্ট থাকে তা হলে ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। সওয়াল-জবাবের পর এই মামলাটিকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে করা অন্য মামলাগুলির সঙ্গে তালিকাভুক্ত করেছেন বিচারপতিরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.