Harish Rana

দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যু, ১৩ বছরের যন্ত্রণাশেষে চিরঘুমের দেশে হরিশ রানা

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিলেন হরিশ। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। এরপরই তিনি কোমাতে চলে যান।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২৬, ২০:২৩

options
link
দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যু, ১৩ বছরের যন্ত্রণাশেষে চিরঘুমের দেশে হরিশ রানা
অর্থিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়েও আইনি লড়াই চালান হরিশের বাবা অশোক রানা।

জীবন্মৃত হয়ে কাটিয়েছিলেন জীবনের ১৩টি বছর। কয়েকদিন আগেই মঞ্জুর হয় তাঁর নিষ্কৃতিমৃত্যুর আর্জি। অবশেষে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন হরিশ রানা (Harish Rana)। বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে হরিশের বাবা অশোক রানা জানিয়েছেন, ”কোনও বাবা কি ছেলের এমন পরিণতি চায়?”

Advertisement

এদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ভগ্নহৃদয় হরিশের বাবাকে বলতে শোনা যায়, ”আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটার জন্য লড়াই করেছি। কোন মা-বাবা ছেলের জন্য এমনটা চাইতে পারে? এই মামলা আমরা লড়ে চলেছি গত তিন বছর ধরে। ওকে এইমসে নিয়ে যাওয়া হবে। আমার ছেলে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিল।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

উল্লেখ্য, হরিশ রানা পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছিলেন টপার। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। এরপরই তিনি কোমাতে চলে যান। চিকিৎসকদের সমস্ত রিপোর্ট বিস্তারিত পরীক্ষা করার পর সম্প্রতি আদালত হরিশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলে তাঁকে নিষ্কৃতি মৃত্যু দেওয়ার অনুমতি দেয়। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, হরিশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তার পরে ওই যুবকের অভিভাবকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেই ঐতিহাসিক রায় দেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ।

Advertisement

বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘দীর্ঘ ১৩ বছর তাঁরা পুত্রের পাশ থেকে সরেননি। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি- দুই মেডিক্যাল বোর্ডই জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম খাবার ও সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করাই এখন হরিশের জন্য মঙ্গলের।’’ একথা জানানো সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা। চোখ জলে ভরে ওঠে বিচারপতির।  

প্রসঙ্গত, ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ইউ’ এবং ‘থানাতোস’ থেকে এসেছে। ‘ইউ’ শব্দটির অর্থ সহজ এবং ‘থানাতোস’ কথাটির মানে মৃত্যু। অর্থাৎ ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটির মানে দাঁড়াচ্ছে ‘সহজ মৃত্যু’। নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডে ইউথেনশিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কেবল মৃত্যুযন্ত্রণায় কষ্ট পাওয়া মানুষই নয়, যাঁরা কোমায় রয়েছেন বছরের পর বছর ধরে, তাঁদেরও মৃত্যুর জন্য আবেদন করেন তাঁদের স্বজনরা। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন