BJP

বিজেপিতে প্রথমবার ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’ নামে নয়া পদ, দায়িত্বে কে?

দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্রুত বিস্তার ও ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক কাঠামোর ফলে বহু প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল। সেই কারণেই এমন একটি পদ গঠন করা হয়েছে, যার মূল কাজ হবে দলের পুরনো কর্মী, প্রাক্তন পদাধিকারী ও দীর্ঘদিনের সংগঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সংগঠনের কাজে কাজে লাগানো।

নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ২৩:৪৫

options
link
বিজেপিতে প্রথমবার ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’ নামে নয়া পদ, দায়িত্বে কে?
প্রতীকী ছবি।

দিল্লিতে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের মাঝেই বড় দায়িত্ব পেলেন নাগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সোমবারই তাঁকে দলের নতুন ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক (বিশিষ্ট কর্মী সংযোগ)’ পদে নিয়োগ করেছেন। দলের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর সদর দফতর হবে দিল্লিতে।

Advertisement

বিজেপির ইতিহাসে প্রথমবার ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’ নামে পৃথক একটি পদ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, দল যত বড় হচ্ছে, ততই অভিজ্ঞ কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি হয়ে উঠছে। সেই প্রয়োজন থেকেই প্রথমবারের মতো এই বিশেষ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আগে ত্রিপাঠীর এই নিয়োগ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় কৌশলগত পদক্ষেপ। প্রবীণ কর্মীদের অভিজ্ঞতা এবং নতুন নেতৃত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়াই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের উত্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং প্রবীণ কর্মীদের গুরুত্বের বার্তা দিতেই বিজেপির এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement

দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্রুত বিস্তার ও ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক কাঠামোর ফলে বহু প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল। সেই কারণেই এমন একটি পদ গঠন করা হয়েছে, যার মূল কাজ হবে দলের পুরনো কর্মী, প্রাক্তন পদাধিকারী ও দীর্ঘদিনের সংগঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সংগঠনের কাজে কাজে লাগানো। এই নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত ত্রিপাঠী প্রবীণ কর্মীদের মতামত সংগ্রহ, সাংগঠনিক পরামর্শ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন রাজ্যে দলের পুরনো কর্মীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত রাখার কাজ করবেন বলেই জানা গিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজের জন্য পরিচিত ত্রিপাঠী বর্তমানে বিজেপির বিহার-ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এর আগে প্রায় আট বছর উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সংগঠন মহাসচিব ছিলেন। আরএসএসের প্রচারক হিসেবেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরের বেলাউলি গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম ত্রিপাঠীর। ছাত্রজীবন থেকেই আরএসএস ও এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনের ভিত মজবুত করা, পুরনো কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণে তাঁর দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েই এই পদোন্নতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.