সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ১১৪টি সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটার জেট তৈরির দু’বছরের পুরনো প্রকল্পটি বাতিল করল কেন্দ্র। ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফালে জেট কেনা নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা খরচসাপেক্ষ প্রকল্পটি আপাতত বাতিল করল কেন্দ্র।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, বায়ুসেনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নয়া প্রকল্প জমা দিতে। শুধু সিঙ্গল নয়, বরং এবার আরও শক্তিশালী টুইন ইঞ্জিন ফাইটার জেট কেনা ও তৈরির প্রকল্প রয়েছে কেন্দ্রের। কারণ, চিন ও পাকিস্তান হামলা চালালে তাদের রুখে দিতে পর্যাপ্ত যুদ্ধবিমানের এখনও অভাব রয়েছে বায়ুসেনায়। বর্তমানে বায়ুসেনার হাতে রয়েছে মাত্র ৩১টি ফাইটার স্কোয়াড্রন। পুরনো মিগ-২১ ও মিগ-২৭-এর ১০টি স্কোয়াড্রন অবসর নিলে ২০২৭-এর মধ্যে ওই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১৯। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস হাতে পেতে দেরি হতে থাকলে ২০৩২-এ সংখ্যাটা আরও কমে ১৬-তে গিয়ে ঠেকবে। এক একটি স্কোয়াড্রনে রয়েছে ১৮টি করে জেট। অথচ, দুশমনকে রুখে দিতে অবিলম্বে অন্তত ৪২টি স্কোয়াড্রনের প্রয়োজন বায়ুসেনায়।
[সেক্স চ্যাটের লোভে পাকিস্তানে তথ্য পাচার করে ধৃত বায়ুসেনার ক্যাপ্টেন]
মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মূল প্রকল্পটিতে সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটার জেটের উপরে অধিক মনোনিবেশ করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে মাত্র দুটি যুদ্ধবিমানই এর আওতায় আসছিল। একটি আমেরিকায় নির্মিত এফ-১৬ ও অপরটি সুইডেনে নির্মিত গ্রিপেন ই। কিন্তু বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনার মুখে এবার সিঙ্গল ইঞ্জিন যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্পটি বাতিল করে আরও বৃহত্তর প্রকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতে কিন্তু ওই পুরনো চুক্তি মোতাবেক কাজে বেশ এগিয়ে গিয়েছিল। একদিকে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন এদেশের টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। অন্যদিকে, সুইডেনের সংস্থা সাব এ দেশের আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রয়োজনমতো যুদ্ধবিমান তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরুও করে দিয়েছিল।
কিন্তু এবার সেই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বায়ুসেনার হাতে প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিমান উঠতে আরও খানিকটা দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিকর সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটার জেটগুলির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, কারণ সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম। আর ভারতের খুব দ্রুতই নয়া যুদ্ধবিমানের দরকার। চিন ও পাকিস্তান দ্রুতগতিতে তাদের বায়ুশক্তি বাড়াচ্ছে। ‘লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে’ তৎপরতা বাড়াচ্ছে চিন। বেজিংয়ের আগ্রাসন থেকে ভারতের সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার হাতে যত দ্রুত সম্ভব নয়া যুদ্ধবিমানগুলি তুলে দিতে চাইছিলেন পরিকর। কিন্তু বাস্তব হল, ওই যুদ্ধবিমানগুলির দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধে টিকে থাকা ক্ষমতা টুইন ইঞ্জিনের চেয়ে কম। তাই দীর্ঘমেয়াদী লাভের কথা মাথায় রেখে ভারত এবার আরও আধুনিক ও শক্তিশালী জেট কেনা বা তৈরির পক্ষে।
[‘চিনা এয়ারফোর্সকে কড়া জবাব দিতে সক্ষম ভারতীয় বায়ুসেনা’]
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না