Gujarat

ফেসবুকে বন্ধুত্বের প্রস্তাবে সাড়া, ‘মক্ষীরানি’র ফাঁদে সাড়ে ৬ লাখ খোয়ালেন কৃষক

গোটা ঘটনার সূত্রপাত একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের পর থেকে। রাজকোটের ওই কৃষক বন্ধুত্বের অনুরোধে সাড়া দিলে, ওই মহিলা নিজেকে একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে পরিচয় দেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১৯:৩৩

options
link
ফেসবুকে বন্ধুত্বের প্রস্তাবে সাড়া, ‘মক্ষীরানি’র ফাঁদে সাড়ে ৬ লাখ খোয়ালেন কৃষক
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

ফেসবুকে কৃষককে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠিয়েছিলেন মহিলা। বন্ধুত্বের সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার জোগাড় হলেন এক গরিব কৃষক। নানা অছিলায় কৃষকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হল ৬.৩১ লক্ষ টাকা। এই ঘটনা ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ‘মক্ষীরানি’ মূল অভিযুক্ত মহিলা-সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তরা সকলেই আফ্রিকার নাগরিক বলে জানা যাচ্ছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার সূত্রপাত একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের পর থেকে। রাজকোটের ওই কৃষক বন্ধুত্বের অনুরোধে সাড়া দিলে, ওই মহিলা নিজেকে একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ওই মহিলা বলেন, তিনি জার্মানি থেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে একটি পার্সেল পাঠাতে চান। বলা হয়, ওই পার্সেলে ৩০,০০০ ইউরো নগদ, একটি সোনার চেন, একটি ল্যাপটপ, একটি ঘড়ি এবং আইফোন-সহ মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে। সেই ঘটনার পর এক ব্যক্তি দিল্লি বিমানবন্দরের কাস্টমস অফিসার সেজে ওই কৃষককে ফোন করেন। বলা হয় পার্সেলটি ছাড়ানোর জন্য কাস্টমস ডিউটি-সহ বেশকিছু চার্জ দিতে হবে।

Advertisement

নিজের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে ৬.৩১ লক্ষ টাকা পাঠান ওই কৃষক। তবে টাকা পাঠানো হলেও দাবিমতো পার্সেল এসে পৌঁছয়নি।

সেইমতো বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং প্রসেসিং ফি-সহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। সেই মতো নিজের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে ৬.৩১ লক্ষ টাকা পাঠান ওই কৃষক। তবে টাকা পাঠানো হলেও দাবিমতো পার্সেল এসে পৌঁছয়নি। এসবের মাঝেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনে আরও টাকা দাবি করলে কৃষক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই রাজকোটে সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক।

Advertisement

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাংক লেনদেন, আইপি লগ-সহ ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীদের খোঁজে নামে। এরপর উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় এই গোটা চক্রের হদিশ পায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় ৩ জনকে। অভিযুক্তরা হলেন ঘানার বাসিন্দা জোসেফিন ওরফে অ্যাঞ্জেল। এবং তাঁর দুই সহযোগী তানজানিয়ার মগেনজেলি ইমানি ডেনিস ও দক্ষিণ সুদানের ফিলিপ বাতিস্তা জোসেফ ভ্যালেন্টাইন। জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তদের দু’জন ছাত্র হিসেবে ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন, অন্যজন স্বল্পমেয়াদী ভিসায় ভারতে ঢোকে। এদের প্রত্যেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.