Vinod Tawde

জয়ের হ্যাটট্রিকের নায়ক, উত্তরপ্রদেশ জিততে বিজেপির ভরসা ‘নীরব চাণক্য’

গত কয়েক মাস উত্তরপ্রদেশেই পড়ে রয়েছেন। দলের রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছেন বিজেপির সফল ভোট কুশলী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১৯:২২

options
link
জয়ের হ্যাটট্রিকের নায়ক, উত্তরপ্রদেশ জিততে বিজেপির ভরসা ‘নীরব চাণক্য’
বিনোদ তাওড়ে। ফাইল ছবি।

কঠিন সময়ে জয়ের হ্যাটট্রিক। বিহারের মতো জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের রাজ্যে প্রথমবারের জন্য বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বসানোর নেপথ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল যাঁর মস্তিষ্ক, তাঁর নাম বিনোদ তাওড়ে (Vinod Tawde)। ২০২৭ সালের ‘ডু অর ডাই’ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে সেই বিনোদ তাওড়েই ভরসা বিজেপির। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পর্যবেক্ষক করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়েকে। সহকারী পর্যবেক্ষক করা হয়েছে নব নিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেলকে।

Advertisement

নীতীন নবীন সদ্য নিজের নতুন টিম ঘোষণা করেছেন। সেই টিমে ১৬ জন সাধারণ সম্পাদকের ১৫ জনকেই বদলে দেওয়া হয়েছে। নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন শুধু বিনোদ তাওড়ে। রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসলে বিজেপির পদাধিকারী হিসাবে তাওড়ের নামের পাশে শুধুই সাফল্য লেখা রয়েছে। ব্যর্থতার নজির কার্যত নেই। রীতিমতো কঠিন পিচে ব্যাট করেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মারাঠা রণকৌশলী।

Advertisement

নীরব স্ট্র্যাটেজিস্টকে এবার উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিলেন নীতীন নবীন। ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন যে বিজেপির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সদ্য যে পড়ুয়া বিক্ষোভ হয়েছে, তার আগে রাম মন্দিরে চুরি হয়েছে, উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এগুলি কিছুটা হলেও চাপ বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের উপর। কিন্তু বিজেপি জানে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে যদি কেউ দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেন, তিনি বিনোদ তাওড়ে।

সালটা ২০১৯। দলের মূলস্রোত থেকে আচমকা সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ২০১৪ থেকে মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলানো বিনোদ তাওড়ে-কে বিধায়ক পদের টিকিটও দেননি মহারাষ্ট্রের তৎকালীন রাজ্য নেতারা। সম্ভবত তাওড়ের উত্থানকে কেউ কেউ নিজেদের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করেছিলেন। সেসময় ক্ষুরধার মস্তিষ্কের মারাঠা নেতা নিরাশ হয়েছিলেন। কিন্তু হতাশ হননি। কিছুদিন পরই দ্বিতীয় সুযোগ। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডা পছন্দ করতেন তাওড়েকে। তিনি দিল্লিতে কাজ করার সুযোগ দেন। প্রথম দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০২২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন শরিকদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের। সফল হন তাওড়ে। এনডিএর জোট শরিকরা তো বটেই, বাইরের একাধিক দলও ভোট দেয় এনডিএ-কে। একই ভাবে ২০২৫ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তিনি দায়িত্ব পান। আবারও সফল।

Advertisement
The BJP is counting on Vinod Tawde for the 2027 Uttar Pradesh election
ফাইল ছবি।

অবশ্য তার আগেই ২০২২ সাল থেকে তিনি বিহারের দায়িত্বে। মগধ রাজ্যে ২০২৫ সালে বিজেপি যে অনবদ্য সাফল্য পায় সেটার নেপথ্যে এই তাওড়ের মস্তিষ্কই। প্রথমত বিহারে এর আগে কোনওদিন নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী বসাতে পারেনি। তাছাড়া বিহারে জাতপাতের সমীকরণ বজায় রেখে সব নেতার মধ্যে সমন্বয় সাধন বেশ কঠিন কাজ ছিল। তার চেয়েও কঠিন কাজ ছিল জোটশরিকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। জেডিইউ, চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি, আরএলএসপির, হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চার মতো দলের সবাইকে খুশি রেখেও বিজেপির স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা, তৃণমূল স্তরে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে কৌশল বানানো, সবটাই আড়ালে থেকে নীরবে করে গিয়েছেন তাওড়ে। সেকারণেই অনেকে তাঁকে দলের নীরব চাণক্য বলেন।

সেই নীরব স্ট্র্যাটেজিস্টকে এবার উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিলেন নীতীন নবীন। ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন যে বিজেপির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সদ্য যে পড়ুয়া বিক্ষোভ হয়েছে, তার আগে রাম মন্দিরে চুরি হয়েছে, উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এগুলি কিছুটা হলেও চাপ বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের উপর। কিন্তু বিজেপি জানে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে যদি কেউ দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেন, তিনি বিনোদ তাওড়ে। বিহারের লড়াইও কঠিন ছিল, তিনি পেরেছেন। আর উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের লড়াইটা অনেকটা একই রকমের। সেখানেও জাতপাতের জটিল সমীকরণ রয়েছে, রয়েছে ছোট ছোট দলের সঙ্গে জোট। যে কাজটা বিহারে তিনি করেছেন, সেটা আরও নৈপুণ্যের সঙ্গে করতে হবে যোগীরাজ্যে। ইতিমধ্যেই তাওড়ে কাজ শুরু করেছেন। গত কয়েক মাস উত্তরপ্রদেশেই পড়ে রয়েছেন। দলের রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছেন। দলের বিভিন্ন পদাধিকারী নিয়োগও তিনিই শেষ কথা বলছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.