India

বহু সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর বর্তমান চেহারা পায় জাতীয় পতাকা, জানেন সেই ইতিহাস?

মোট ১৭ বার পরিবর্তনের পর বর্তমান রূপ পেয়েছে আমাদের জাতীয় পতাকা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৫, ১৯:০৯

options
link
বহু সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর বর্তমান চেহারা পায় জাতীয় পতাকা, জানেন সেই ইতিহাস?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আর আট দিন পরই স্বাধীনতা দিবস। ভারতীয়দের কাছে গর্বের একটি দিন। ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশদের পাশবিক অত্যাচার এবং লাঞ্ছনার শিকল থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশ। এসেছিল স্বাধীনতা। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকা স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও গর্বের প্রতীক। কিন্তু আজকে আমরা দেশের জাতীয় পতাকার যে চেহারা দেখি, তা একদিনে আসেনি। এর নেপথ্যে রয়েছে বহু বছরের সংগ্রাম ও পরিবর্তনের ইতিহাস। মোট ১৭ বার পরিবর্তনের পর বর্তমান রূপ পেয়েছে আমাদের জাতীয় পতাকা। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই কাহিনি।

Advertisement

ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যাবে ভারতের জাতীয় পতাকার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮৩ সালে। লাল রঙের দীপ্তিময় সূর্যখচিত একটি সাদা বর্গাকার পতাকা – ছিল জাতীয় মর্যাদার সেই প্রথম প্রতীক। এর কারিগর ছিলেন লাহোর নিবাসী শিরীষচন্দ্র বসু। এর দু’দশক পর অর্থাৎ ১৯০৫ সাল। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদী আন্দোলনের আগুনে জ্বলে ওঠে কলকাতার আকাশ বাতাস। ওই বছর ৭ আগস্ট অনুশীলন সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পার্সি বাগান স্কোয়ারে। একই দিনে, ধর্মতলায় গভর্নর হাউসের সামনে স্বদেশীরা গোপনে একই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এই ত্রিবর্ণ পতাকার উপরে ছিল লাল, মাঝে হলুদ, নিচে সবুজ। লাল অংশে আঁকা ছিল আটটি কুসুম, হলুদের উপর খচিত ছিল “বন্দে মাতরম”, আর সবুজে ছিল সূর্য ও অর্ধচন্দ্র। ব্রিটিশ শাসনে আটটি প্রদেশকে চিহ্নিত করতে কখনও প্রস্ফুটিত পদ্ম, কখনও অষ্ট কুসুমকে পতাকার উপরে স্থান দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৯০৭, ১৯১৭ এবং ১৯২১ সালেও বদল হয়েছিল জাতীয় পতাকার নকশা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হল ১৯২২ সালের বিজয়ওয়াড়া কংগ্রেস সম্মেলন। মহাত্মা গান্ধীর উপস্থিতিতে সেই সভায় স্বাধীনতা সংগ্রামী পিঙ্গোলি ভেঙ্কাইয়া উপস্থাপন করেন একটি প্রস্তাবিত পতাকা, যার উপরে ছিল লাল, নিচে সবুজ, এবং মাঝখানে চরকার প্রতীক। পরবর্তীকালে ১৯২৩ সালে পতাকার রঙের বিন্যাসে পরিবর্তন করা হয়। যুক্ত করা হয় সাদা রং। যার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় ভারতীয় সমাজের সর্বধর্ম সমন্বয়ের চেতনা।

Advertisement

১৯৩১ সালের ৬ আগস্ট পতাকার রং এবং বিন্যাসের ফের পরিবর্তন হয়। উপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা এবং নিচে সবুজ। মাঝখানে স্থান পায় চরকা। যার অর্থ আত্মনির্ভরতা। স্বাধীনতা লাভের ঠিক আগে, ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই, ভারতের জাতীয় পতাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে চরকার পরিবর্তে আনা হয় অশোকচক্র। সারনাথের সিংহস্তম্ভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে  নীল রঙের এই চক্রটি আঁকা হয়। তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অনুমোদনের পর চূড়ান্তভাবে এটি গৃহীত হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন