R-37M Killer Missile

অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান, শত্রুর সেই ‘চোখ’ অন্ধ করতে ভারতের হাতে নয়া ক্ষেপণাস্ত্র

এই ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনও যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম। 'আর-৩৭এম' ক্ষেপণাস্ত্র কোনও ডগফাইটের জন্য। এর মূল কাজ হল, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলি ধ্বংস করে শত্রুকে অন্ধ করে দেওয়া।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১৭:৫৭

options
link
অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান, শত্রুর সেই ‘চোখ’ অন্ধ করতে ভারতের হাতে নয়া ক্ষেপণাস্ত্র
প্রতীকী ছবি।

ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই যুদ্ধবিমান হয়ে উঠছে আরও শক্তিশালী। চিন-পাকিস্তানকে নজরে রেখে এই যুদ্ধবিমানের জন্য রাশিয়ার থেকে ৩০০টি ‘আর-৩৭এম আওয়াক্স কিলার’ ক্ষেপণাস্ত্র (R-37M Killer Missile) কিনতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক মাসেই সুখোই বহরে যুক্ত হতে চলেছে এই অস্ত্র। উল্লেখ্য, ন্যাটোয় এই ক্ষেপণাস্ত্রের কোডনেম ‘এএ-১৩ এক্সহেড’।

Advertisement

জানা যাচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনও যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম। ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্র কোনও ডগফাইটের জন্য। এর মূল কাজ হল, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলি ধ্বংস করে শত্রুকে অন্ধ করে দেওয়া। এর নিশানায় থাকে মূলত আওয়াক্স (AWACS)। এটি বিরাট আকারের বিমান, যার মাথার ওপরে থাকে বিশাল রাডার। সাধারণ ফাইটার জেটের রাডার ১০০-১৫০ কিমি দেখতে পায়, কিন্তু আওয়াক্স আকাশ থেকে ৪০০-৫০০ কিমি দূর পর্যন্ত সবকিছু দেখতে পায়। যাকে ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধবিমানগুলি কার্যত অন্ধ। আর এই আওয়াক্স-কে ধ্বংস করতে বিশেষভাবে দক্ষ ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি শত্রুর রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানকে ধ্বংস করে এই ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে বিকলাঙ্গ করার কাজে ব্যবহৃত হয় ‘আর-৩৭এম’।

Advertisement

‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ৫৬১ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র ৬০ কেজির ওয়ারহেডের বহনে সক্ষম।

তথ্য বলছে, ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ৫৬১ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র ৬০ কেজির ওয়ারহেডের বহনে সক্ষম। ৪.০৬ মিটার লম্বা এই মিসাইল প্রথমে ইনার্শিয়াল নেভিগেশনে উড়ে যায়, মাঝপথে যুদ্ধবিমান থেকে আপডেট নেয় এবং শেষ মুহূর্তে নিজের রাডার দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। অর্থাৎ মিসাইল ছোড়ার পর নিক্ষেপকারীকে আর লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শত্রুর বুক ফুঁড়ে দেয় ক্ষেপণাস্ত্র। উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন চিনের সাহায্যে এই ধরনের রাডার বিমান ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তাতে অবশ্য ভারতের মার থেকে রক্ষা পায়নি তারা।

Advertisement

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। কারণ, চিন এবং পাকিস্তানের হাতে ইতিমধ্যেই এসেছে পিএল-১৫ এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের নিজস্ব ‘অস্ত্র এমকে-২’ (Astra Mk-2) এবং এমকে-৩ এখনও পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণেই ‘আর-৩৭এম’ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে ভারতীয় সেনার। জানা যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গিয়েছে রাশিয়ায়। যার জেরে ইউক্রেনের যুদ্ধবিমানগুলিকে সীমান্তের অনেক দূর থেকে এবং নিচু থেকে উড়তে হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.