কাতারে জ্বালানি গ্যাসের প্লান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন কর্মী, তাঁদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার শোকপ্রকাশ করল নয়াদিল্লি। এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জওসওয়াল বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। নিহতদের দেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে এবং আহতদের চিকিৎসায় সাহায্যে দূতবাসের মাধ্যমে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে মন্ত্রক।
MEA has confirmed the deaths of 12 Indian nationals in the explosion at Qatar’s Rass Laffan gas field.
MEA spokesperson Randhir Jaiswal said India is in touch with Qatari authorities to identify the victims and facilitate the repatriation of the mortal remains.
Follow the… pic.twitter.com/fEsiQ9yii8
— PB-SHABD (@PBSHABD) June 23, 2026
রবিবার গভীর রাতে কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কেন্দ্র ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’-র বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের, তার মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়। আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের বোমাবর্ষণের পর প্ল্যান্টটি যখন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে রণধীর জওসওয়াল বলেন, “রাস লাফানে ঘটা বিস্ফোরণে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় অন্যান্য দেশেরও বেশ কয়েকজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আমরাও ১২ জন নাগরিককে হারিয়েছি। আমাকে জানানো হয়েছে যে বিভিন্ন দেশের মোট ৬৬ জন মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন ভারতীয় নাগরিক তা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে আহত সকলেই নিরাপদ আছেন।”
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতদের শনাক্তকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ভারতীয়দের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার শোকপ্রকাশ করেছে দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দূতাবাস লিখেছে, কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে দূতাবাস লিখেছে, ‘গত রাতে রাস লাফান শিল্পনগরীতে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ পাশাপাশি আর একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারকে সম্ভাব্য সব রকম সাহায্যের জন্য কাতার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের দেহ যাতে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার জন্য যথাসম্ভব পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এদিকে কাতার প্রশাসনের তরফে জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে রাস লাফান থেকে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে মধ্য দোহা কেঁপে উঠেছিল। বিস্ফোরণের জেরে জানালা কেঁপে ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে কোনও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়নি। এটি নিছকই দুর্ঘটনা ছিল। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে প্ল্যান্টের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল, মাত্র দুই দিন আগে তা আবার চালু করা হয়। এরপরই এই ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ খবর
-
‘মাতৃভূমি’-তে সলমনের মায়ের ভূমিকায় দিয়া মির্জা! জল্পনা জিইয়ে আর কী বললেন ফারহা খান?
-
রাজ্যে শূন্য কাটানোর পুরস্কার, ডোমকলের রানাকে রাজ্য কমিটিতে নিল সিপিএম
-
মায়ানমারে ছ’মাসে ৭০০ সাধারণ নাগরিককে খুন জুন্টাসেনার! প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
-
রেলের জমি দখল করে বাস! টিকিয়াপাড়ায় চলল বুলডোজার, গৃহহীন ১২০ পরিবার
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে দায়ের পুলিশি অভিযোগ